শহুরে জামাইষষ্ঠীর ছবিটা এখন বেশ অন্য রকম। কর্মব্যস্ততার প্রভাবে বদলাচ্ছে জামাইষষ্ঠীর তাৎপর্য ও উদ্যাপন। এখনকার জামাইরা বেশ স্বাস্থ্যসচেতন। পাত পেড়ে চর্ব-চোষ্য খেতে তাঁদের ঘোর অনীহা। ভূরিভোজ হবে অবশ্যই, তবে তা মেপেঝুপে, ডায়েট মেনে। কিন্তু আজও বেশ কিছু বনেদি পরিবারে অতীতের রীতি মেনে হয় জামাইষষ্ঠী। থরে থরে নানা রকম রান্না তো হবেই, শেষপাতে মিষ্টিমুখ অনিবার্য। মিষ্টি ছাড়া বাঙালি বাড়ির জামাইষষ্ঠী বড়ই পানসে। তবে যে জামাইদের মিষ্টি খেতে ঘোর আপত্তি, তাঁদের জন্য বিকল্প উপায় আছে। মিষ্টিমুখও হবে, আবার ডায়েটও বজায় থাকবে। স্বাদের সঙ্গেও আপোস করতে হবে না।
স্বাস্থ্যকর মিষ্টি মানেই যে নীরস ও স্বাদহীন, তা একেবারেই নয়। চিনির বদলে যদি খেজুরবাটা দেওয়া হয়, তা হলে স্বাদ কোনও অংশে কমে না। এর সঙ্গে বাদাম ও জাফরান মিশে গেলে তা হয়ে ওঠে রাজকীয়। তেমনই কয়েক রকম মিষ্টির রেসিপি রইল। কালো জামের শ্রীখণ্ড থেকে ডার্ক চকোলেটের লাড্ডু— জামাইয়ের পছন্দ হবেই।
কালো জামের শ্রীখণ্ড
কালো জামের শ্রীখণ্ড
স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরি এ দেশে সহজলভ্য নয়। বদলে কালো জাম দিয়ে শ্রীখণ্ড বানালে তা যেমন সুস্বাদু হবে, তেমনই হবে স্বাস্থ্যকর। এর গাঢ় বেগনি বা গোলাপি রং দেখতেও খাসা হয়। এক কাপের মতো কালো জাম ধুয়ে নিয়ে বীজ ছাড়িয়ে মিক্সিতে সামান্য জল দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এ বার তার সঙ্গে এক কাপের মতো জল ঝরানো টক দই, এলাচ গুঁড়ো এবং সামান্য মধু মিশিয়ে খুব ভাল করে ফেটিয়ে নিন। ফ্রিজে রেখে সেট হতে দিন। পরিবেশনের আগে উপরে নানা রকম ফলের কুচি, খেজুর ও ড্রাই ফ্রুটস ছড়িয়ে দিন।
ডার্ক চকোলেট ও মাখানার লাড্ডু
ডার্ক চকোলেট ও মাখানার লাড্ডু
মাখানা ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর এবং এতে ক্যালোরি খুব কম থাকে। ডার্ক চকোলেট হার্টের জন্য ভাল। স্বাস্থ্য সচেতন জামাইয়ের জন্য এর চেয়ে ভাল মিষ্টি আর হবে না। যতটা বানাতে চান, সেই পরিমাণ মতো মাখানা নিয়ে শুকনো খোলায় ভেজে নিন। এ বার ডার্ক চকোলেট গলিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে মাখানা মেশান। এতে সামান্য মধু ও কাঠবাদামের কুচি মিশিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। মিশ্রণটি একটু ঠান্ডা হলে হাতের তালুতে গোল গোল লাড্ডু বানিয়ে ফ্রিজে ২০ মিনিট রেখে তার পর পরিবেশন করুন।
রাঙা আলুর পান্তুয়া
রাঙা আলুর পান্তুয়া
রাঙা আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণ আলুর চেয়ে কম। তাই এটি খেলে সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না। ডায়াবিটিসের ভয়ে যে জামাই মিষ্টি খাওয়া ছেড়েছেন, তাঁর জন্য এটি বানিয়ে দিতে পারেন। পদ্ধতিও সহজ। সেদ্ধ রাঙা আলু ও ছানা খুব ভাল করে মেখে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। এ বার সামান্য তেলে বা এয়ার ফ্রায়ারে লালচে করে ভেজে নিন। চিনির রসের বদলে পাতলা গুড়ের রসে বা মধু-জলের মিশ্রণে কিছু ক্ষণ ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে নরম পান্তুয়া।
ডুমুরের বরফি
ডুমুরের বরফি
ডুমুর আয়রন ও ফাইবারে সমৃদ্ধ। ডুমুর ও ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে মিষ্টি বানালে তার স্বাদ রাজকীয় হবে। প্রথমে ডুমুর গরম জলে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পেস্ট করে নিন। কাঠবাদাম, আখরোট, পেস্তা, কাজুবাদাম, কিশমিশ সব ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এ বার কড়ায় সামান্য ঘি দিয়ে ডুমুরের পেস্ট ভাল করে কষিয়ে নিন। ঘন হয়ে এলে ড্রাই ফ্রুটস কুচি মিশিয়ে একটি থালায় ঘি মাখিয়ে মিশ্রণটি সমান ভাবে ছড়িয়ে দিন। ঠান্ডা হলে চৌকো বা বরফির আকারে কেটে নিন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বাঙালির জামাইষষ্ঠীতে জামাই-আদরের বিষয়টি বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়ে।
- একটা গোটা দিন উৎসর্গ করা হয় শুধুমাত্র জামাইয়ের জন্য, এমন সৌভাগ্য কেবল বাঙালি জামাইদেরই রয়েছে।
- জামাইষষ্ঠী তো শুধু নিয়মপালন নয়, এ যেন ভোজনরসিকদের উৎসব। ভূরিভোজের সব ব্যবস্থাই থাকে পাকা। নিয়মকানুনের অনুষঙ্গে থাকে রকমারি খাবার।
-
১২:৫৪
প্রথম বছরে পাতে পড়েনি পাঁঠার মাংস, চিংড়ি! জৈন পরিবারে অর্জুনের প্রথম ‘জামাইষষ্ঠী’ কেমন ছিল? -
১১:৫৮
তেল নয়, ঘিয়ে রাঁধি চিংড়ি, শুক্তো! তাতেই মুগ্ধ জামাই, পর্দার ‘রাম’ গুরমীতকে কী খাওয়ান দেবিনার মা -
১০:০০
আসে বিশেষ গাছ, হাতে পরানো হয় হলুদ সুতো! শ্যামৌপ্তি, বিশ্বনাথ, শ্রীময়ীদের বাড়িতে জামাইষষ্ঠীর নিয়ম -
২০:৩৫
বাড়িতে নয় রেস্তরাঁয় জামাইষষ্ঠী, নেপথ্যে ‘স্মার্ট’ শাশুড়ির আলস্য নয় তো! এ বারে কোথায় হতে পারে গন্তব্য? -
অমিতাভ থেকে পঙ্কজ, দাপুটে বলি-অভিনেতাদের মন বুঝেছেন বাঙালি কন্যারাই! জামাইষষ্ঠীর আবহে ফিরে দেখা