Advertisement
E-Paper

বাড়িতে নয় রেস্তরাঁয় জামাইষষ্ঠী, নেপথ্যে ‘স্মার্ট’ শাশুড়ির আলস্য নয় তো! এ বারে কোথায় হতে পারে গন্তব্য?

এখনকার ‘স্মার্ট’ শাশুড়িরা বাড়িতে নয়, জামাইবরণ করতে রেস্তরাঁমুখী হচ্ছেন। অনেকে রসিকতা বলতেই পারেন, দিন দিন শাশুড়িরা তবে কি অলস হয়ে পড়ছেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ২০:৩৫
শাশুড়িরা অলস হচ্ছেন বলেই রেস্তরাঁয় জামাইষষ্ঠী?

শাশুড়িরা অলস হচ্ছেন বলেই রেস্তরাঁয় জামাইষষ্ঠী? ছবি: সংগৃহীত।

কেবল জামাইদের জন্যই উৎসর্গিত একটি গোটা দিন! আর তা ঘিরে এলাহি আয়োজন। তবেই না জামাইষষ্ঠী! এ দিন শাশুড়িরা জামাইয়ের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণের জন্য পুজো দেন। জামাইকে আদর করে খাওয়ান। তবেই কিছু মুখে তোলেন। জামাইষষ্ঠীর আয়োজনে কোনও কমতি রাখা পছন্দ করতেন না সে কালের শাশুড়িরা। আর এখনও সেই নিয়মই চলেছে। বদলেছে শুধু মোড়কটা। জামাইরাও কিন্তু এই দিনটি দিব্যি উপভোগ করেন। এই কর্পোরেট সংস্কৃতির মধ্যেও জামাইষষ্ঠী দিব্যি বাঙালিয়ানাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

আগে জামাইষষ্ঠীতে বাড়িতেই হত এলাহি আয়োজন। সকাল থেকে বাড়িতে আসত থলিভর্তি বাজার। তার পরে হেঁশেলে তৈরি হত নানাবিধ পদ। জামাই এলে তাঁকে বরণ করে প্রথমেই দেওয়া হত ফলার। তারপরে দুপুরে বসত ভূরিভোজের আসর। সারা দিন উপোস করেও জামাই-আদরে কোনও রকম খামতি রাখতেন না শাশুড়িরা। তবে এখনকার ‘স্মার্ট’ শাশুড়িরা বাড়িতে নয়, জামাইবরণ করতে রেস্তরাঁমুখী হচ্ছেন। অনেকে রসিকতা করে বলতেই পারেন, দিন দিন শাশুড়িরা তবে কি অলস হয়ে পড়ছেন?

কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন রেস্তরাঁয় জামাইষষ্ঠীর দিন জামাই-শাশুড়ির ভিড় চোখে পড়ছে। জামাইষষ্ঠীর দিনে রেস্তরাঁর বাইরে শাশুড়ি-জামাই লাইন দিয়েছেন, এমন ছবিও ধরা পড়েছে। গড়িয়াহাটনিবাসী বছর তেষট্টির শুক্লা বসুর কথায়, ‘‘বছর দুয়েক হল মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সেই থেকেই মেয়ে-জামাইকে ষষ্ঠীর ভোজ খাওয়াই রেস্তরাঁতেই। ছোট ফ্ল্যাট, বাড়িতে আমি একা মানুষ, এত আয়োজন একা হাতে করা সম্ভব হয় না।’’

সারা দিন উপোস করেও জামাই-আদরে কোনও রকম খামতি রাখতেন না শাশুড়িরা।

সারা দিন উপোস করেও জামাই-আদরে কোনও রকম খামতি রাখতেন না শাশুড়িরা। ছবি: সংগৃহীত।

রেস্তরাঁগুলিতে এখন জামাইষষ্ঠীর বিশাল আয়োজন করা হয়। শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, শাশুড়ির জামাইবরণে যেন কোনও রকম খামতি না থাকে, এখন সেই দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিচ্ছেন তাঁরা। ফলারের ব্যবস্থা থেকে কুলো সাজানো, হাতপাখা থেকে ফুলের মালা— জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে সব রকম ব্যবস্থাই থাকছে রেস্তরাঁগুলিতে। তবে আজকের শাশুড়িরা এই বিষয়ে অলস, এ কথা মানতে নারাজ বেলেঘাটানিবাসী রাহুল বসু রায়। তিনি বলেন, ‘‘শাশুড়িমায়ের বয়স হয়েছে, উনি প্রতিবারেই বাড়িতে আয়োজন করেন, তবে এ বছরটা আমরাই বলেছি রেস্তরাঁয় গিয়ে উদ্‌যাপন করার কথা।’’

রেস্তরাঁগুলিতে বাহারি পদগুলি সুন্দর করে সাজিয়ে থরে থরে পরিবেশন করা হয়। এইসব সুস্বাদু খাবার অবশ্য বাড়িতেও বানানো সম্ভব। কিন্তু একটা দিন একটু বাইরে গিয়েই উদ‌্‌যাপন করতে পারলে ক্ষতি কি! তা ছাড়া এখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের যুগ। উদ্‌যাপন ছোট হোক বা বড়, ছবি তুলে ঘটা করে সমাজমাধ্যমে জানাতেই হবে। তার জন্য সুন্দর করে সাজানোগোছানো রেস্তরাঁগুলি আরও বেশি করে টানে সকলকে।

এ বছর কোন কোন রেস্তরাঁয় গিয়ে জামাইবরণ করতে পারেন? কোথায় থাকছে কী মেনু?

চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি

জামাইকে সাজিয়ে-গুছিয়ে বাঙালি খাবার খাওয়াতে চান? তা হলে ঘুরে আসতে পারেন দেশপ্রিয় পার্কের চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি থেকে। অন্য রকম ফিশ ফ্রাই, হাঁসের ডিমের ডেভিল, আম কাসুন্দি ভেটকি, মরিচ মাংসের মতো একটু অন্য স্বাদের বাঙালি খাবার খেতে হলে এই রেস্তরাঁটি রাখতেই পারেন পছন্দের তালিকায়।

অওধ ১৫৯০

জামাই বিরিয়ানিপ্রেমী? বিরিয়ানি বললেই তো লখনউয়ের নবাবী ঘরানার কথা মনে পড়ে। কলকাতায় বসে এই লখনউ ঘরানার বিরিয়ানির স্বাদ মিলবে অওধ-এ। জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে সেখানে বিরিয়ানির বিপুল সম্ভার যেমন থাকছে, তেমনই যাঁরা নিরামিষ খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্যও থাকছে নানা পদ। আচারি পনির টিক্কা, মাশরুম গালৌটি কবাব, আওয়াধি হান্ডি বিরিয়ানি, মুর্গ কলমি কবাব তো রয়েছেই, সঙ্গে থাকছে ফিরনি, শাহি টুকরার মতো শেষ পাতে মিষ্টিমুখের আয়োজন। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এবং শহরতলিতেও রয়েছে এই রেস্তরাঁর শাখা।

সোশ্যাল কিচেন

জামাইকে থালায় বাহারি পদ সাজিয়ে খেতে দিতে চান? এয়ারপোর্টের ধারে হলিডে ইন হোটেলের সোশ্যাল কিচেন রেস্তরাঁয় সেই ব্যবস্থাই করা হয়েছে। জামাইষষ্ঠীর দিন সেখানে পাবেন দু’রকম থালি। জামাই বা বৌমা মহারাজা থালি আর জামাইবাবুর থালি। জামাইবাবুর থালিতে থাকছে গন্ধরাজের ঘোল, পোস্ত পেঁয়াজের বড়া, লাল শাক, শিলে বাটা মুরগি, এঁচোড়ের কালিয়া, বরিশালি পাবদা ঝাল, ঠাকুরবাড়ির কষা মাংসের মতো বাহারি পদ। মহারাজা থালিতে এই সবের পাশাপাশি পাবেন সর্ষেপোস্ত ইলিশের মতো পদও।

আমিনিয়া

জামাইষষ্ঠীর জন্য আমিনিয়ার দরবারে থাকবে বিশেষ আয়োজন। মোগলাই খাবারের বিশেষ প্ল্যাটার থাকছে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে। নানা রকম প্ল্যাটারের আয়োজন করেছে আমিনিয়া। ৪ থেকে ৬ জনের জন্য সাজানো হবে সেই প্ল্যাটার। থাকবে জামাইষষ্ঠী স্পেশ্যাল মটন প্ল্যাটার, জামাইষষ্ঠী স্পেশ্যাল চিকেন প্ল্যাটার, জামাইষষ্ঠী স্পেশ্যাল হায়দরাবাদি প্ল্যাটার, জামাইষষ্ঠী স্পেশ্যাল লখনউ প্ল্যাটার। রকমারি বিরিয়ানির সঙ্গে বাহারি কবাব দিয়েই জমবে ভোজ।

সপ্তপদী

জামাইষষ্ঠী উদ্‌যাপনের জন্য বেছে নিতে পারেন সপ্তপদীকেও। এই রেস্তরাঁয় থাকছে জামাইবরণের ব্যবস্থা। স্পেশ্যাল মেনুতে থাকছে শুক্তো, পনির কড়াইশুঁটির ডালনা, ডাব ইলিশ ভাপা, সর্ষে ইলিশ, চিংড়ি মালাইকারি, মটন ঘটিগরম, আমের পায়েসের মতো লোভনীয় সব পদ।

সংক্ষেপে
  • বাঙালির জামাইষষ্ঠীতে জামাই-আদরের বিষয়টি বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়ে।
  • একটা গোটা দিন উৎসর্গ করা হয় শুধুমাত্র জামাইয়ের জন্য, এমন সৌভাগ্য কেবল বাঙালি জামাইদেরই রয়েছে।
  • জামাইষষ্ঠী তো শুধু নিয়মপালন নয়, এ যেন ভোজনরসিকদের উৎসব। ভূরিভোজের সব ব্যবস্থাই থাকে পাকা। নিয়মকানুনের অনুষঙ্গে থাকে রকমারি খাবার।
Jamai Sasthi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy