×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ মে ২০২১ ই-পেপার

কন্টেনমেন্ট জোনে লকডাউন থাকবে ৭দিন, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৮ জুলাই ২০২০ ১৬:৩০
সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফের কড়া ভাবে লকডাউন বিধি কার্যকর করার কথা মঙ্গলবার জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু কত দিন লকডাউন জারি থাকবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আজ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ‘‘সাত দিনের জন্য এই লকডাউন চালানো হবে। তার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ পাশাপাশি মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরোলে পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুুন করে কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে লকডাউন শুরু হচ্ছে আগামিকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে। কোথায় কোথায় লকডাউন চলবে, তার তালিকাও দেওয়া হয়েছিল রাজ্য প্রশাসনের তরফে। কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কন্টেনমেন্ট জোনের তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা একটু বেশি করে দেখিয়েছে। সব জায়গার নাম দেখছি। রাস্তা বা ঠিকানা ধরে কন্টেনমেন্ট এলাকা ঠিক করার কথা। এ তো পুরো ওয়ার্ডকেই কন্টেনমেন্ট জোন করে দিয়েছে। কে করেছে এই তালিকা। জেলাশাসক কি সব এলাকা চেনেন? কলকাতার তালিকা নিয়ে তো আমি কিছু বলিনি। ’’ এরপর মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘এই দুই জেলার তালিকা ভাল করে রিভিউ করে তার পর বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন।’’

বুধবার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আরও কী প্রয়োজন, পরিকাঠামোর কী উন্নতি দরকার, সে বিষয়ে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নিজেও কিছু পরামর্শ দেন তাঁদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি চাই চিকিৎসা ভাল হোক, তার জন্য কী দরকার বলুন।’’ করোনার পাশাপাশি অন্য রোগীদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করার কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, ‘‘সব রোগীকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকেই এটা করতে হবে।’’ হাসপাতালে সংক্রমণে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্য দিকে চিকিৎসকদের তরফে আর্জি জানানো হয়, ডাক্তারি পড়ুয়াদের কেরিয়ারে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি যেন রাজ্য সরকার দেখে। মুখ্যমন্ত্রী সেই আর্জিতে সহমত জানিয়ে বলেন, ‘‘শুধু চিকিৎসক নয়, করোনার জন্য কোনও পড়ুয়ার অ্যাকাডেমিক কেরিয়ারেই কোনও সমস্যা হবে না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: বেড়েই চলেছে সংক্রমণ, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২২৭৫২, সুস্থ ১৬৮৮২

আরও পড়ুন: ‘রাজনীতি করলেও টপে যাবে সৌরভ’, জন্মদিনে জল্পনা উস্কে দিলেন ডোনা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু তার পরেও অনেকে মাস্ক পরছেন না বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীও সেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন পুলিশকে। তিনি বলেন, ‘‘অনেকেই মাস্ক পরছেন না। কিন্তু মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরনো যাবে না। পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। আমি তো জরিমানা আদায়ের কথা বলতে পারতাম। ২০০০ টাকা জরিমানা করতে পারি। কিন্তু এই সময়ে সেটা কেউ দিতে পারবেন?’’ এর পরেই পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মাস্ক না পরে বাইরে দেখলেই বাড়ি পাঠিয়ে দিন।’’

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য:

• আমার মনে হল, ঢুকিয়ে দিলাম, সেটাই করা হয়েছে

• উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার তালিকা আবার রিভিউ করে তারপর দেবে

• সব জায়গার নাম তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, কে করেছে এই সব

• এই তালিকার সঙ্গে আমি একমত নয়

• কিন্তু আমার মনে হয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা একটু বেশি করে দেখিয়েছে

• কলকাতার তালিকায় তো কোনও সমস্যা নেই

• দক্ষিণ ২৪ পরগনার কন্টেনমেন্ট জোনের এই তালিকা দেখে আমার সন্দেহ হচ্ছে

• এই লকডাউন আরও ৭ দিন থাকবে, তার পরে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

• সরকারি ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কন্টেনমেন্ট জোনের তালিকা দিন (নির্দেশ মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্রসচিবকে)

• কন্টেনমেন্ট জোনে লকডাউন হচ্ছে, কিন্তু তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে

• কিছু জায়গায় সংক্রমণ বাড়ছে বলে লকডাউন করা হচ্ছে

• পুলিশকে বলুন, মাস্ক না পরলেই যেন বাড়ি পাঠিয়ে দেয়

• আমি জরিমানা করতে পারি, কিন্তু সেটা ভাল হবে না

• পুলিশকেও কড়া ব্যবস্থা নিতে বলুন, মাস্ক না পরলেই ব্যবস্থা

• কিছু জায়গায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে বলে লকডাউন করছি আমরা

• আমাদের একজন পুলিশ অফিসার মারা গিয়েছেন, ৪২ বছর বয়স

• চিকিৎসকদের বলছি, আপনারা ভাল করে খাওয়া-দাওয়া করুন, ভাল করে বিশ্রাম নিন

• আশা কর্মীদের বিশেষ চাদর দেওয়া হয়েছে

• ডাক্তারি পড়ুয়াদের অ্যাকাডেমিক কেরিয়ারে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি দেখবে সরকার

• আপনারা নিজেরা তো চিকিৎসক, কথা বলুন রোগীর সঙ্গে

• সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকেই দেখতে হবে

• করোনা ছাড়া অন্য রোগীদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে

• চিকিৎসার কাজে সব রকম সাহায্য করব

• আমি চাই ভাল পরিষেবা, কী করতে হবে বলুন

• হাসপাতালে সংক্রমণেও অনেকের মৃত্যু হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না

• চিকিৎসা করতে কোনও সমস্যা হলে সেটাও বলুন

• আর কী কী চাই আপনাদের, বলুন

• করোনা সংক্রমণ রুখতে মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে

Advertisement