E-Paper

জঙ্গলে আগুন, পুড়ে মৃত্যুও

বিষ্ণুপুর শহরের পোড়ামাটির হাটের কাছে চৌকানের জঙ্গলে এ দিন দুপুরেই আগুন লাগে। তখন সবাই মেতে বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে। হঠাৎই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৭:৪৬

—প্রতীকী চিত্র।

দোলের দিন, মঙ্গলবার আগুন লাগল পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের একাধিক জঙ্গলে। কোথাও পুড়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধার, কোথাও পুড়ল মেলার দোকান। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের পোড়ামাটির হাট লাগোয়া জঙ্গলেও আগুন লাগে এ দিন।

এ দিন দুপুরে ঝাড়গ্রাম থানার ছোট ডিডিহা গ্রামের বাঁশ বাগানে আগুন লেগে যায়। সেই আগুন ছড়ায় সংলগ্ন জঙ্গলে। স্থানীয় কল্পনা মাহাতো (৬৮) তখন ওই জঙ্গলে গিয়েছিলেন। তিনি ভাল ভাবে হাঁটতে পারতেন না। তাই আগুন লাগার পরে জঙ্গল থেকে বেরোতে পারেননি। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় বৃদ্ধার পরিজনেরা চেষ্টা করেও তাঁকে বের করতে পারেননি। দমকলের ইঞ্জিন আসার আগেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধার। পরে বৃদ্ধার দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম মেডিক্যালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়৷ ঝাড়গ্রাম জেলার ছোট ডিডিহা, টিয়াকাটি, আমলাচটি, আগুইবনি, পাথরা, আইটিআই হস্টেল মাঠ সংলগ্ন জঙ্গলেও আগুন লাগে এ দিন। ঝাড়গ্রাম দমকল কেন্দ্রের স্টেশন অফিসার কুন্তল সামুই বলেন, ‘‘ছ'টি জঙ্গলে আগুন লেগেছিল। আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।’’

এ দিন দুপুরে আগুন লাগে দিঘার মাইতি ঘাটের কাছে কেয়াগাছের জঙ্গলেও। দিঘা জগন্নাথ ধাম সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভায়। এ ক্ষেত্রে সিগারেটের আগুন থেকে বিপত্তি ঘটেছে বলে অনুমান দমকলের।

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি-৩ ব্লকের করলদায় চৌদ্দ মাদলের মেলায় একসঙ্গে প্রায় ১৫টি দোকান পুড়ে যায় এ দিন ভোরে। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দোল উৎসব উপলক্ষেই ওই মেলা বসেছিল। দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিটের কারণেই ওই আগুন লেগেছিল। কাঁথিতে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দীর্ঘদিনের পুরনো একটি সাব-স্টেশনেও আগুন লাগে এ দিন সকালে। সেখানেও দমকলের দু’টি ইঞ্জিন যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরে কেশিয়াড়ি থানার অন্তর্গত নাপো এলাকার জঙ্গলেও আগুন লেগে যায় এ দিন দুপুরে। প্রচুর শুকনো পাতা পড়ে থাকায় আগুন বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এবং বন দফতরের কর্মী-আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে যান। খড়গপুর থেকে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন।

বিষ্ণুপুর শহরের পোড়ামাটির হাটের কাছে চৌকানের জঙ্গলে এ দিন দুপুরেই আগুন লাগে। তখন সবাই মেতে বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে। হঠাৎই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। পুলিশ, দমকল ও বনকর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। বসন্ত উৎসব থেকে অনেকে আগুনের কাছে ভিড় করায় দমকল কর্মীদের কাজ শুরু করতে সমস্যা হয়। চৌকানের যৌথ বনসুরক্ষা কমিটির সদস্যেরাও আগুন নেভানোয় সহযোগিতা করেন। স্থানীয়দের দাবি, পুরসভা একসময়ে ওই জঙ্গলে আবর্জনা ফেলত। সেখানেই কোনও ভাবে আগুন লেগেছিল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Fire

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy