E-Paper

আরও দুই মৃত্যু, এসআইআর তরজা চলছেই

এসআইআর-এর নামে মানুষকে হয়রান করা, বিজেপির বিরুদ্ধে আতঙ্ক তৈরির মতো নানা অভিযোগ তুলে কমিশনে গিয়ে দাবিপত্র দিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চে’র তরফে প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু-সহ অন্যেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৫
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে যুব কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে যুব কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। —নিজস্ব চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) সামনে রেখে মৃত্যু, হয়রানি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অব্যাহত রইল রাজনীতির চড়া স্বর। দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় এসআইআর-আতঙ্ককেই দায়ী করেছে পরিবার এবং তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি-ও।

বাড়ি থেকে বুধবার হুগলির সপ্তগ্রামের স্বপন বাগদি (৩৬) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, স্বপনের শুনানির নোটিস এলাকারই একই নাম-পদবির অন্য এক জনকে পাঠানো হয়েছিল। ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার শুনানিতে গেলে ভুল ধরা পড়ে এবং স্বপনকে ফোন করে শুনানিতে ডাকা হয়। তিনি সেখানে যাননি। স্বপনের স্ত্রী প্রতিমা বাগদির বক্তব্য, “ফোন পেয়ে স্বমী মনমরা হয়ে পড়েছিলেন। এসআইআর-আতঙ্কে আত্মঘাতী হলেন।” প্রতিমা জানিয়েছেন, ভোটার কার্ড ছাড়া তাঁদের কোনও নথি নেই। পাশাপাশি, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডির জয়ন্তী সরকার (৫০) নামে এক জনের গত শনিবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। জয়ন্তীর স্বামী নাটারুর দাবি, ভোটার তালিকায় নামের গোলমাল থাকায় তাঁর স্ত্রীর গণনা-পত্র আসেনি। কয়েক দিন নানা জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করেও সমস্যার সমাধান না-হওয়ায় জয়ন্তী মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দু’টি মৃত্যুর জন্যই এসআইআর-আতঙ্ককে দায়ী করে সরব হয়েছে তৃণমূল। যদিও বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, রাজ্যে যে কোনও মৃত্যুর জন্যই কমিশনকে দায়ী করে রাজনীতি করছে তৃণমূল।

নির্বাচন কমিশন-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগ তুলেও ফের সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “কোনও আধিকারিক যাতে বিজেপির দালালের মতো কাজ না করেন, এই ‘গ্যারান্টি’ দিক কমিশন। বুথে বুথে বিএলএ-২ দিতে পারে না বিজেপি। কমিশনকে দিয়ে নির্দেশিকা দিতে হয়, বাইরের এলাকার লোকজনও বিএলএ হতে পারবেন।” এসআইআর-এর নামে মানুষকে হয়রান করা, বিজেপির বিরুদ্ধে আতঙ্ক তৈরির মতো নানা অভিযোগ তুলে এ দিন কমিশনে গিয়ে দাবিপত্র দিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চে’র তরফে প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু-সহ অন্যেরা। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, “ভুয়ো, মৃত, স্থানান্তরিতদের নাম কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছেন তৃণমূল নেতারা? জীবন্ত কারও নাম কাটা হলে কমিশনে অভিযোগ করুন, আদালতে যান।”

এরই মধ্যে এসআইআর-এ নোটিস দেওয়া এবং শুনানির মাঝের সময় বাড়ানো-সহ বিভিন্ন দাবিতে এ দিন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন যুব কংগ্রেসের নেতা অর্ঘ্য, গণ, কাশিফ রেজা প্রমুখ। তাঁদের অভিযোগ, গণনা-পত্রে মোবাইল নম্বর থাকা সত্ত্বেও বহু ভোটার এসএমএসের মাধ্যমে শুনানির নোটিস পাচ্ছেন না। শুনানি-পর্বের আগে তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে যাঁদের, তাঁদের তালিকা কেন প্রকাশ হয়নি, কত জন অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান মিলেছে, এমন সব প্রশ্ন তুলে আলিপুরে সার্ভে বিল্ডিংয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরে দাবিপত্র দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ-সহ অন্যেরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission TMC BJP Congress Special Intensive Revision

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy