তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী অর্ণবকান্তি দাস বুধবার ভবানীপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে থানা, প্রশাসনিক ভাবে তা জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ মে অভিষেকের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডল থেকে করা একটি পোস্টকে ঘিরে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছে যা, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এক জন সাংসদ হিসেবে সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার শপথ নেওয়ার পরেও অভিষেক সমগ্র গুজরাতি সম্প্রদায়কে একটি ‘গ্যাং’ বা অপরাধী চক্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়কে অপমান করে না, বরং দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির উপরেও সরাসরি আঘাত হানে। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুজরাতি সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্পোন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই সম্প্রদায়কে ঢালাও ভাবে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ বলেই মত অভিযোগকারীর।
আরও পড়ুন:
অভিযোগে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ভিন্ন হলে এবং তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে বসবাসকারী গুজরাতি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারত। ফলে এই পোস্টকে ঘিরে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ওই পোস্টে অভিষেক নাকি কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ রোখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মতভেদ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও, কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাকে অপমান করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী একটি সংবেদনশীল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদের মুখে এমন মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।
এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের ওই এক্স পোস্টের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে তাঁর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থীর হলফনামার নথিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।