দিল্লির নিজামুদ্দিনের জমাতে যাননি। কিন্তু ওই সময়ে নিজামুদ্দিন চিস্তির দরগায় চাদর চড়াতে গিয়েছিলেন মালদহের চাঁচলের সাত জন বাসিন্দা। নিজামুদ্দিনের তবলিগ ঘিরে হইচইয়ের মধ্যে এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। যদিও তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরে হোম কোয়রান্টিনে রাখা হয়েছিল। তাঁরা সুস্থই রয়েছেন। তবু নিশ্চিত হতে শনিবার লালারস পরীক্ষার জন্য তাঁদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। সাত জনকেই আপাতত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।
বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বাইরে থেকে যাতে কেউ এ রাজ্যে ঢুকতে না পারে, সে জন্য সীমানা সিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রতি দিনই দলে দলে শ্রমিকেরা জেলায় ফিরছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে ফেরার পরে তাঁরা স্বেচ্ছায় পুলিশকে কিছু জানাননি। খবর পেয়ে প্রথমে দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে বাকিদের হদিস মেলে। তাঁরা প্রত্যেকেই কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। নিজামুদ্দিন ফেরত ওই সাত জনের পাশাপাশি ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ এ দিনও ছিল। মহকুমা জুড়েই বেশ কিছু শ্রমিককে এ দিনও রাস্তা থেকেই ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়রান্টিনে’ পাঠায় পুলিশ। লকডাউনের মধ্যে কী ভাবে তাঁরা ফিরছেন সেই চর্চাও চলছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ মার্চ ওই সাত জন নিজামুদ্দিন চিস্তির দরগায় চাদর চড়াতে দিল্লি গিয়েছিলেন। ১৯ মার্চ তাঁরা চাঁচলে ফিরে আসেন। তখনও অবশ্য লকডাউন শুরু হয়নি। নিজামুদ্দিনের জমায়েত নিয়েও হইচই শুরু হয়নি। ফলে তাঁরা বিষয়টিকে সে ভাবে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু নিজামুদ্দিনের জমাত ঘিরে হইচই শুরু হতেই বিষয়টি তাঁদের প্রতিবেশীর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে। তার পরেই সকলকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে পরীক্ষার পরে হোম কোয়রান্টিনে রাখা হয়। চাঁচলের আইসি সুকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘ওঁরা ফিরে আসার পরে ১৪ দিন পেরিয়েছে। সকলে সুস্থই রয়েছেন। তবু প্রশাসন ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই ওঁদের মালদহে পাঠানো হয়েছে।’’ এ দিন পুখুরিয়া এলাকায় আট শ্রমিককে আটক করে পুলিশ। তাঁরা উত্তরপ্রদেশ থেকে বাইক নিয়ে ফিরছিলেন। মোথাবাড়ির ওই বাসিন্দাদের সঙ্গে সঙ্গে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়। চাঁচলেও ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা চার শ্রমিককে ইনস্টিটিউশনাল কোয়রান্টিনে রাখে পুলিশ। যদিও ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা সব শ্রমিককে ইনস্টিটিউশনাল কোয়রান্টিনে রাখা হচ্ছে কিনা বা পুলিশের নজর এড়িয়ে তাঁরা বাড়িতে ঢুকে পড়ছেন তা নিয়েও মহকুমা জুড়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।