Advertisement
E-Paper

দ্রুত দেড় হাজার কোটির প্যাকেজ চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের দাবি, ২১ জানুয়ারি দেশে করোনা-পরিস্থিতির সূচনা হয়। কিন্তু কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজ্যে ‘অ্যাডভাইসরি’ বা পরামর্শ পাঠায় কিছুটা দেরিতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ০৩:৩৮
আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

করোনা-আবহে কেন্দ্র থেকে এখনও কোনও সাহায্য আসেনি বাংলায়। এ কথা জানিয়ে বুধবার প্রাথমিক ভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার গোটা দেশে ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ দিন জানান, ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা যায় কি না, সেটা বিবেচনা করবে সরকার।

রাজ্যের দাবি, ২১ জানুয়ারি দেশে করোনা-পরিস্থিতির সূচনা হয়। কিন্তু কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজ্যে ‘অ্যাডভাইসরি’ বা পরামর্শ পাঠায় কিছুটা দেরিতে। ফলে করোনা-মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বরাত দিতে দেরি হয়েছিল। কিন্তু বার বার বলার পরেও কেন্দ্র থেকে রাজ্য এখনও তেমন সহযোগিতা পায়নি বলে এ দিনও আক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঋণ পরিশোধ বাবদ ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করার পরেও করোনা মোকাবিলায় ২০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করতে হয়েছে রাজ্যকে। অসংগঠিত শ্রমিকদের এককালীন অর্থসাহায্য, অঙ্গনওয়াড়ি এবং মিড-ডে মিল উপভোক্তাদের চাল-আলু, খাদ্যসাথীর আওতায় উপভোক্তাদের ছ’মাস নিখরচায় পাঁচ কেজি করে চাল-গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকারকে। ফলে আর্থিক দিক থেকে খুবই সমস্যায় পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে করোনা-মোকাবিলা খাতে আর্থিক প্যাকেজ দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। খাদ্যদ্রব্য, অসংগঠিত ক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ প্যাকেজ দেওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভাঁড়ার প্রায় শূন্য। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। অর্থনৈতিক বিপর্যয় চলছে। এই পরিস্থিতিতে ঋণ মকুব চেয়েছি। করোনা-প্রভাবিত সব রাজ্যকেই আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া উচিত। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গকে। কারণ তার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। দেড় হাজার কোটি টাকা এখনই চেয়েছি। ঋণ মকুব করলে খুশি হব। এই মর্মে সর্বদলীয় প্রস্তাবও পাঠিয়েছি প্রধানমন্ত্রীকে।’’

করোনা-ত্রাণে গড়া ‘ইমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ডের’ অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএস কোড এ দিন ঘোষণা করেন মমতা। এই তহবিলে যে-কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা অর্থসাহায্য করতে পারেন। নবান্নের খবর, শুধু সাধারণ মানুষের দানেই ৪৮ ঘণ্টায় ওই তহবিলে সংগ্রহের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থ দফতরের আধিকারিক খালেদ আনোয়ার নগদ এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা সঞ্জয় বনশল পণ্য বা সামগ্রী নেওয়ার বিষয়টি তদারক করছেন।

মঙ্গলবার রাজ্যে ‘কমপ্লিট সেফটি রেসট্রিকশন্স’ বা বাধ্যতামূলক নিরাপত্তাজনিত নিয়ন্ত্রণের সময়সীমা ২৭ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করেছিল রাজ্য। সে-রাতেই প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল মাঝরাত পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেন গোটা দেশে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্তের আগে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। করলে পরামর্শ

দিতে পারত রাজ্য। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ক্ষমতা আছে রাজ্যের। তাই জরুরি পরিষেবায় ছাড় দিয়েছি, যাতে মানুষের অসুবিধা না-হয়। আবার কিছু নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা যায় কি না, ৩১ মার্চ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’’

লকডাউনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী একটি গান লিখেছেন। ‘স্তব্ধ করো, জব্দ করো, করোনাকে ভয় পেয়ো না। ভিড় থেকে সব্বাই দূরে থাকো, করোনাকে ছুঁতে দেব না।’ এই গানের কথা ও সুর মুখ্যমন্ত্রীর। গেয়েছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২১ দিন ভেবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। নিজেকে একা ভাববেন না।’’

Mamata Banerjee Coronavirus Narendra Modi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy