Advertisement
E-Paper

কর ফাঁকি দিতে রাজ্যে ঢুকছে বাইরের গাড়ি

পরিবহণ কর্তাদের বক্তব্য, এক দিকে অপরাধ বাড়ছে। অন্য দিকে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তাই এ বার থেকে ভিন্ রাজ্যের গাড়ির উপরে কড়া নজর রাখা হবে। এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে দফতর।

অত্রি মিত্র

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৫৭
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

প্রতিদিন ভিন্‌ রাজ্য থেকে এখানে গাড়ি ঢুকছে, থাকছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ, এ রাজ্যে কোনও কর দিচ্ছে না। এমনকী, ওই সব গাড়িতে চড়ে কোনও সংগঠিত অপরাধ করা হলে ব্যবস্থাও নিতে পারছে না রাজ্যের পরিবহণ দফতর। এমন ঘটনা বেশি ঘটছে মোটরবাইকের ক্ষেত্রে।

পরিবহণ কর্তাদের বক্তব্য, এক দিকে অপরাধ বাড়ছে। অন্য দিকে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তাই এ বার থেকে ভিন্ রাজ্যের গাড়ির উপরে কড়া নজর রাখা হবে। এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে দফতর। পরিবহণ দফতরের এক কর্তা জানান, অন্য রাজ্যে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করিয়ে এ রাজ্যে চালানোর প্রবণতা বেড়েছে ২০১২ সালের পর থেকে। কারণ, ওই বছর রাজ্যে গাড়ির কর-কাঠামোয় পরিবর্তন হয়েছিল। তার জেরে পড়শি কয়েকটি রাজ্যের থেকে পশ্চিমবঙ্গে গাড়ির কর কিছুটা হলেও বেশি হয়। ফলে করের সুবিধা নিতে অনেক গাড়ি অন্য রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে এখানেই ডেরা বাঁধে।

ওই কর্তার কথায়, ‘‘বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে এ ধরনের কড়াকড়ি শুরু হয়েছে আগেই। দু’বছর আগে ভিন্‌ রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে বেশ কিছু গাড়ি এখানে ওলা-উবেরে চালানো হচ্ছিল। সে সব গাড়ি ধরার পরে ওই প্রবণতা কমেছে।’’ ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ওই প্রবণতা এখনও যথেষ্ট বলেই দাবি রাজ্য পরিবহণের শীর্ষ কর্তাদের। বিশেষত, রাজ্যের বাইরে পড়তে বা চাকরি করতে যাওয়া যুবক-যুবতীরা অনেক সময় এ রাজ্যে বদলি হয়ে আসেন নিজস্ব গাড়ি চালিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, এ রাজ্যে আসার এক মাসের মধ্যে ঠিকানা বদলের জন্য পরিবহণ দফতরে আবেদন করতে হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা করেন না সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকেরা।

এ সব তথ্য জানার পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার পরেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে দফতর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যে প্রবেশ করার যে সমস্ত চেক-পোস্ট রয়েছে, সেখানে ব্যক্তিগত গাড়িও পরীক্ষা করা হবে। কী কারণে ও কত দিনের জন্য গাড়িটি এ রাজ্যে আসছে, সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা হবে। যদি গাড়িটির কোনও কর দেয় থাকে, চেক-পোস্টেই তা দিতে হবে। গাড়ির বিস্তারিত তথ্য রাখতে হবে পরিবহণ দফতরের একটি পৃথক তথ্যভাণ্ডারে (ডেটাবেস)। বিজ্ঞপ্তিতে এ-ও বলা হয়েছে, যদি সংশ্লিষ্ট রাজ্যে ঢোকার রাস্তায় কোনও চেক-পোস্ট না থাকে, সে ক্ষেত্রে পরিবহণ দফতরের নিকটবর্তী অফিসে তা নথিভুক্ত করানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের উপরেই বর্তাবে।

এ রাজ্যে আসা গাড়ির মালিকেরা নির্দিষ্ট কারণ ও সময়সীমা পেরোনোর আগে ঠিকানা বদলের জন্য আবেদন জানিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলায়-জেলায় ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি পরীক্ষা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tax Evasion Tax Transportation কর
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy