E-Paper

প্রত্যাবর্তনেই চেনা রূপে দিলীপ, শমীক সরব দুর্নীতি নিয়ে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার যে বিরোধিতা করছেন, তা নিয়ে দু’টি সভা থেকেই তীব্র কটাক্ষ করেছেন দিলীপ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৩
রানাঘাটে বিজেপির ' পরিবর্তন সঙ্কল্প সভা'য় দলের প্রাক্তন ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্য।

রানাঘাটে বিজেপির ' পরিবর্তন সঙ্কল্প সভা'য় দলের প্রাক্তন ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্য। — নিজস্ব চিত্র।

প্রায় আট মাস বাদে মঙ্গলবার দলের মূল স্রোতের মঞ্চে প্রত্যাবর্তন করেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চেনা মেজাজে সুর চড়ালেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এমনকি, গোপন করলেন না মন্ত্রিত্ব-বাসনাও! নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প ও ব্যারাকপুরে জোড়া পরিবর্তন সঙ্কল্প সভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে দিলীপের এমন মেজাজ রাজ্যে আসন্ন ভোটের আগে তাঁর সক্রিয়তার প্রাথমিক ধাপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শমীক। এই প্রেক্ষিতে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূলও।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার যে বিরোধিতা করছেন, তা নিয়ে দু’টি সভা থেকেই তীব্র কটাক্ষ করেছেন দিলীপ। তিনি বলেছেন, “উনি বলছেন সব উল্টে, পাল্টে দেবেন। সবাই জানে কী করবেন। কমিশনকে চিঠি দিয়ে বলছেন এসআইআর বন্ধ করুন। ভাইপো দিল্লিতে যাচ্ছেন। কান মলে দিয়েছে, আঙুল তুলেছে। এসআইআর সব রাজ্যেই হচ্ছে। ওঁরা লাফাচ্ছেন কেন?” গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে মমতার হার, মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান নির্বাচনী ক্ষেত্র ভবানীপুরে এসআইআর-প্রক্রিয়ার মতো নানা প্রসঙ্গ তুলেও সরব হয়েছেন দিলীপ। কার্যত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সুরেই দিলীপের বক্তব্য, “ভবানীপুরে সাড়ে ৪৪ হাজার ভুয়ো ভোটার বাদ গিয়েছে। দিদিমণি কত ভোটে জেতেন? কেন জেতেন আমরা জানলাম। নন্দীগ্রামে গেলেন, হেরে বাড়ি ফিরলেন।” রাজ্যে সামগ্রিক পরিবর্তনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি দিলীপ বলেছেন, “হ্যাঁ। আমরা গদি দখল করতে চাই, মন্ত্রিত্ব চাই। না-হলে চুরি বন্ধ হবে না। মন্ত্রী না-হলে গরিব মানুষের জন্য কী ভাবে কাজ করব?”

একশো দিনের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে নিশানা করেছেন শমীকও। বিধাননগরে দলীয় দফতর থেকে শমীকের অভিযোগ, “ব্যাপক দুর্নীতি, ভুয়ো জবকার্ড এবং তহবিল নয়ছয়ের কারণে প্রকৃত শ্রমিকেরা ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড চিহ্নিত হয়েছে, যা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ।” একশো দিনের প্রকল্পে কেন্দ্রের নতুন আইন তছরুপ রুখবে বলেও দাবি শমীকের।

একশো দিনের প্রকল্প নিয়ে যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনার পুরনো অভিযোগেই শাণ দিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি, দিলীপের বক্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “আমরা বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে দেব না বলেছি। ওঁর জানা উচিত, মৃত ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে। এটা নিয়ে আপত্তি থাকবে কেন?” দিলীপের মন্ত্রিত্ব-বক্তব্য নিয়ে কুণালের সংযোজন, “দিলীপ ঘোষ আরএসএস করা পুরনো মানুষ। মতাদর্শগত পার্থক্য আছে। কিন্তু ওঁর মুখ থেকে এই-ওই চাই, এটা মানানসই নয়। রাজ্যে তৃণমূল ছিল, আছে, থাকবে। উনি সাংসদ ছিলেন। কেন্দ্রে তাঁকে মন্ত্রী করা হয়নি কেন?”

পাশাপাশি, নদিয়ার উদ্বাস্তু-অধ্যুষিত এলাকার মানুষকে ফের আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক। নদিয়ার সভায় তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি যত দিন ভারতে আছে, হিন্দু উদ্বাস্তুদের উপর আক্রমণ হবে না। অসমে সংখ্যালঘু এ রাজ্যের থেকে বেশি। তার পরেও সেখানে দ্বিতীয় বার বিজেপি সরকার তৈরি হয়েছে। তৃতীয় বারও হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Samik Bhattacharya Dilip Ghosh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy