E-Paper

টেটহীন শিক্ষকদের অনিশ্চয়তা বহাল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

শনিবার ই এম বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ের কাছে বিজেপির শিক্ষা সেলের ডাকে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বললেন, “বাংলার টেটহীন শিক্ষকদের জন্য অবশ্যই কিছু করব। তবে, এর জন্য এই রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার আনতে হবে।”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৯

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যের টেট পাশ না করা শিক্ষকদের শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে টেট দিতেই হবে, না কি কেন্দ্র কোনও আইন তৈরি করে তাঁদের টেট পাশ করা থেকে ছাড় দেবে— তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারলেন না কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বরং তাঁর একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হল।

শনিবার ই এম বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ের কাছে বিজেপির শিক্ষা সেলের ডাকে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বললেন, “বাংলার টেটহীন শিক্ষকদের জন্য অবশ্যই কিছু করব। তবে, এর জন্য এই রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার আনতে হবে।” রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ দিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে তাঁদের অনেকেই হতাশ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা অনিমেষ হালদারের প্রশ্ন, “টেট পাশ থাকা বা না-থাকার বিষয়টি একটি সামগ্রিক সমস্যা। এর সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের শর্ত চাপে কী করে?” বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে মানব দাস বলেন, “বাংলায় ক্ষমতায় এলে ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন। ক্ষমতায় না এলে ব্যবস্থা নেবেন না? আমরা তাঁর বক্তব্যে হতাশ।” বিজেপি টিচার্স সেলের রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক পিন্টু পারুই অবশ্য বলেন, “কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলাদা করে বৈঠক হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এ রাজ্যের টেটহীন শিক্ষকদের চাকরি যাতে না যায়, তার জন্য প্রয়োজনে অর্ডিন্যান্স জারি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

অনুষ্ঠানের শেষে অবশ্য ধর্মেন্দ্র বলেন, “টেট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সব রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করছি। টেটহীন শিক্ষকেরা যাতে চাকরিহারা না হন, তা আমরা দেখছি।” এ দিন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলতে উঠে ধর্মেন্দ্রের কটাক্ষ, “যোগ‍্য শিক্ষকের ঠিকানা রাস্তায়, আর শিক্ষামন্ত্রীর ঘরে ট্রাঙ্ক-ভর্তি টাকা।” তাঁর আরও অভিযোগ, “মিড-ডে মিলের টাকা তৃণমূল তাদের দলের কাজে ব‍্যবহার করছে। বাংলার সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি মানছে না। মাতৃভাষায় পড়াশোনার কথা জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে। অথচ, বাংলার সরকার বাংলায় পড়াশোনা করতে দিতে চায় না। তাই বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলির এই দুরবস্থা। কেন্দ্র ১.৫ থেকে দু’হাজার কোটি টাকা সমগ্র শিক্ষা মিশনে দিতে চায়। তবে জাতীয় শিক্ষানীতি মানতে হবে, যা রাজ্য মানছে না।” তাঁর মতে, “দেশের মধ‍্যে সব চেয়ে বেশি শিক্ষকশূন‍্য স্কুল বাংলায়। বাংলার মাত্র ১৬ শতাংশ স্কুলে ইন্টারনেট আছে। যেখানে দেশের অন্যান্য রাজ্যে ৭০ শতাংশ স্কুলে ইন্টারনেট রয়েছে। বাংলার স্কুলে এআই চালু হোক, রাজ‍্য চায় না। যাদবপুরকে সেন্টার অব এক্সেলেন্স দিতে চেয়েছিলাম। রাজ‍্য বঞ্চিত করেছে।”

যদিও এই সমস্ত অভিযোগ খণ্ডন করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে বলেন, ‘‘মিড-ডে মিলের টাকা তৃণমূলের দলের কাজে ব্যবহার হয়— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর এই অভিযোগের ভিত্তিতে যে কেউ এফআইআর করতে পারে। কিন্তু কোনও এফআইআর নেই। তা হলেই বোঝা যাচ্ছে, অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজ্য সরকার জাতীয় শিক্ষানীতিকে শুধু গ্রহণই করেনি, তার সঙ্গে রাজ্য শিক্ষানীতি যোগ করে আরও আধুনিক করেছে। এ রাজ্যে মাতৃভাষায় পড়ানোর উপরে স্কুলগুলিতে সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হয়। বাংলা ছাড়াও হিন্দি, উর্দু, নেপালি-সহ বেশ কিছু ভাষায় পড়ানো হয়।” তাঁর অভিযোগ, সমগ্র শিক্ষা মিশনের জন্য কেন্দ্রের টাকা দীর্ঘ দিন ধরেই পাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ। ব্রাত্যের দাবি, ‘‘রাজ্যের সমস্ত উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে ইন্টারনেট আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যেই পাঠ্যক্রমের মধ্যে রয়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TET Exam TET Supreme Court of India Union Education Minister

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy