মৃত্যু-আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী হারের মধ্যে শহরের দু’টি হাসপাতালের করোনা-ছবি শনিবার উদ্বেগ বাড়াল স্বাস্থ্য ভবনের। স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের (এসটিএম) এক কর্মী আক্রান্ত হওয়ায় শিকেয় উঠেছে সিসিইউ পরিষেবা। চিত্তরঞ্জন শিশু সদনে দু’জন প্রসূতি আক্রান্ত হওয়ায় সেখানেও জরুরি পরিষেবা ছাড়া আপাতত আর কিছু চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ আশিস মুখোপাধ্যায়।
এ দিন স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন করে মৃতের সংখ্যা ১১। তার মধ্যে ন’জনই কলকাতার বাসিন্দা। যার নিরিখে সরকারি মতে, করোনার কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯৯। করোনার পাশাপাশি কো-মর্বিডিটির কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ধরলে রাজ্যে মোট করোনা পজ়িটিভ রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা হল ১৭১।
এসটিএম সূত্রের খবর, শুক্রবার সিসিইউয়ের এক কর্মীর করোনা ধরা পড়ে। ওই কর্মী যে আক্রান্ত, তা নিশ্চিত হওয়ার আগের দিনই মেডিসিনের এক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং পাইকপাড়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর রিপোর্টও করোনা পজ়িটিভ এসেছে। বস্তুত, এ পর্যন্ত এসটিএম যোগে মোট ন’জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। ভয়াল ভাইরাসের ধারাবাহিক আক্রমণে চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে অন্তত ৩০ জনকে কোয়রান্টিনে পাঠাতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশ। কোয়রান্টিনের সংখ্যা নিয়ে ডিরেক্টর প্রতীপ কুণ্ডুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‘সংখ্যাটা অনেক।’’ এমএসভিপি শুভাশীষ কমল গুহের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, জরুরি কলে রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন।
বঙ্গে করোনা
• মোট পরীক্ষা ৩৯,৩৬৮
• গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা ৩৬০১
• বর্তমানে সরকারি কোয়রান্টিনে ৫৪৭৮
• এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ১৮,৭৯৬
• বর্তমানে গৃহ কোয়রান্টিনে ১৪,৪৯০
• এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৬৬,৪৭৯
তথ্য-সূত্র: রাজ্য সরকার
আরও পড়ুন: রাজ্যে করোনার শিকার বেড়ে ৯৯, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১১
চিত্তরঞ্জন সেবাসদনের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, দুই করোনা আক্রান্ত প্রসূতি সোমবার ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। দু’জনের কারওরই কোনও উপসর্গ ছিল না। তাঁরা যে কলকাতার কন্টেনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা, তা পরে জানা যায়। তত ক্ষণে হাসপাতালের অনেকগুলি বিভাগ দু’জনের সংস্পর্শে চলে এসেছে। কন্টেনমেন্ট জ়োনের কথা জানাজানি হওয়ার পরে ওই দু’জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। এ দিন রিপোর্ট এলে পজ়িটিভ হওয়ার কথা জানা যায়।
অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘প্রায় ৩০ জন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়রান্টিনে পাঠাতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে আসা প্রসূতিদের যাতে ফেরানো না হয়, সে জন্য জরুরি বিভাগ অন্যত্র স্থানান্তর করানো হয়েছে।’’ কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনই অধ্যক্ষ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। দুই প্রসূতিকে রাজ্যের নতুন করোনা হাসপাতাল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
কন্টেনমেন্ট এলাকা
• কলকাতা ৩২৬ (+৫)
• উত্তর ২৪ পরগনা ৯২
• হাওড়া ৭৬
• দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৩০ (+৮)
• হুগলি ২৩ (+৫)
• পূর্ব মেদিনীপুর ৮(+১)
• পশ্চিম মেদিনীপুর ৬
• পূর্ব বর্ধমান ১(-১)
• নদিয়া ২(+১)
• মালদহ ৩
• জলপাইগুড়ি ৪
• দার্জিলিং ২
• কালিম্পং ২
তথ্য-সূত্র: রাজ্য সরকার
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, সেখানে এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনা সম্পর্কিত মোট ৫০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তার মধ্যে শিশু-সহ মোট ২০ জন করোনা পজ়িটিভ রোগী রয়েছেন। নতুন করোনা হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে যাতে অনুযোগ না দেখা দেয়, সে জন্য প্রতিদিনই সক্রিয় রয়েছেন হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের মন্ত্রী নির্মল মাজি। এ দিন ওই হাসপাতালে বহির্বিভাগ বন্ধ থাকা নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এ বিষয়ে নির্মল বলেন, ‘‘মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজির রোগীদের এনআরএস এবং আরজিকরে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে। স্ত্রীরোগে যাঁরা ভর্তি ছিলেন তাঁদের লেডি ডাফরিনে চিকিৎসা হবে। অঙ্কোলজির রোগীদেরও এনআরএস এবং আরজিকরের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থোপেডিকের রোগীদের এসএসকেএম এবং ন্যাশনালে পাঠানো হবে।’’ এ দিন থেকে নতুন করোনা হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে সিবি-ন্যাট পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, আরটিপিসিআর যন্ত্রেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি নির্মলের।
এদিন নবান্নে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নতুন করে শতাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ায় রাজ্যে মোট করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ জন সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন। ফলে এখন রাজ্যে অ্যাক্টিভ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৪৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)