নিজের ভাঁড়ারে জোগান নেই। কিনতে হলে খরচ কয়েকশো কোটি। লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট অগ্রাধিকারে থাকায় পঞ্চায়েতে ভোটযন্ত্র দিতে তেমন আগ্রহও নেই নির্মাতাদের। ফলে ভোটযন্ত্র জোগাড়ে ব্যর্থ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শেষ ভরসা সেই ব্যালট পেপার।
আসন্ন মে-জুনের পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য ভোট হবে প্রায় ৬০ হাজার বুথে। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের তিনটি স্তরে ভোটযন্ত্রে ভোট নিতে হলে প্রতি বুথে তিনটি করে ব্যালট ইউনিট এবং অন্তত একটি কন্ট্রোলিং ইউনিট প্রয়োজন। এত সংখ্যক ইভিএম রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই।
ভোটযন্ত্রে ভোট নিতে হলে হয় যন্ত্র কিনতে হত, অথবা ভিন্ রাজ্য থেকে তা আনার ব্যবস্থা করতে হত। যন্ত্র কিনতে হত ইভিএম প্রস্তুতকারক সংস্থা ইলেকট্রনিক কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (ইসিআইএল)-এর উপর। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেল (ভিভিপ্যাট) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ভিভিপ্যাট তৈরি করে তা দেশের সমস্ত ভোটযন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজেই ওই সংস্থা ব্যস্ত। কোনও রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের জন্য আলাদা যন্ত্র তৈরি করার সময় নেই তাদের বলে কমিশনের এক আধিকারিকের দাবি।
জোগানের পাশাপাশি রয়েছে ইভিএমে ভোট নেওয়ার বিপুল খরচও। ইভিএমে ভোট করলে তার যে খরচ পড়বে তা মেটাতে রাজি নয় নবান্ন। যে ভাবে আগের পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোয়াতেন নিয়ে কমিশন-রাজ্য লড়াই আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছিল, সেই অভিজ্ঞতা এ বারও ভাবিয়েছে কমিশন কর্তাদের। তাই ভোটযন্ত্রের কথা না ভেবে আপাতত ব্যালট পেপারেই ভোট করাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ব্যালট বাক্সও আনা হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে খবর, নবান্ন ভোটপ্রস্তুতির অগ্রিমও কমিশনকে দিয়েছে। জেলাশাসকদের কাছে নির্বাচনী খরচের বাজেট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে খরচ হয়েছিল দু’শো কোটির বেশি। এ বার তা তিনশো কোটি ছাড়াবে বলে মনে করছেন কমিশন কর্তারা।