হাওড়ার ড্রেনেজ ক্যানেল রোডে বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত বস্তি। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিলেছিল, খুব দ্রুত তৈরি করে দেওয়া হবে ঘর। দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ। কিন্তু দুর্ঘটনার পর প্রায় ১৬ দিন কেটে গেল, পূরণ হয়নি সেই আশ্বাস!
গত ১৯ ডিসেম্বর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে হাওড়ার ড্রেনেজ ক্যানেল রোডের বস্তিতে। প্রায় ৫০টি ঝুপড়ি পুড়ে যায়। সকলকে আশ্রয় দেওয়া হয় স্থানীয় স্কুলে। প্রশাসনের উদ্যোগে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনার পরের দিনই পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম-সহ হাওড়া প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকেরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মন্ত্রী জানান, দ্রুত নতুন করে ঘর বানিয়ে দেওয়া হবে। ১৫ হাজার টাকা পরিবার পিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এর পর সেখানে কাজ শুরু হলেও এখনও ঘর তৈরি হয়নি। মনোরমা অধিকারী নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘এখনও ঘর হয়নি। ব্যাঙ্কের বই জমা নেওয়া হলেও টাকা এখনও আসেনি। কবে আসবে, তা-ও কেউ জানায়নি।’’
এমতাবস্থায় অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় কেউ দেখছেন না বস্তির লোকেরা। এখনও স্কুলেই থাকতে হচ্ছে তাঁদেরকে। তাঁরা জানান, শাসকদলের কর্মীরা তাঁদের দেখভাল করছেন। ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি আলোক মাইতি বলেন, ‘‘জায়গাটি নিচু হওয়ায় সেটা ঠিক করতে সময় লাগছে। আশা করছি, ১০-১২ দিনের মধ্যে কাজ সম্পূর্ন হয়ে যাবে।’’ হাওড়ার জেলাশাসক দিপাপ প্রিয়া পি প্রকাশ্যে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তিনি শুধু বলেন, ‘‘যা বলার, হাওড়া পুরসভা বলবে।’’ পুরপ্রশাসক সুজয় চক্রবর্তীও বলেন, ‘‘পুরসভা ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। কাজ এগোচ্ছে। খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।’’ এই আশ্বাস কত দিনে বাস্তবায়িত হয়, সে দিকেই তাকিয়ে বস্তিবাসীরা।