পাঁচ বছর আগে বিধানসভা ভোটের আগে ডাক ছিল ‘নো ভোট টু বিজেপি’। তবে এ বার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) সামনে রেখে বিজেপি-র ‘চক্রান্ত’ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অপশাসনে’র বিরুদ্ধে বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তোলার ডাক দিলেন সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। পাশাপাশি, রাজ্যে ‘সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে’র বিপদ নিয়েও তিনি সরব হয়েছেন।
কৃষক, শ্রমিকের দাবি-দাওয়া, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনে সিপিএম-সহ বিভিন্ন বাম দলের পাশে লিবারেশনকেও দেখা যায়। এই সূত্র ধরেই দলের রাজ্য দফতরে দীপঙ্কর বুধবার বলেছেন, “সিপিএম-সহ অন্য বাম দলের সঙ্গে অনেক সময়ে আন্দোলনের প্রশ্নে আমরা এক সঙ্গে চলি। নির্বাচনটাও বড় আন্দোলন। সেখানেও বামপন্থীরা যাতে বৃহত্তর ভাবে এক সঙ্গে লড়তে পারে, সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।” তাঁর সংযোজন, “এসআইআর-এর মাধ্যমে যে তালিকা তৈরি হচ্ছে, সেখানে কত অস্বচ্ছতা থাকবে, কত মানুষের ভোটাধিকার চলে যাবে সেটাই প্রশ্ন। এই বারের ভোটে এসআইআর ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, দু’টোই চিন্তার। দলের রাজ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক হয়েছে। বাংলা দখল করতে বিজেপি-র চক্রান্ত এবং তৃণমূলের অপসাসনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।” বাম সূত্রের খবর, গত লোকসভা ভোটের পরে নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের মতো এ বার বিধানসভা নির্বাচনেও বামফ্রন্টের সঙ্গে লিবারেশনের আসন সমঝোতা দেখা যেতে পারে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো, সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিটে রেস্তরাঁ-কাণ্ডে সেখানকার এক কর্মীকে গ্রেফতারের মতো বিভিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি চলছে বলেও সরব হয়েছেন দীপঙ্কর। বাংলাদেশের ঘটনা-প্রবাহকে সামননে রেখে পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি, বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ-সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন তিনি। আর অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল করাকে স্বাগত জানিয়েই দীপঙ্কর বলেছেন, “এসআইআর নিয়ে রাজ্য সরকার প্রতিবাদ করছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। ভাল, পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র সচেতন সব মানুষের এই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে লড়া উচিত।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)