×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ জুন ২০২১ ই-পেপার

বন্‌ধের প্রভাব এ রাজ্যেও, জায়গায় জায়গায় রেল ও সড়ক অবরোধ

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৮ ডিসেম্বর ২০২০ ০৭:৫০
নদিয়ার শান্তিপুরে বন্‌ধ সমর্থকদের অবরোধ-বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র

নদিয়ার শান্তিপুরে বন্‌ধ সমর্থকদের অবরোধ-বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র

কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বন্‌ধে রাজ্যে মিশ্র প্রভাব। সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অবরোধ বিক্ষোভে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কোথাও রেল অবরোধ হয়েছে। সকালের দিকে যান চলাচল কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়তেই রাস্তায় নেমেছে সরকারি-বেসরকারি বাস ও অন্যান্য যানবাহন। খাস কলকাতায় যাদবপুরে ট্রেন অবরোধ করেন বাম সমর্থকরা। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে জমায়েত করেন বাম কর্মী-সমর্থকরা।

সোমবার উত্তরকন্যা অভিযানে দলীয় কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গ বন্‌ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। ফলে উত্তরবঙ্গে কার্যত জোড়া বন্‌ধ। তার জেরে প্রায় সর্বত্র জনজীবন বিপর্যস্ত। পথে নেমেছেন বিজেপি কর্মীরা। একাধিক জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

মহানগরের বন্‌ধ-ছবি

Advertisement

লাইভ আপডেট:

• জেলায় জেলায় অবরোধ-বিক্ষোভে বন্‌ধ সমর্থনকারীরা

• শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে অবস্থান বিক্ষোভ বাম কর্মী ও সমর্থকদের।

• আসানসোলে সরকারি বাস থেকে যাত্রীদের নেমে যাওয়ার আর্জি বন্‌ধ সমর্থকদের।

• বৌবাজারে ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার মোড়ে বিক্ষোভ আন্দোলনকারীদের।

• সকাল ৯টা বেজে ৭ মিনিটে যাদবপুরে অবরোধ উঠে যায়। অশোকনগরের বনগাঁ সেকশনে নতুন করে অবরোধ।

• সকাল ৯টা বেজে ১০ মিনিট নাগাদ রিষড়ায় অবরোধ উঠে যায়।

• সকাল ৯টা বেজে ৭ মিনিটে যাদবপুরে অবরোধ উঠে যায়। অশোকনগরের বনগাঁ সেকশনে নতুন করে অবরোধ। • ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে আলিপুরদুয়ারে। ভারত বন্‌ধের সমর্থনে সকাল থেকে দোকানপাট বন্ধ সেখানে। সরকারি বাস চললেও সংখ্যায় কম। বেসরকারি বাস চলাচল একেবারেই বন্ধ। চা বাগানগুলি খোলা থাকলেও, কর্মীর সংখ্যা কম।

• হুগলির রিষড়া স্টেশনে রেল অবরোধ করেন বাম সমর্থকদের।

• ভারত বন্‌ধের সমর্থনে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বাম কর্মী-সমর্থকদের।

• মধ্যমগ্রাম স্টেশনে রেল অবরোধ বাম কর্মীদের। আটকে আপ ও ডাউন ট্রেন। অবরোধের জেরে শিয়ালদা-বনগাঁ ও শিয়ালদা-হাসনাবাদ ট্রেন চলাচল ব্যাহত। মধ্যমগ্রামের দোলতলা মোড়ে যশোর রোড অবরোধ করেন বাম কর্মীরা। মিনিট দশেক প্রতীকী বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। মধ্যমগ্রাম চৌমাথা মোড়েও শুরু হয় অবরোধ।

• দাসনগরে শানপুর মোড় অবরোধ আন্দোলনকারীদেক।আটকে দেওয়া হল বাস।

• কেন্দ্রীয় কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ডোমজুর স্টেশনের কাছে রেল অবরোধ আন্দোলনকারীদের। কাঁধে লাঙল নিয়ে অবরোধ। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আমত- হাওড়া শাখায় ব্যাহত ট্রেন চলাচল। আটকে রয়েছে ডাউন আমতা-হাওড়া লোকাল।

• শিয়ালদহ শাখার ডায়মন্ড হারবারে রেল অবরোধ। হোটর এবং বারুইপুরের মধ্যে রেললাইনে কলাপাতা বিছিয়ে বিক্ষোভ।

• বাঁকুড়া গোবিন্দ নগর বাস স্ট্যান্ডে পরিবহণ শ্রমিকরা কৃষক আন্দোলনের পাশে। বাস চলাচল বন্ধ।



কাঁধে লাঙল নিয়ে রেল অবরোধ দাসনগরে। —নিজস্ব চিত্র।

• যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে বামপন্থী সংগঠনের জমায়েত। এলাকার মিছিল করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

• বীরভূমের রামপুরহাটে বন্‌ধের সমর্থনে মিছিল বাম এবং কংগ্রেসের।

• বাঁকুড়ার গোবিন্দনগরে রাস্তা অবরোধ বাম কৃষক সংগঠনগুলির।



• কৃষকদের ডাকা ধর্মঘটের সমর্থনে লেকটাউন, বাঙ্গুরের যশোর রোড অবরুদ্ধ। মোদী, আদানি-অম্বানীর কুশপুতুল দাহ। তার জেরে দীর্ঘ সময় যশোর রোডে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

• .যশোর রোড অবরোধ বামেদের। অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। মধ্যগ্রামে রেল অবরোধের কর্মসূচি তাঁদের।

• কলেজস্ট্রিট চত্বরের ট্রাম, বাস আটকে দিয়েছেন বন্‌ধ সমর্থকরা।

• বাঁকুড়ায় বাসের সংখ্যা কম। পুরুলিয়ায় বন্‌ধের আংশিক প্রভাব।

• ধর্মতলায় বাম ছাত্র-যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের সদস্যরা রাস্তা অবরোধ করছেন।

• ধূপগুড়িতে সরকারি বাস আটকে বিক্ষোভ বামেদের।

• বন্‌ধের সমর্থনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির দফতর বন্ধ থাকছে। কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণঅবস্থানের আয়োজন হয়েছে লেকটাউন মোড়ের সামনে। দুপুর সাডে় ১২টা নাগাদ সেখানে দেখা যাবে বিধায়ক সুজিত বসুকে। বিধাননগরের ১১৬ নম্বর বিধানসভা ওয়ার্ডের তৃণমূল-কংগ্রেসের তরফে এই কর্মসূচি রাখা হয়েছে।



• কৃষকদের সমর্থনে এ দিন সকাল ১১টায় এন্টালি মার্কেট থেকে মিছিল বেরোবে। তাতে অংশ নেবেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ ১৬টি বামপন্থী ও সহযোগী দলের নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতারাও মিছিলে অংশ নেবেন। এ ছাড়াও কলকাতা-সহ রাজ্যের সর্বত্র বন্‌ধের সমর্থনে মিছিল ও সভার আয়োজন হতে চলেছে।

কৃষকদের ডাকা ভারত বন্‌ধের আংশিক প্রভাব এ রাজ্যে। সকাল থেকেই শহরের রাস্তাঘাটে ব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সরকারি বাস ও গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে শহরের রাস্তায়। নীতির পরিপন্থী বলে সরাসরি বন্‌ধকে সমর্থন করেনি তৃণমূল। তবে কৃষকদের আন্দোলনে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সরাসরি বন্‌ধের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বাম-কংগ্রেস।

প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় কৃষকরা যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তার সমর্থনে বাংলায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সাড়া দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিজেপি-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই কৃষকদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন দলের তরফে গত কয়েক দিনে শহরের নানা জায়গায় পদযাত্রাও বেরোতে দেখা গিয়েছে। তবে আন্দোলনকারী কৃষকরা আগেই জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক পতাকা ছেড়ে যদি কেউ আন্দোলনে শামিল হতে চান, তবেই তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। তাই রাজনৈতিক আদর্শ সরিয়ে রেখেই কৃষকদের সমর্থনে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে নেতা-মন্ত্রীদেরও।

এমনকি কৃষকদের এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমবার মেদিনীপুরের সভা থেকেই জানিয়ে দেন, বন্‌ধ তাঁদের নীতির পরিপন্থী। ২০১১ থেকে একটাও বন্‌ধ সমর্থন করেননি তাঁরা। কিন্তু মঙ্গলবারের কৃষক আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তাঁর। কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে না পারলে বিজেপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবারের কৃষক আন্দোলনকে সম্পূর্ণ সমর্থন করছেন মমতা

ব্লকে ব্লকে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি। বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দলের নেতা-কর্মীদের ধর্নায় বসতেও নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement