তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আবার গেল সিআইডির দল। সোমবার বিকেলে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের কয়েক জন সদস্য অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছোন। তবে মূল ফটক বন্ধ থাকায় বাইরেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। জানা গিয়েছে, সোমবারও অভিষেককে নোটিস দিতে গিয়েছিল সিআইডি। তবে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারেনি তারা। বাইরে থেকেই অভিষেকের অফিসের এক কর্মীর হাত দিয়ে নোটিস পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষণ পর অভিষেকের সই করে দেওয়া সেই নোটিস সিআইডির হাতে পৌঁছে দেন ওই কর্মী। তিনি জানান, অভিষেক অসুস্থ। যদি মঙ্গলবার সিআইডি আসত, তবে হয়তো অভিষেক নিজে এসে নোটিস নিতে পারতেন।
সই-কাণ্ডের তদন্তে তৎপর সিআইডি। দিন দুয়েক আগেই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে হাজির হয়েছিল তারা। নোটিস পাঠিয়ে সোমবার ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল তৃণমূল সাংসদকে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দু’সপ্তাহ সময় চান অভিষেক। তবে সোমবারই তাঁর বাড়ি হাজির হয় সিআইডি।
প্রসঙ্গত, সই-সঙ্কটে ভুগছে তৃণমূল। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে তাদের। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করছে সিআইডি। উল্লেখ্য, পরে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল।
সেই তদন্তের সূত্র ধরে শনিবার অভিষেকের বাড়িতে যায় সিআইডি। প্রথমে বোঝা যায়নি কেন রাজ্যের গোয়েন্দা দল তৃণমূল সাংসদের বাড়ি গিয়েছে। পরে জানা যায়, সই-কাণ্ডের তদন্তে নোটিস ধরাতে গিয়েছিল তারা। সোমবার বেলা ১২টায় অভিষেককে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল। যদিও তৃণমূল সাংসদ সিআইডি-কে চিঠি পাঠিয়ে জানান তিনি হাজিরা দিতে পারছেন না। অভিষেকের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণেই ভবানী ভবনে হাজিরা দিচ্ছেন না অভিষেক। ওই সূত্রের দাবি, অভিষেকের ডান দিকের চোয়াল, ঘাড় এবং বুকের আশপাশে এখনও ব্যথা রয়েছে। আপাতত বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। হাজিরার জন্য সিআইডি-র কাছে অভিষেক ১৪ দিন সময় চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তার মধ্যে সোমবারই অভিষেকের বাড়িতে গেল সিআইডি-র দল।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক। ওই দিন রাতেই বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেককে। সেখানে চিকিৎসা না-হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে পরে মিন্টো পার্কের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি করানোর মতো গুরুতর শারীরিক পরিস্থিতি নয়। অভিষেককে বাড়িতেই বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।