Advertisement
E-Paper

জামাইবরণ

অমিতাভ থেকে পঙ্কজ, দাপুটে বলি-অভিনেতাদের মন বুঝেছেন বাঙালি কন্যারাই! জামাইষষ্ঠীর আবহে ফিরে দেখা

বলিউডের সফল অভিনেতারা বাঙালি কন্যাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন, এমন উদাহরণ কিন্তু ভূরিভূরি। বলিউডের ভাল অভিনেতা মানেই যেন বাংলার জামাই! তবে কি বাঙালি কন্যারাই একজন অভিনেতার মন ভাল বোঝেন? অভিনেতাদের জীবনের কঠিন দিনগুলিতে তাঁদের পাশে থাকতে পারেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১২:৫১
বাঙালি কন্বযাদের সঙ্গে বলিপাড়ার সুখী জামাইরা।

বাঙালি কন্বযাদের সঙ্গে বলিপাড়ার সুখী জামাইরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রবাদ বলে, ‘যম-জামাই-ভাগনা তিন নয় আপনা।’ তবে প্রবাদ যাই বলুক না কেন যুগ যুগ ধরে শাশুড়িরা জামাইকে তুষ্ট করার হরেক আয়োজন করে আসছেন। বিশেষ করে বাঙালির জামাইষষ্ঠীতে জামাই-আদরের বিষয়টি বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়ে। একটা গোটা দিন উৎসর্গ করা হয় শুধুমাত্র জামাইয়ের জন্য, এমন সৌভাগ্য কেবল বাঙালি জামাইদেরই রয়েছে। বলিপাড়ায় কিন্তু এমন অনেক জামাই আছেন যাঁরা নিজেরা বাঙালি না হলেও আদতে বাঙালি জামাই।

বলিউডের সফল অভিনেতারা বাঙালি কন্যাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন, এমন উদাহরণ ভূরিভূরি। পঙ্কজ ত্রিপাঠী, ইরফান খান, সৌরভ শুক্ল, অজয় দেবগন থেকে অমিতাভ বচ্চন— তালিকা দীর্ঘ। বলিউডের ভাল অভিনেতা মানেই যেন বাংলার জামাই! তবে কি বাঙালি কন্যারাই একজন অভিনেতার মন ভাল বোঝেন? অভিনেতাদের জীবনের কঠিন দিনগুলিতে তাঁদের পাশে থাকতে পারেন?

অমিতাভ-জয়া

পঞ্চাশ বছর পা করেছে অমিতাভ বচ্চন আর জয়া বচ্চনের দাম্পত্য জীবন। পুনের ফিল্ম সিটিতে যখন জয়ার সঙ্গে অমিতাভের প্রথম দেখা হয় তখন জয়া চলচ্চিত্র জগতে পরিচিত মুখ। সত্যজিৎ রায়, কে আব্বাসের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করে ফেলেছেন। বলিপাড়ায় অমিতাভ তখনও নবীন। শোনা যায়, ‘গুড্ডি’ ছবির সেটে একে অপরের সঙ্গে ভাল ভাবে পরিচিত হন। প্রেমপর্ব চলে বেশ কিছু দিন। তার পরেই অমিতাভের জীবনে সাফল্য আসে। ‘জ়ঞ্জির’ ছবিটি বক্সঅফিসে দারুণ সফল হয়। বিয়ে সেরে ফেলেন দু’জনে। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিতে থাকেন নায়ক অমিতাভ। তবে পরবর্তী সময়ে অভিনেতার জীবনে ব্যর্থতাও এসেছে। খারাপ সময়ে বক্সঅফিসে একের পর এক ছবি ব্যর্থ হয়েছে, প্রযোজনা সংস্থা বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখ থুবড়ে পড়েছে— সেই সময়েও জয়াকে পাশে পেয়েছেন অমিতাভ। দু’জনে মিলে সবটা সামলেছেন। হয়ত সে কারণেই ৫০ বছর পেরিয়েও বলিউডের অন্যতম সেরা দম্পতি তাঁরাই।

পঙ্কজ-মৃদুলা

বলিপাড়ার দাপুটে অভিনেতাদের অন্যতম পঙ্কজ ত্রিপাঠী। তথাকথিত নায়কসুলভ চেহারা না হয়েও স্রেফ অভিনয়ের শক্তিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের রেখাচিত্র শুরুর দিকে মসৃণ ছিল না। কেরিয়ারের গোড়ায় তেমন উপার্জন ছিল না পঙ্কজের। স্ত্রীর উপার্জনের উপরেই নির্ভর করতে হত পঙ্কজকে। আট বছর ধরে সংসারের খরচ টেনেছেন পঙ্কজের জীবনসঙ্গী মৃদুলা ত্রিপাঠী। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, ‘‘ঘর ছোট ছিল, মৃদুলার উপার্জনে কোনও মতে সংসার চলে যেত। একটা ছোট বাইক ছিল, যেটায় চড়ে রোজ সন্ধ্যাবেলা ঘুরতে যেতাম দু’জনে মিলে। জীবনটা সুন্দরই ছিল সেই সময়। কখনও মনে হয়নি খুব কষ্টের মধ্যে আছি। সবাই ভাবতে পারে আমার জীবনটা হয়তো খুবই কষ্টের ছিল। তবে কষ্টকর মনে হয়নি কারণ মৃদুলা পাশে ছিল।’’ অথচ বাঙালি বলে এখনও কিন্তু মৃদুলাকে মেনে নেননি পঙ্কজের মা। পারিবারিক অশান্তি লেগেই ছিল তাঁদের জীবনে। একাধিক সাক্ষাৎকারে সে কথাও জানা গিয়েছে। এত বাধা থাকলেও তার প্রভাব পড়েনি পঙ্কজ-মৃদুলার সম্পর্কে। একসঙ্গে ২০ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

ইরফান-সুতপা

ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় আলাপ হয় ইরফান খান আর সুতপা শিকদারের। সিনেমা, অভিনয় আর শিল্পচর্চায় দু’জনের প্রবল আগ্রহের কারণেই একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করেন তাঁরা। প্রেমপর্ব চলে কিছুদিন, তার পরেই বিয়ে করেন দু’জনে। ইরফান তখনও বলিউডে তেমন ভাবে কাজ পাননি। ইরফানের খারাপ সময় পাশে ছিলেন সুতপা-ই। সেই সময় তিনি চিত্রনাট্যকারের কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সালে ‘মকবুল’ ছবির হাত ধরেই বলিউডে পরিচিতি বাড়ে ইরফানের। সুতপা তখন ‘খামোশি’, ‘শব্দ’, ‘কাহানি’ ছবিতে চিত্রনাট্যকারের কাজ করছেন। সালটা ২০১৮। নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে ইরফানের। সেই থেকে শুরু ইরফান-সুতপার জীবনের কঠিন লড়াই। ইরফানের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পাশে থেকেছেন তাঁর বাঙালি স্ত্রী।

সৌরভ-বর্ণালী

অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌরভ শুক্ল যখন বর্ণালী রায় শুক্লকে বিয়ে করেন, তখনও বলিপাড়ায় তেমন ভাবে পরিচিত হননি তিনি। দু’জনেই তখন বলিপাড়ার নতুন মুখ। পরের দিকেও বর্ণালীও বলিপাড়ায় লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে কাজ করেন। নিজেদের কর্মজীবনের শুরুর দিকে বেশ কঠিন সময়ে দেখেছেন দম্পতি। তবে একে অপরের হাত ছাড়েননি তাঁরা। সৌরভ অভিনয় জগতে সাফল্য পাওয়ার পরেও একই রকম রয়ে যায় দু’জনের দাম্পত্য রসায়ন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সুখী বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

অজয়-কাজল

বন্ধুত্ব থেকেই শুরু হয় অজয় দেবগণ আর কাজলের প্রেমকাহিনি। বিয়ের পরেই দু’জনে প্রথম একসঙ্গে বড়পর্দায় কাজ করেন। সন্তানের জন্মের পর পরিবারের কথা ভেবেই বেশ কিছু দিন কাজের জগত থেকে দূরে থেকেছেন কাজল। অজয়ের জীবনেও ওঠাপড়া লেগেই ছিল। সেই সময়ও অজয়ের পাশে ছিলেন কাজল। প্রায় ২৭ বছরের দাম্পত্য তাঁদের।

মোটের উপর বাঙালি কন্যাদের বিয়ে করে সুখীই হয়েছেন বলিউডের অভিনেতারা। বাংলার জামাই তো তাঁরাও!

সংক্ষেপে
  • বাঙালির জামাইষষ্ঠীতে জামাই-আদরের বিষয়টি বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়ে।
  • একটা গোটা দিন উৎসর্গ করা হয় শুধুমাত্র জামাইয়ের জন্য, এমন সৌভাগ্য কেবল বাঙালি জামাইদেরই রয়েছে।
Jamai Sasthi Bollywood
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy