E-Paper

বিদ্যুৎ-ভূমি মুখ্যমন্ত্রীর, নজর খোলা বাজারেও

রাজ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে দীর্ঘ কাল ধরে চলে আসা একচেটিয়া ব্যবসা-প্রথার এ বার অবসান হতে পারে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে আরও অন্তত দু’টি বেসরকারি সংস্থা।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৮:৪৩
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।

প্রথমে ঠিক ছিল, অর্থ থাকবে তাঁর হাতে। শিল্প দফতরে যাবেন দলের বিশ্বস্ত কেউ। অর্থ ও শিল্পে সমন্বয় রেখে এগোবে রাজ্যের নতুন পরিকল্পনা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অর্থ দফতর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তের হাতে। শিল্পের ভার পেয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তাপস রায়। আর বিদ্যুৎ দফতর নিজের কাছেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শাসক শিবির সূত্রের ইঙ্গিত, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কারে হাত দিতে পারে বিজেপি সরকার।

তৃণমূল কংগ্রেস জমানার খরা কাটিয়ে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পে উদ্যোগ আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শিল্প দফতরের নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে সেই প্রক্রিয়ায় শামিল হচ্ছেন মন্ত্রী তাপসও। নতুন উদ্যোগ বা উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করতে গেলে জমির সংস্থান চাই। রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর আগের মতোই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। এরই পাশাপাশি আইন দফতরও নিজের হাতে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আইন দফতরের সঙ্গে কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন আধিকারিকেরা। এর ফলে প্রস্তাব রূপায়ণের গোটা প্রক্রিয়া মসৃণ করতে এবং প্রয়োজনে জট ছাড়াতে সুবিধা হতে পারে বলে আশা প্রশাসনিক শিবিরের।

সূত্রের খবর, রাজ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে দীর্ঘ কাল ধরে চলে আসা একচেটিয়া ব্যবসা-প্রথার এ বার অবসান হতে পারে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে আরও অন্তত দু’টি বেসরকারি সংস্থা। সেই প্রস্তাব এগোলে বিদ্যুৎ পরিষেবায় প্রতিযোগিতামূলক বাজার খুলে যেতে পারে। তাতে এক দিকে যেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে, তেমনই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সামনে তখন সুযোগ আসতে পারে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শ মেনে স্মার্ট মিটার বসানোর প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে চায় নতুন সরকার। স্মার্ট মিটারের প্রশ্নে বিভিন্ন সংগঠনেরই আপত্তি রয়েছে গোড়া থেকে। তৃণমূলের সরকারের সময়েও স্মার্ট মিটারের বিরোধিতায় আন্দোলন হয়েছিল। এখন সরকার বদলের পরে আলোচনার পথে মীমাংসা বার করার চেষ্টা হবে কি না, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎ দফতরে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে নির্বাচিত নতুন বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষকে। ভূমি ও ভূমি সংস্কারে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের দীপঙ্কর জানা। আর মুখ্যমন্ত্রীরই হাতে থাকা আইন দফতরে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি থেকে নির্বাচিত, আইনজীবী বিরাজ বিশ্বাসকে।

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আগ্রহী একটি সংস্থার কর্তার সঙ্গে ইতিমধ্যে প্রাথমিক কথা হয়েছে রাজ্য সরকারের। এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, ‘‘বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কারের সুযোগ রয়েছে। আগ্রহী সংস্থাও রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকায় পরিস্থিতি আগের চেয়ে সহজ হয়েছে, লাল ফিতের জটও কমেছে। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সমন্বয় রাখছে, মুখ্যমন্ত্রী গোটা বিষয়টিই দেখছেন।’’ সূত্রের খবর, এর পরে অন্যান্য কিছু রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার তথ্যও সংগ্রহ করা হতে পারে সরকারি স্তরে।

আদানি গোষ্ঠীর সংস্থা ‘আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজ়েড লিমিটেড’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির সঙ্গে গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছিল গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নিয়ে। তাজপুরের বদলে যে প্রকল্প এখন দাদনপাত্রবাড়ে হওয়ার কথা। বন্দর, উপকূল, জলপথ, যোগাযোগ ও মৎস্য-প্রকল্প ধরে একগুচ্ছ তৎপরতা এর পরে শুরু হতে চলেছে বলে সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত। তার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে। এই সমস্ত কাজের সুবিধা ও সমন্বয়ের জন্য রাজ্যে ক্ষুদ্র বন্দর দফতর তৈরি করা হবে বলেও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় তেমন কোনও দায়িত্ব বা দফতর এখনও রাখা হয়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Power Department

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy