এ বার বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেল সিআইডি। শনিবার সকালে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভবানীপুরে শোভনদেবের বাড়িতে যায়। সূত্রের খবর, এক ঘণ্টার বেশি সময় আধিকারিকেরা ওই বাড়িতে ছিলেন। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে প্রবীণ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শোভনদেবের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে যান সিআইডি আধিকারিকেরা।
শোভনদেব জানিয়েছেন, যে কোনও ধরনের তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত। তবে যাঁরা এই ঘটনায় অভিযোগ জানিয়েছে, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। শোভনদেবের কথায়, ‘‘আমি তদন্তে ২০০ শতাংশের বেশি সহযোগিতা করব। তবে যাঁরা এই অভিযোগ করেছেন, তাঁদেরও প্রশ্ন করা দরকার। কারণ, প্রস্তাবে স্বাক্ষরের সময় সকলেই উপস্থিত ছিলেন।’’
আরও পড়ুন:
বিধানসভায় শোভনদেবকেই বিরোধী দলনেতা বেছেছিলেন তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিষদীয় দলের নেতা হিসাবে তাঁর নাম প্রস্তাব করে দলের তরফে একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু স্পিকার চিঠি গ্রহণ করেননি। চিঠির সইয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সই জালিয়াতির অভিযোগ জানান স্পিকারের কাছে। তার পর ওই দু’জনকে বহিষ্কারও করে তৃণমূল। তবে পরে ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত স্পিকারকে চিঠি দেন এবং তাঁকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়।
সই কাণ্ডের তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় একাধিক বার ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তৃণমূলের কয়েক জন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি। কারও বাড়িতে আধিকারিকেরা গিয়েছেন, কাউকে হাজিরার নোটিস ধরানো হয়েছে। শুক্রবারই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। কিন্তু কল্যাণ দিল্লিতে থাকায় তাঁর পরিবারের কেউ নোটিস গ্রহণ করতে চাননি। শনিবার আবার সেখানে যেতে পারে সিআইডি।
ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শোভনদেব। সিঙ্গল বেঞ্চ ওই সিদ্ধান্তে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে চায়নি। এর পর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব আবার হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছেন। আগামী সপ্তাহে তার শুনানি হতে পারে।