Advertisement
E-Paper

অঙ্গনওয়াড়িতে খাবার না মেলায় সমস্যায় শিশুরা

রাজ্য সরকার একদিকে চাইছে অপুষ্টির হাত থেকে শিশু ও প্রসূতিদের রক্ষা করতে। সে জন্য চালু হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিন্তু চালু হলেই তো হল না। নিয়মিত খাবারের জোগান থাকা চাই সেখানে। কিন্তু সর্বত্র তেমনটা হচ্ছে কি?

সামসুল হুদা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৫১

রাজ্য সরকার একদিকে চাইছে অপুষ্টির হাত থেকে শিশু ও প্রসূতিদের রক্ষা করতে। সে জন্য চালু হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিন্তু চালু হলেই তো হল না। নিয়মিত খাবারের জোগান থাকা চাই সেখানে। কিন্তু সর্বত্র তেমনটা হচ্ছে কি?

এই ধরা যাক দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিঙের কথা। বেশ কিছু দিন ধরেই এখানকার বেশিরভাগ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খাবারের সরবরাহ নেই। ফলে মিড ডে মিল বন্ধ। ক্যানিং-১ ব্লকের ৪৬৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই এই হাল।

কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি?

বেশ কয়েক বছর ধরে ক্যানিঙের ওই সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে খাবার সরবরাহ করে আসছিল ‘কুমার রায়চৌধুরী এন্টার প্রাইজ’ নামে একটি সংস্থা। ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তাদের চুক্তি ছিল। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও গত বছর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত খাবার সরবরাহ করেছে সংস্থাটি। কিন্তু গত বছর জুন মাসে নতুন টেন্ডার হলেও জেলা থেকে নতুন ‘রেট চার্ট’ না আসায় এবং কী নিয়মে খাবার সরবরাহ করা হবে তা নির্দিষ্ট ভাবে না বলায় নতুন টেন্ডার কার্যকর হয়নি।

অভিযোগ, গত দেড় বছর ধরে বকেয়া ১৯ লক্ষ টাকাও পাচ্ছে না খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থাটি। এ দিকে, আবার জেলা থেকে ঠিকমতো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে তা পাঠানো যাচ্ছে না। মাসখানেক ধরে চলছে এই পরিস্থিতি। কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র মজুত খাদ্যশস্য ব্যবহার করে এখনও কাজ চালাচ্ছে। কিন্তু নতুন সরবরাহ না এলে তা আর কত দিন!

মহকুমা প্রশাসন সুত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানিং-২ ব্লকে অপুষ্টিজনিত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৮০০ জন, ক্যানিং-১ ব্লকে প্রায় ২০০ জন, বাসন্তীতে প্রায় ৩০০ জন, গোসাবায় শ’দেড়েক। মিড ডে মিল বন্ধ হওয়ায় সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে এরাই। অপুষ্টি বাড়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে দরিদ্র এলাকাগুলিতে। সুষম খাদ্যের অভাবে ধুঁকছেন বহু প্রসূতিও।

ক্যানিং-১ ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সমিতি ইউনিয়নের সভাপতি মন্দিরা রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ঠিকমতো খাবার সরবরাহ হচ্ছে না। এর ফলে গ্রামে গিয়ে আমাদের কর্মীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। গ্রামের মায়েরা কেন্দ্রগুলিতে এসে খাবার চাইছেন। খাবার দিতে না পারলে আমাদেরই তাঁরা নানা কথা শোনাচ্ছেন। এ রকম চলতে থাকলে কেন্দ্রগুলি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আমরা বিষয়টি সিডিপিওকে জানিয়েছি।”

কুমার রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘দেড় বছর ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে খাবার সরবরাহ করছি। ১৯ লক্ষ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। কোনও টাকা পাচ্ছি না। তার উপর, নতুন টেন্ডার হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। তা ছাড়া, জেলা থেকে ঠিকমতো খাবার পাঠানো হচ্ছে না। ফলে কেন্দ্রগুলিতে তা পাঠানোও যাচ্ছে না।”

ক্যানিং-১ সিডিপিও সম্বৃথী চক্রবর্তী মানছেন, খাবার সরবরাহকারী সংস্থার বেশ কিছু বকেয়া আছে। জেলায় কোনও সমস্যার কারণে ঠিকমতো খাবার সরবরাহ হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। তিনি বলেন, ‘‘যে সব কেন্দ্রে খাবার মজুত আছে, তাই দিয়ে আপাতত তাদের কাজ চালাতে বলেছি। তবে খাবারের জন্য কোনও কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। সব কেন্দ্র খোলা আছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”

বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেলাশাসক পিবি সেলিম। সেই সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখারও আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy