৫,৩১২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত দুর্গম ‘ট্রেইলস পাস’ অভিযানের সময় প্রত্যন্ত হিমালয় অঞ্চলে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন ১৯ সদস্যের একটি পর্বতারোহী দল। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলায়। দলটি উচ্চ-উচ্চতার গিরিপথটি সফল ভাবে অতিক্রম করার সময় হঠাৎই একটি বিশাল তুষারধস নেমে আসে। সরাসরি ধেয়ে আসতে থাকে তাদের দিকে। তুষারের সেই আকস্মিক ধসের কারণে পর্বতারোহীদের মধ্যে সাময়িক ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আননদবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
-
স্ত্রীকে অন্যের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে বিয়ে দিলেন যুবক! পাত্র-পাত্রীর অবস্থা দেখে হেসে খুন গ্রামবাসীরা, ভাইরাল ভিডিয়ো
-
ট্রেনের আপার বার্থ থেকে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছিলেন, বুঝতে পেরে ঊর্ধ্বাঙ্গ ওড়নায় ঢাকলেন তরুণীরা! ভাইরাল ভিডিয়োয় হইচই
-
জঙ্গলে বুনো হাতিদের উত্ত্যক্ত করল ‘রিল্স গ্যাং’, বাঁচল পদপিষ্ট হতে হতে! ভাইরাল ভিডিয়োয় নিন্দার ঝড়
‘রামনাম.৬৬৬’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ‘ট্রেইলস পাস’ অতিক্রম করার সময় বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন একদল পর্বাতোরোহী। দুর্গম পথে হঠাৎ তাঁদের দিকে এগিয়ে আসে তুষারধস। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। চিৎকার করে ওঠেন। তার পর কোনও মতে পাহাড়ের আড়ালে গিয়ে রক্ষা পান। তাঁদের কারও কারও ব্যাগ ভেসে চলে যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চূড়ায় পৌঁছোনোর জন্য ইতিমধ্যেই চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে ১০ দিন পার করেছিলেন ওই পর্বতারোহীরা। তুষারধসের মুখোমুখি হওয়ার আগেই, কুমায়ুনের বিপজ্জনক ভূখণ্ডে এই অভিযান চলাকালীন তাদের অবিরাম তুষারঝড়, গভীর ও লুকোনো ফাটল এবং ভারী তুষারপাতের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। শারীরিক ধকল এবং শেষ মুহূর্তের সেই ভয়াবহ আতঙ্ক সত্ত্বেও, গিরিপথ জয়ের কঠিন লড়াইয়ের পর দলটি নিরাপদে বিপদ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় বলে খবর।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে অভিযানের সকল সদস্য নিরাপদ আছেন। ‘ট্রেইলস পাস’ তার অনিশ্চিত আবহাওয়া এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভূখণ্ডের জন্য পর্বতারোহীদের কাছে কুখ্যাত। তাই তুষারধস থেকে সফল ভাবে রক্ষা পাওয়াটা পর্বতারোহীদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।
‘ট্রেইলস পাস’ ট্রেক কী এবং কেন এটি কিংবদন্তিতুল্য? উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন অঞ্চলে অবস্থিত ‘ট্রেইলস পাস ট্রেক’ ভারতের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং উচ্চ-উচ্চতার পর্বতারোহণ অভিযান। ৫,৩১২ মিটার (১৭,৪২৮ ফুট) উচ্চতার এই গিরিপথটি বাগেশ্বরের পিন্ডারি উপত্যকাকে পিথোরাগড়ের জোহর উপত্যকার সঙ্গে সংযুক্ত করে। নন্দা দেবী ইস্ট এবং চাংগুচের মতো সুউচ্চ শৃঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত এই পথটিকে ভারতীয় হিমালয়ের অন্যতম বিপজ্জনক এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্রসওভার রুট’ বা এক উপত্যকা থেকে অন্য উপত্যকায় যাওয়ার পথ হিসাবে গণ্য করা হয়।
আরও পড়ুন:
সাধারণ ট্রেকিংয়ের চেয়ে আলাদা, ‘ট্রেইলস পাস’ হল একটি পূর্ণাঙ্গ ‘টেকনিক্যাল’ বা কারিগরি দক্ষতা-নির্ভর অভিযান, যার জন্য উন্নত পর্বতারোহণ দক্ষতার প্রয়োজন। ১৮৩০ সালে কুমায়ুনের তৎকালীন ব্রিটিশ ডেপুটি কমিশনার জি.ডব্লিউ. ট্রেইল প্রথম এই পথটি অতিক্রম করেছিলেন। সেই থেকে এই পথটি তার কঠোর ও দুর্গম প্রকৃতির জন্য কুখ্যাত হয়ে আছে। ২০০ বছরের ইতিহাসে, প্রায় ১০০টি পেশাদার পর্বতারোহী দলের মধ্যে ২০টিরও কম দল সফল ভাবে এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে।