ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-র কাজে একঝাঁক নামজাদা ব্যক্তিত্বকে শুনানির নোটিস দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এ বার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ অধ্যাপক সামিরুল ইসলামকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের ওই সাংসদকে নোটিসটি পাঠানো হয়েছে। শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সামিরুল।
নোটিসে সাংসদকে বলা হয়েছে, ‘‘বর্তমান ভোটার তালিকা এবং পূর্ববর্তী এসআইআরের সময় প্রস্তুত ভোটার তালিকায় আপনার পিতার/নিজের নামের অমিলের কারণে এবং আপনার গণনা ফর্মে দেখানো সংযোগ অনুযায়ী মনে হচ্ছে আপনি পূর্ববর্তী এসআইআরের ভোটার তালিকার সাথে ভুল ভাবে যুক্ত করেছেন।’’ তাই তৃণমূল সাংসদকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে। ঘটনাচক্রে, সামিরুলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমের রামপুরহাটের দুনিগ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে দুনিগ্রাম হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সাংসদ নিজেও হাসন কেন্দ্রের ভোটার। কর্মসূত্রে তাঁকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কলকাতা ও দিল্লিতে থাকতে হলেও, এখনও তিনি হাসনের ভোটার। আগামী ১৯ জানুয়ারি সাংসদ সামিরুলকে শুনানির জন্য দুনিগ্রাম এ. করিম উচ্চ বিদ্যালয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে তৃণমূলে যোগদান করে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন সামিরুল। পেশায় অধ্যাপক সামিরুল দীর্ঘদিন ধরেই দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজকর্ম করে থাকেন। রাজনীতিতে যোগদানের আগে সামিরুলের পরিচয় ছিল একজন সমাজকর্মী হিসাবেই। সামিরুল বলছেন, “এরা পারলে গোটা বাংলার মানুষকেই এসআইআরের নোটিস ধরায়। যাকে-তাকে যখন-তখন নোটিস ধরিয়ে দিচ্ছে। আমার পরিবার স্বাধীনতার আগে থেকেই দুনিগ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু তা এখন আমাদের প্রমাণ করতে হবে। শুনানির নোটিস যখন ধরানো হয়েছে, তখন আমি অবশ্যই হাজিরা দিতে যাব।’’
সামিরুল ছাড়াও এর আগে অভিনেতা তথা ঘাটালের তিন বারের তৃণমূল সাংসদ দেবকেও এসআইআরের শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে শুনানিতে অংশও নিয়েছেন।