Advertisement
E-Paper

দোকান লাটে! প্রভাব কত দূর

গলি, তস্য গলির সেই বাড়িতে উপচে পড়া ভিড়ের রেশ সামাল দিতে এখন ব্যবসা লাটে উঠতে বসেছে বিজেপির নকশালবাড়ির ব্লক সভাপতি দিলীপ বারুইয়ের। কারণ, রাজু মাহালির বাড়িতে অমিত শাহের দুপুরের ভোজসভা আর তার পরে সাধনা মণ্ডলের বাড়ির বুথসভা যে বৃথা যায়নি, তা প্রমাণের মূল দায়িত্ব বর্তেছে তাঁর উপরেই।

কিশোর সাহা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০১৭ ০৪:০৮

গলি, তস্য গলির সেই বাড়িতে উপচে পড়া ভিড়ের রেশ সামাল দিতে এখন ব্যবসা লাটে উঠতে বসেছে বিজেপির নকশালবাড়ির ব্লক সভাপতি দিলীপ বারুইয়ের। কারণ, রাজু মাহালির বাড়িতে অমিত শাহের দুপুরের ভোজসভা আর তার পরে সাধনা মণ্ডলের বাড়ির বুথসভা যে বৃথা যায়নি, তা প্রমাণের মূল দায়িত্ব বর্তেছে তাঁর উপরেই। তাই সকালে দোকান খুলে বসছেন ঠিকই, কিন্তু ওই দোকানই হয়ে উঠেছে তাঁর পার্টি অফিস। ফলে অন্য কাজ চুলোয়।

দিলীপবাবুকে বিজেপির রাজ্য নেতারা বলে গিয়েছেন, ‘বুথ স্তরে অমিতজির সভায় যে বেশ প্রভাব পড়েছে, সেটা প্রমাণের জন্য ধারাবাহিক কাজ করে যেতে হবে!’ কিন্তু সেটা কত দূর সম্ভব হবে? ভিড়ের কথা শুনে প্রথমেই নকশালবাড়ি কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক শঙ্কর মালাকার বললেন, ‘‘একটা সাড়ে তিন ফুটের মঞ্চে চার জন উঠলে তো ভিড় মনে হবেই। তার মধ্যে শীর্ষ নেতার নিরাপত্তার জন্যই তো শতাধিক লোক সঙ্গে ছিল।’’ প্রায় একই কথা বলছেন কোটিয়াজোতের অনেকেই। বলছেন, রাজুর উঠোন আর কতটুকু! সেখানে রাজ্যের এত নেতা, এত নিরাপত্তাকর্মী জড়ো হলে তো ভিড় মনে হবেই। তবে তাঁরাও যে অনেকে ছিলেন, সেটাও স্বীকার করেছেন। কোটিয়াজোতই শুধু নয়, আশপাশের মণিরামজোত, হাতিঘিষার লোকও ছিল সেই ভিড়ে। যে কটি বাড়িতে বিজেপি নেতারা প্রচারে গিয়েছিলেন, তাঁদের বেশ কয়েক জন একান্তে জানান, নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখলে পরে সুফল মিলতে পারে। এক জন প্রবীণ বললেন, ‘‘কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। দার্জিলিঙের সাংসদও বিজেপির। আপদ-বিপদে দরকার পড়লে ওই ছবি দেখালে তাড়াতাড়ি সাহায্য মিলতে পারে।’’ যা শুনে শঙ্করবাবু বলেন, ‘‘এ সব হল গ্রামবাসীদের একঘেয়ে জীবনে কিছুটা ‘লাইভ বিনোদন’। এর রাজনৈতিক প্রভাব শূন্য।’’

পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘‘রাজুর বাড়িতে খেয়ে ওঁর স্বাভাবিক জীবনযাপনই প্রায় লাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। বেচারা ঘরদোর সারাতে হিমশিম খাচ্ছেন।’’ তাঁর দাবি, এর মধ্যেই এলাকার বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য সাধনা মণ্ডলের কয়েক জন প্রতিবেশী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সে দিন অমিতের সভায় সামনের সারিতে ছিলেন, এমন কয়েক জনও এর মধ্যে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। আর রাজু মাহালি? তিনি তো পার্টিই করতে নারাজ! এখানে বিজেপির সংগঠন যে দুর্বল, সেটা দিলীপ বারুই বা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রথীন বসুরা জানেন। তাই দিলীপবাবু বলেন, ‘‘বুথ ও আশেপাশে যতটা প্রভাব পড়েছে, তা এখন গোটা বিধানসভায় ছড়িয়ে দিতে দিনরাত কাজ করছি।’’ তাঁর আশা, ‘‘কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।’’ আর রথীনবাবুর কথায়, ‘‘প্রভাব কতটা পড়েছে, তা তৃণমূল অদূর ভবিষ্যতেই অনুভব করবে।’’

BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy