E-Paper

ভাতায় রোজগার মাসে সাড়ে ১১ হাজার টাকা

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রানিহাটির শেখ শফিউল ইসলামের পরিবার সচ্ছল। পাঁশকুড়া স্টেশন বাজারে পারিবারিক বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দোকান থেকে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা রোজগার হয়। বিরোধীদের কটাক্ষ, আমজনতার করের টাকা এ ভাবেই বিলিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল সরকার।

সৌম্য প্রামাণিক

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০৯

—প্রতীকী চিত্র।

একান্নবর্তী পরিবার। সদস্য ১২ জন। তাঁদের মধ্যে আট মহিলাই রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ভাতা প্রাপক। আর সে ভাতা থেকে মাসে পরিবারের আয় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। বাড়ির এক ছেলেও এ বার ‘যুব সাথী’-তে আবেদন করেছেন। তিনি দেড় হাজার টাকা ভাতা পেতে শুরু করলে মাসিক রোজগার বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার টাকা।

অথচ, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রানিহাটির শেখ শফিউল ইসলামের পরিবার সচ্ছল। পাঁশকুড়া স্টেশন বাজারে পারিবারিক বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দোকান থেকে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা রোজগার হয়। বিরোধীদের কটাক্ষ, আমজনতার করের টাকা এ ভাবেই বিলিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল সরকার।

রাজ্য সরকারি ভাতার মধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ অন্যতম জনপ্রিয়। ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’, ‘বিধবা ভাতা’, ‘কৃষক বন্ধু’-সহ অন্য ভাতাও রয়েছে। এ বারও রাজ্য বাজেটে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ টাকা বেড়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে চালু হচ্ছে বেকার ভাতা ‘যুব সাথী’ ও খেতমজুরদের ভাতা। জেলায় জেলায় সে সব প্রকল্পে নাম লেখাতে লাইনও পড়ছে।

শেখ শফিউল ইসলামের পরিবারের মহিলাদের বেশির ভাগই লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রাপক। শফিউলের স্ত্রী, বৌমা, মেয়ে, শফিউলের ভাই শেখ মহম্মদ ইলিয়াসের এক মেয়ে, আর এক ভাই শেখ জাকির হোসেনের স্ত্রী, পুত্রবধূ এবং ছোট ভাই শেখ জানে আলমের স্ত্রী— সাত জন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বর্ধিত দেড় হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। ইলিয়াসের মৃত্যুর পরে, তাঁর স্ত্রী বেনজির বিবি বিধবা ভাতা পাচ্ছেন মাসে এক হাজার টাকা।

জাকির হোসেনের ছেলে শেখ রুহুল আমিন ‘যুব সাথী’র আবেদন করেছেন। রুহুল মানছেন, ‘‘ব্যবসার রোজগারে ভাল ভাবেই সংসার চলে যাবে। তবে সরকার তো সবাইকে দিচ্ছে।’’ জাকির অবশ্য বলেন, ‘‘আমাদের বড় পরিবার বলে টাকাটা অনেকটা মনে হচ্ছে। কিন্তু কেউ সরকারি চাকরি করে না। ফলে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। বাড়ির মেয়েদের হাতখরচও দিতে পারি না। সরকারি ভাতায় সেই প্রয়োজন মিটছে।’’

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনুস রিশিন ইসমাইল বলেন, ‘‘নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্য হলেই ভাতা পাবেন। বড় পরিবার হলে আইনত সকলের ভাতা পেতেও বাধা নেই।’’ তবে বিরোধীদের দাবি, ‘স্বনির্ভর বাংলা’র নামে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে সমাজের বড় অংশকে। রাজ্যে যেখানে বহু মানুষের মাসে ১০ হাজার টাকা রোজগার করতে কালঘাম ছুটছে, সেখানে ভাতাপ্রাপক হয়ে অনেকের কাজ করার মানসিকতা নষ্ট হচ্ছে।

বিজেপির তমলুক জেলার সহ-সভাপতি দেবব্রত পট্টনায়কের মতে, ‘‘রাজ্যে কাজ নেই। তাই মুখ্যমন্ত্রী সুকৌশলে কর্মক্ষমকে ভাতা দিয়ে পঙ্গু করে দিচ্ছেন। মানুষ নিশ্চয়ই এই ক্ষতিটা বুঝবেন।’’ কৃষকসভার জেলা সম্পাদক মহাদেব মাইতি বলেন, ‘‘শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দিনে ৬০০ টাকা করার দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানাচ্ছি। তাতে কান না দিয়ে কেবল ভাতা দিয়ে ভোট টানা হচ্ছে।’’

সমালোচনা উড়িয়ে তৃণমূলের তমলুক জেলা সভাপতি সুজিতকুমার রায়ের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘বিজেপিও তো কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলেছিল। কেউ পাননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Government Schemes West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy