কলকাতার পুর এলাকায় ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হলেও সপ্তাহে সোম থেকে শনি, স্কুলে কবে কী মেনু হবে, এখনও ঠিক হয়নি বলে জানাচ্ছেন ইসকন কর্তৃপক্ষ। বুধবার ইসকন, কলকাতার ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস বলেন, “সোম থেকে শনি কী মেনু করা হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বাদ, স্বাস্থ্য বজায় রেখে ছোটদের পছন্দের মেনু ঠিক করতে সময় লাগবে। সমাজমাধ্যমে ইসকনের বলে যে সব মেনুর তালিকা ঘুরছে তা আমাদের অনুমোদিত নয়। আমি এর প্রতিবাদ করেছি। এটা বলছি, ইসকন ছোটদের পুষ্টির বিষয়ে কোনও আপস করবে না। সয়াবিন, পনির দেওয়া হবে। রান্নায় শুদ্ধ ঘি থাকবে।”
প্রশ্ন উঠছে, পড়ুয়া-পিছু ১০ টাকা বরাদ্দে কি আদৌ ইসকনের খাবারের মানের মাপকাঠি বজায় রাখা সম্ভব? রাধারমণের আশ্বাস, “এখানে কত টাকা বরাদ্দ সেটা বিষয় নয়। ইসকন খাবারের গুণগত মানে আপস করে না। আমাদের ভক্তেরা অনেকে অনুদান দেন। দরকারে সেখান থেকে সাহায্য নেওয়া হবে।”
মিড-ডে মিলে আমিষ-নিরামিষ বিতর্কও বহাল। স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণের এ দিনের দাবি, “মিড-ডে মিলে নিরামিষ খেলেও বাড়িতে তো ছোটরা রোজকার খাবারই খাবে। তা হলে আমিষাশীদের নিরামিষ খাইয়ে খাদ্যাভ্যাস পাল্টানোর প্রশ্ন কী করে ওঠে?” শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, যে-কোনও ভাবে নিরামিষ চাপাতে চাইছে রাজ্য সরকার। অনেক হতদরিদ্র ঘরে স্কুলের মিড-ডে মিলটুকুই প্রধান। দিনের অন্য সময়ে সে ভাবে পুষ্টিকর খাবার কার্যত ছোটদের জোটে না। মিড-ডে মিলে ডিম বা আমিষ ব্রাত্য রাখা বাংলার প্রচলিত খাদ্য সংস্কৃতি বহির্ভূত।
কিছু স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, আগে সপ্তাহে যে দু’দিন ডিম দেওয়া হত, নিরামিষভোজী পড়ুয়া থাকলে তারা অন্য তরকারি বা আলুসেদ্ধ পেত। সবাইকে নিরামিষ খেতে বাধ্য করা মানে তো নিরামিষ চাপানোই হল। তবে কেউ কেউ বলছেন, পুরো বিষয়টি তো সবে পরীক্ষামূলক ভাবে (পাইলট প্রজেক্ট) চালু হচ্ছে। ছোটরা ইসকনের নতুন মেনু কতটা স্বাগত জানায়, সেটা দেখা যাক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)