এত দিন হুগলি জেলার নানা প্রান্তে শাসকদলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলছিল বিরোধীরা। এ বার জাঙ্গিপাড়ায় তৃণমূল কর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠল সিপিএমের বিরুদ্ধে। অন্য একটি ঘটনায় বিজেপি নেতা ও তাঁর পুত্রবধূকে মারধরের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
বিজেপির দাবি, জাঙ্গিপাড়া মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সায়ন কোঙারের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালায় শাসক দলের লোকজন। তাঁর পুত্রবধূকে মারধর করা হয়। আহত পুত্রবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করে বাড়ি ফেরার পথে সায়নবাবুর উপরেও চড়াও হয় তৃণমূলের লোকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাঙ্গিপাড়া থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
বিজেপির হুগলি জেলা সহ সভাপতি স্বপন পাল বলেন, “জাঙ্গিপাড়ায় তৃণমূলের সন্ত্রাস অব্যাহত। আমাদের কর্মীদের প্রচারের কাজে বেরোতে দেখলেই তারা মারধর করছে।” অন্য দিকে, তৃণমূল নেতা দিলীপ যাদবের বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই।
বৃহস্পতিবার রাতে জাঙ্গিপাড়া থানার রাধানগর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ কুমারের বাড়িতেও হামলা চলে। অভিযোগ, সিপিএমের জোনাল কমিটির সম্পাদক হরপ্রসাদ সিংহরায়ের নেতৃত্বে কিছু সিপিএম সমর্থক ওই ঘটনায় জড়িত। হেনস্থা করা হয় তৃণমূল নেতার স্ত্রী মুনমুনকে। বাড়িতে ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। ওই এলাকারই তৃণমূল সমর্থক দুর্লভ দাসের বাড়িতেও হামলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। হরপ্রসাদ-সহ ২০ জন সিপিএম সমর্থকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়।
শুক্রবার সকালে দিলীপবাবু ঘটনাস্থলে এসে কল্যাণবাবুর সঙ্গে দেখা করেন। দিলীপবাবু বলেন, “জাঙ্গিপাড়া অঞ্চলে সিপিএম চিরকাল ধরেই সন্ত্রাস চালিয়ে আসছে। বাম জমানাতেও হামলা চালিয়েছে আমাদের কর্মীদের উপরে। এখনও সেই কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে।” নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং জেলাপ্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। হরপ্রসাদবাবুর অবস্য দাবি, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো। আমাদের দলীয় কর্মীদের উপরেই মারধর চালিয়েছে উপ প্রধানের দলবল। উল্টে আমাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে কুৎসা রটাচ্ছে।”