Advertisement
E-Paper

তাপস কই! ছাত্র খুনে গণরোষ আছড়ে পড়ল ডায়মন্ড হারবারের গ্রামে

মোষ চুরির অপবাদে আইটিআই ছাত্রকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ফুঁসছিল ডায়মন্ডহারবারের পূবপাড়া। ফুঁসছিল ডায়মন্ডহারবারের আর এক গ্রাম বাহাদুরপুর। আজ নিহত কৌশিকের মৃতদেহ গ্রামে ঢুকতেই সেই রোষ আছড়ে পড়ল পশ্চিমপাড়ায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০১৬ ১৫:৫৯

মোষ চুরির অপবাদে আইটিআই ছাত্রকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ফুঁসছিল ডায়মন্ডহারবারের পূবপাড়া। ফুঁসছিল ডায়মন্ডহারবারের আর এক গ্রাম বাহাদুরপুর। আজ নিহত কৌশিকের মৃতদেহ গ্রামে ঢুকতেই সেই রোষ আছড়ে পড়ল পশ্চিমপাড়ায়। পিটিয়ে খুনের মূল অভিযুক্ত, তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত সদস্য, পলাতক তাপস মল্লিককে না পেয়ে পশ্চিমপাড়া গ্রাম জুড়েই ভাঙচুর চালালেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। আগুন লাগানো হয় একটি বাড়িতে।

কৌশিক খুনের মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তাপস মল্লিককে গ্রেফতারের দাবিতে গত কাল থেকেই উত্তাল হচ্ছিল ডায়মন্ড হারবার। মঙ্গলবারত রাতেই ডায়মন্ড হারবার থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় ঘেরাও ওঠে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য তাপস মল্লিক ঘটনার দেড় দিন পরেও অধরা। তার জেরেই বুধবার তাপস মল্লিকের গ্রামে আছড়ে পড়ে জনরোষ। উত্তেজিত জনতা এ দিন হাজির হয় তাপসের বাড়িতে। তাঁকে না পেয়ে পাশের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর চালানো হয় পশ্চিমপাড়ার আরও কয়েকটি বাড়িতে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পৌঁছয় দমকলও। ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে ইতিমধ্যেই পুলিশ আটক করেছে। তবে গোটা গ্রামের পরিস্থিতিই থমথমে। পুলিশ পশ্চিমপাড়ায় টহল দিচ্ছে। কিন্তু তাপস মল্লিক গ্রেফতার না হলে ফের জনরোষ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই সেই চুরি যাওয়া মোষটি।

নিহত কৌশিক পুরকায়েতের বাড়িবাহাদুরপুরে। সোমবার অক্ষয় তৃতীয়ার পুজো উপলক্ষ্যে মাকে সঙ্গে নিয়ে পূবপাড়ায় মাসির বাড়ি এসেছিলেন কৌশিক। ঘুরতে ঘুরতে পাশের গ্রাম পশ্চিমপাড়ায় গিয়ে আচমকাই হামলার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কালীপুজোয় বলির জন্য কিনে আনা মোষটা নাকি চুরি করেছে কৌশিকই। এই অভিযোগে শুরু হয়ে যায় মারধর।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন মা, মাসিরা। লোকগুলোর পায়ে পড়ে আছাড়িপিছাড়ি কেঁদেছিলেন মা— ‘‘ওকে ছেড়ে দাও গো। এ ভাবে মারলে মরে যাবে! ও কেন মোষ চুরি করতে যাবে? ও তো কলেজে পড়ে।’’

লোকগুলো উল্টে মায়েরই চুলের মুঠি ধরে। হিড়হিড় করে টেনে সরিয়ে দিতে দিতে লাগিয়ে দিল দু-চার ঘা।

তেইশ বছরের ছেলে তখন পড়ে রয়েছে নিঃসাড়। মুখ-চোখ ঢেকে রক্তের স্রোত। তবু উন্মত্তের মতো পিটিয়েই চলেছিল পশ্চিমপাড়া গ্রামের একদল লোক। বলছে, তাদের গ্রামে কালীপুজোয় বলির জন্য কিনে আনা মোষটা নাকি চুরি করেছে এই ছেলেই। বাঁচাতে এসে মায়ের সঙ্গে মাসিও তখন বেদম মার খাচ্ছেন। ভারী টর্চ দিয়েও তাঁদের মারতে কসুর করছে না জনতা। ডায়মন্ড হারবারের পূর্বপাড়া গ্রামে এই মাসির বাড়িতেই গৃহপ্রবেশের নেমন্তন্ন খেতে আসা। হঠাৎ ঘিরে ধরল লোকগুলো। পেটাতে পেটাতে নিয়ে এল পশ্চিমপাড়ায়।

আরও পড়ুন:

ছেলেকে পিটিয়ে মারল ওরা, বৃথা কান্না মায়ের

এ বার মাকে দিয়ে সাদা কাগজে লেখানো হল মুচলেকা— ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আলুথালু মা সই করে দিলেন। মার থামল। রক্তে মাখামাখি কৌশিক পুরকাইত ওরফে শুভকে পাঁজাকোলা করে তুলে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলেন বাড়ির লোকেরা। আশা দিলেন না ডাক্তারবাবুরা। অগত্যা গভীর রাতে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতাল। গড়িয়াহাটের আইটিআই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রের প্রাণ বেরিয়ে
যায় সেখানেই।

সোমবার রাতের এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে স্থানীয় হরিণডাঙা গ্রামের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য তাপস মল্লিকের। অভিযোগ, কৌশিককে পেটানোর সময়ে ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনিই। মৃতপ্রায় ছাত্রের মাকে দিয়ে মুচলেকা লেখানোর ফরমানটাও নাকি তাঁরই দেওয়া। ঘটনার পর ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে তাপস-সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে। এক মহিলাকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। জেরা করা হচ্ছে চার জনকে।

অথচ তাপসের খোঁজ মিলছে না! অন্তত পুলিশের তা-ই দাবি। কিন্তু এই দাবি মানতে নারাজ জনতা। তারই তীব্র ক্ষোভ আজ আছড়ে পড়ল পশ্চিমপাড়ায়।

Diamond Harbour Outrage Angry mob Ransacking Kaushik Purokait
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy