১৯৭৮ সালের জুন মাসে তাঁদের প্রথম দেখা। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে। প্রবীণ অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী নীলাঞ্জনা চক্রবর্তীর দাম্পত্যের প্রায় ৩৫ বছর হয়ে গিয়েছে। ছোটবেলার বন্ধুত্বই মোড় নেয় প্রেমে। তার পর বিয়ে। জন্মসূত্রে নীলাঞ্জনা জৈন পরিবারের মেয়ে। অবাঙালি পরিবারের জামাই অর্জুন কখনও জামাইষষ্ঠীর আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছিলেন?
ডিজিটাল যুগে এখন জামাইষষ্ঠীরও রকমফের দেখা যায়। যেখানে ছুটির দিন দেখে জামাই-আদরের ব্যবস্থা করেন শাশুড়িমা-শ্বশুরমশাই। কেউ কেউ রেস্তরাঁয় খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। তবে ৩০ বছর আগের জামাইষষ্ঠীর দিনগুলো ছিল অন্যরকম। সে সময়ে জামাই-আদর বললে হরেকরকম পদ, অনেক উপহার আর সঙ্গে নিয়মকানুনের বাহার চলে আসত।
বাঙালি বাড়ির অর্জুন কী ভাবে হয়ে উঠলেন জৈন পরিবারের আদরের জামাই? ছবি: ফেসবুক।
অর্জুন জানালেন, অবাঙালি পরিবারে বিয়ে করলেও তাঁর জামাইষষ্ঠীতে কোনও খামতি ছিল না। বরং তাঁর শাশুড়িমা খুব ঘটা করেই সব আয়োজন করতেন। অভিনেতা বললেন, “প্রথম বছরের জামাইষষ্ঠীতে আমার শাশুড়িমা একটু বিড়ম্বনাতেই পড়েছিলেন। কী করবেন প্রথমে বুঝতেই পারছিলেন না। এ দিকে আমি তো খাদ্যরসিক মানুষ। সঙ্গে আবার বাঙালি। ফলে তাঁর মনে হয়েছিল, এই দিন একটু বিশেষ আয়োজন না করলে আমার হয়তো মনখারাপ হবে। তাই প্রথম বছর জামাইষষ্ঠীর আগে সরাসরি আমার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।”
অর্জুন খুবই খাদ্যরসিক মানুষ। ছবি: সংগৃহীত।
অর্জুনের শ্বশুরবাড়িতে মাছ-মাংস, এমনকি পেঁয়াজ-রসুন রান্নারও চল ছিল না। তা হলে কি জামাইষষ্ঠীর সেই পাঁঠার মাংস, চিংড়ির মালাইকারির স্বাদ থেকে বঞ্চিতই থাকতে হয়েছিল প্রবীণ অভিনেতাকে? অর্জুন বলেন, “আসলে আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই এত মিষ্টি এবং ভাল। তাই কী থেকে বঞ্চিত হলাম, সেটা কখনও ভাবার অবকাশই পাইনি। আমার সবসময়ে মনে হয়, উদ্দেশ্যটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বছরে তাই আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলে সব আয়োজন করেছিলেন আমার শাশুড়ি। যদিও আমার মা কখনও নিয়ম পালনে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাই তিনি বলেছিলেন, ‘কোনও নিয়ম মানতে হবে না। খালি খাওয়া-দাওয়া করবে, এই-ই যথেষ্ট’। সেই অনুযায়ী প্রচুর খাবার খেয়েছিলাম সে বার। হ্যাঁ, ষষ্ঠীর দিন পাতে পাঁঠার মাংস, অনেক রকমের মাছ পড়েনি ঠিকই। কিন্তু জৈনদের যে বিশেষ খাবারগুলো হয়, সবগুলো রান্না হয়েছিল আমার জন্য। গুছিয়ে খেয়েছিলাম। এখন নামগুলো মনে নেই। প্রচুর মিষ্টিও খেয়েছিলাম।”
গত ৩৫ বছরে ঘটা করেই ষষ্ঠী পালন করেছে নীলাঞ্জনার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত।
বেশ কয়েক বছর হল অর্জুনের শাশুড়িমা-শ্বশুরমশাই গত হয়েছেন। তা হলে কি এখন জামাইষষ্ঠীর আনন্দ ফিকে? এখন কি আদৌ সে ভাবে এই দিনটা পালন করেন তাঁরা? অর্জুন জানালেন, শাশুড়িমা বা শ্বশুর না থাকলেও তাঁর শ্যালক এবং তাঁর পরিবার সেই ধারা এখনও বজায় রেখেছেন। অভিনেতা যোগ করেন, “এখন তো আমিই ওদেরকে আমার মতো করে নিয়েছি। বাড়ির বাইরে একটু আধটু আমিষ খাবার ওরাও খায়। পুরনো আমলের কোনও নিয়মকানুন নেই ঠিকই, তবে আনন্দগুলো এখনও বজায় আছে।”
শেষ কয়েক বছর ধরে জামাইষষ্ঠীতে তাই শ্যালকের পরিবারের সঙ্গে বাইরেই খাওয়া-দাওয়া করেন অর্জুন। এই বছরেও তাঁদের তেমনই পরিকল্পনা। দিনের শেষে একসঙ্গে ভাল কোনও রেস্তরাঁয় খেতে যাবেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই মুক্তি পেয়েছে অর্জুনের নতুন ছবি ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’। প্রায় আড়াই বছর পরে তাঁকে বড়পর্দায় দেখা গিয়েছে। ফলে খুবই উচ্ছ্বসিত অর্জুনের অনুরাগীরা। আগামী দিনে কি নতুন কোনও ছবিতে দেখা যাবে অর্জুনকে? তা অবশ্য এখনই খোলসা করতে রাজি নন অভিনেতা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বাঙালির জামাইষষ্ঠীতে জামাই-আদরের বিষয়টি বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়ে।
- একটা গোটা দিন উৎসর্গ করা হয় শুধুমাত্র জামাইয়ের জন্য, এমন সৌভাগ্য কেবল বাঙালি জামাইদেরই রয়েছে।
- জামাইষষ্ঠী তো শুধু নিয়মপালন নয়, এ যেন ভোজনরসিকদের উৎসব। ভূরিভোজের সব ব্যবস্থাই থাকে পাকা। নিয়মকানুনের অনুষঙ্গে থাকে রকমারি খাবার।
-
১১:৫৮
তেল নয়, ঘিয়ে রাঁধি চিংড়ি, শুক্তো! তাতেই মুগ্ধ জামাই, পর্দার ‘রাম’ গুরমীতকে কী খাওয়ান দেবিনার মা -
১০:০০
আসে বিশেষ গাছ, হাতে পরানো হয় হলুদ সুতো! শ্যামৌপ্তি, বিশ্বনাথ, শ্রীময়ীদের বাড়িতে জামাইষষ্ঠীর নিয়ম -
২০:৩৫
বাড়িতে নয় রেস্তরাঁয় জামাইষষ্ঠী, নেপথ্যে ‘স্মার্ট’ শাশুড়ির আলস্য নয় তো! এ বারে কোথায় হতে পারে গন্তব্য? -
অমিতাভ থেকে পঙ্কজ, দাপুটে বলি-অভিনেতাদের মন বুঝেছেন বাঙালি কন্যারাই! জামাইষষ্ঠীর আবহে ফিরে দেখা
-
সাবেক সাজেই হোক জামাইষষ্ঠী উদ্যাপন! নজরে থাক সইফ, পরমব্রত-সহ ৫ অভিনেতার পাঞ্জাবি ‘লুক’