Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

হাসনাবাদে উদ্ধার তৃণমূল নেতার বস্তাবন্দি দেহ, অভিযুক্ত সিপিএম

রাস্তার ধারে ধানখেত থেকে উদ্ধার হল যুব তৃণমূল নেতার বস্তাবন্দি দেহ। মৃন্ময় ঘোষ (৩৫) নামে ওই যুবক উত্তর ২৪ পরগনার বিশপুর আঞ্চলিক যুব তৃণমূলের

নিজস্ব সংবাদদাতা
হাসনাবাদ ১২ জুন ২০১৪ ০১:৩৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
মৃন্ময় ঘোষ।

মৃন্ময় ঘোষ।

Popup Close

রাস্তার ধারে ধানখেত থেকে উদ্ধার হল যুব তৃণমূল নেতার বস্তাবন্দি দেহ। মৃন্ময় ঘোষ (৩৫) নামে ওই যুবক উত্তর ২৪ পরগনার বিশপুর আঞ্চলিক যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই ঘটনায় সিপিএমের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে সিপিএমের বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনাস্থলে যান জেলার (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘একটি খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত চলছে। আমাদের অনুমান, শ্বাসরোধ করে মৃন্ময়কে মারা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক মহিলা-সহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাতে আর ফেরেননি হাসনাবাদের বিশপুরের বাসিন্দা মৃন্ময়বাবু। রাতে মোবাইলও স্যুইচ্ড অফ ছিল। এ দিন ভোরবেলায় গ্রামের লোকজন ধানের জমিতে বড় একটা বস্তা পড়ে থাকতে দেখতে পান। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বস্তা খুলতেই মৃন্ময়বাবুর মৃতদেহ বেরিয়ে পড়ে। তাঁর পরনে কোনও পোশাক ছিল না। গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো ছিল। এই ঘটনায় পুলিশ দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেন তৃণমূলের কয়েকশো নেতাকর্মী। মৃতদেহের পাশে দলীয় পতাকা পুঁতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের দাবি, এক সময়ে সিপিএম এলাকার খাস জমি দখল করেছিল। সেই জমি উদ্ধারের কাজ করছিলেন মৃন্ময়। তার জেরেই এই খুন। বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিস আলি বলেন, ‘‘মৃন্ময় খাসজমি উদ্ধার করে গরিব মানুষদের বিলিবণ্টন করছে বলে সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা করে ছেলেটাকে খুন করল।’’ নিহতের বাবা শিবদাসবাবুও সে কথাই বলেছেন।

সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মৃণাল চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘এই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরাও চাই, পুলিশ প্রকৃত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করুক।’’ দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিলে বেলা ১২টা নাগাদ দেহ উদ্ধার করতে পারে পুলিশ।

Advertisement

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃন্ময়বাবুরা চার ভাই বোন। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মৃন্ময়বাবু অবিবাহিত। গ্রামবাসীরা জানান, সম্প্রতি গ্রামে কেষ্টবাবু স্মৃতিস্তম্ভ থেকে শুরু করে বিশপুর পঞ্চায়েত যাওয়ার প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তা তৈরির বরাত পান মৃন্ময়বাবু। সেই কাজ দেখাশোনার জন্য দিনের অধিকাংশ সময় এলাকাতেই থাকতেন। মঙ্গলবার বিকেলে ভাগ্নিদের নিয়ে স্থানীয় বাইলানি বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন মৃন্ময়। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সেখান থেকে পূর্ব বিশপুর গ্রামের বাসিন্দা খগেন বরের বাড়িতে যান। রাত ৮টা নাগাদ বিশ্বনাথ বেরা নামে এক জনের মোটরবাইকে করে বেরোন মৃন্ময়। বিশ্বনাথবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সঞ্জিত জানার বাড়ি হয়ে কিছুটা এগিয়ে মোটরবাইক থেকে নেমে যান মৃন্ময়। নিহতের মা অন্নপূর্ণাদেবী বলেন, “রাত ৮টা নাগাদ একবার মোবাইলে ছেলের সঙ্গে কথা হয়। বাড়ি ফিরছে না দেখে রাত ১২টা নাগাদ ফের মোবাইলে ফোন করি আমরা। ফোন বন্ধ ছিল।’’

এ দিন গ্রামের এক মহিলার বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে বস্তাবন্দি দেহটি পড়েছিল। ওই মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে একাই থাকেন মহিলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ওই মহিলার সঙ্গে মৃন্ময়বাবুর যোগাযোগ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বস্তাবন্দি দেহ ঘিরে যখন বাড়ির সামনেই লোকজন ভিড় করেছেন, মহিলা তখন সারা বাড়িতে গোবর লেপছিলেন। পুলিশের অনুমান, তাঁর সঙ্গে এই ঘটনার যোগাযোগ থাকতে পারে। মহিলাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement