প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুরুতে জামাইদের জন্য বেশ কিছু নিয়মকানুন পালন করেন শাশুড়িমায়েরা। বিভিন্ন পরিবারে ষষ্ঠীপুজোর বিভিন্ন নিয়ম। কোনও পরিবারে জামাইয়ের নামে পুজো দিয়ে বিশেষ সুতো পরিয়ে দেওয়া হয়। আবার কোনও পরিবারে শিল পাতা হয়। এই দিনগুলো টলিপাড়ার তারকাদের জন্যও বিশেষ। কেউ নতুন জামাই, তো কেউ বছরের পর বছর ধরে শ্বশুরবাড়ির নিয়মে মজেছেন।
যেমন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু বেশ অনেকগুলো জামাইষষ্ঠী কাটিয়ে ফেলেছেন। অন্য দিকে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণুর এটা প্রথম বছরের ষষ্ঠী। আবার কাঞ্চন মল্লিকের এই নিয়ে তৃতীয় বছরের ষষ্ঠী। প্রত্যেকের বাড়িতেই কোনও না কোনও নিয়ম মানা হয়। অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুডলী জানালেন, স্বামী রণজয় খুব বেশি নিয়মকানুনে বিশ্বাসী নন। তবে যেহেতু অভিনেত্রী নিজে ছোট থেকে মা-বাবার জামাইষষ্ঠী দেখে বড় হয়েছেন, ফলে এই বছর একটা বিশেষ উত্তেজনা কাজ করছে তাঁর।
রণজয়ের প্রথম বছরের জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়িতে রয়েছে কী কী নিয়ম? ছবি: সংগৃহীত।
শ্যামৌপ্তি বললেন, “ষাট ষষ্ঠীর নিয়ম পালন করতে দেখেছি ছোট থেকে। হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা হয়। জামাইয়ের হাতে একটা হলুদ সুতো বেঁধে দেওয়া হয়। রণজয়ের জন্যও মা এই সব করবেন। কারণ, এই নিয়মগুলো আমার মামারবাড়িতেও করা হত বাবার জন্য। যদিও রণজয় খুব একটা নিয়মে কোনও কিছুকে বাঁধতে রাজি নয়। তাই সব নিয়মই সারা হবে খুব ছোট করে।”
জামাইষষ্ঠী কেন বিশেষ বিশ্বনাথের কাছে? ছবি: সংগৃহীত।
অন্য দিকে বিশ্বনাথ আবার চুটিয়ে উপভোগ করেন ষষ্ঠীর সব নিয়মই। ফলাহারের একটা বড় অংশ থাকে। অভিনেতা যোগ করেন, “আমার শাশুড়িকে বরাবর দেখেছি উপোস করে থাকতে। উপোস করে ষষ্ঠীর পুজো দেন তিনি। আমার সারা শরীরে ছুঁইয়ে দেন পাখা। সেই পাখা দিয়ে হাওয়া করে দেন। আর ফলাহার করাতেই হবে। বিভিন্ন ধরনের ফল পাখার উপরেই সাজিয়ে দেওয়া হয়।” যদিও বিশ্বনাথের কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দুপুরের ভুরিভোজ। সেটাই তাঁর কাছে আকর্ষণীয়।
জামাইষষ্ঠীতে বিশেষ গাছ আসে শ্রীময়ীদের বাড়িতে? ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের পরিবারে নিয়মের শেষ নেই। যদিও এই বছর অন্য বছরের তুলনায় তাঁদের ষষ্ঠীর আয়োজন একটু ফিকে।
শাশুড়ি কী কী রান্না করবেন জামাই কাঞ্চনের জন্য? ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেত্রী বললেন, “মা তো নিরামিষ খান। ফলাহার করেন। আর কিছু খান না। একবেলা খাওয়া। রাতে লুচি খান মা। দাদু মারা গিয়েছেন বলে এ বারে একটু ছোট করেই আয়োজন করা হয়েছে। তবে নিয়ম সবই মানা হবে। শুক্রবারই বাবা সব এনে দিয়েছেন। হলুদ কাপড় দিয়ে ষষ্ঠী পাতেন মা। হাতে সুতো বেঁধে দেন। হাতপাখার হাওয়া দেন। জামাইষষ্ঠীর জন্য বিশেষ গাছ পাওয়া যায়। বট, অশ্বত্থ, বাঁশপাতা, খেজুর— সবমিলিয়ে একটা ফলন্ত গাছ আনা হয়। তার পুজো করা হয়। যাতে জামাই-মেয়ের সংসার ফলে-ফুলে সমৃদ্ধ থাকে।” শাশুড়ি নিরামিষ খেলেও কাঞ্চনের জন্য জামাইষষ্ঠীতে বিশেষ ভাবে রান্না করা হবে ইলিশ ভাপা, চিংড়ির মালাইকারি আর পাঁঠার মাংস।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বাঙালির জামাইষষ্ঠীতে জামাই-আদরের বিষয়টি বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়ে।
- একটা গোটা দিন উৎসর্গ করা হয় শুধুমাত্র জামাইয়ের জন্য, এমন সৌভাগ্য কেবল বাঙালি জামাইদেরই রয়েছে।
- জামাইষষ্ঠী তো শুধু নিয়মপালন নয়, এ যেন ভোজনরসিকদের উৎসব। ভূরিভোজের সব ব্যবস্থাই থাকে পাকা। নিয়মকানুনের অনুষঙ্গে থাকে রকমারি খাবার।
-
১০:৫১
গরমে তেতেপুড়ে আসা জামাইকে এগিয়ে দেবেন কোন শরবত, তুষ্ট করবেন সাবেক না ফিউশনে -
২০:৩৫
বাড়িতে নয় রেস্তরাঁয় জামাইষষ্ঠী, নেপথ্যে ‘স্মার্ট’ শাশুড়ির আলস্য নয় তো! এ বারে কোথায় হতে পারে গন্তব্য? -
১২:৫১
অমিতাভ থেকে পঙ্কজ, দাপুটে বলি-অভিনেতাদের মন বুঝেছেন বাঙালি কন্যারাই! জামাইষষ্ঠীর আবহে ফিরে দেখা -
সাবেক সাজেই হোক জামাইষষ্ঠী উদ্যাপন! নজরে থাক সইফ, পরমব্রত-সহ ৫ অভিনেতার পাঞ্জাবি ‘লুক’
-
তেল-মশলার বাড়াবাড়ি, চড়া মিষ্টির দাপট ছাড়াই হবে ষষ্ঠীর ভূরিভোজ! রইল স্বাস্থ্যকর মেনুকার্ড