তিন বারের সাংসদ। অভিনেতা হিসাবেও সারা দেশ চেনে দেব ওরফে দীপক অধিকারীকে। সেই তাঁকেই নির্বাচন কমিশন এসআইআরের নোটিস ধরানোয় ফুঁসে উঠেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বুধবার শুনানিতে হাজিরা দিয়ে ঘাটালের সাংসদ জানালেন, তাঁকে ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। বরং তিনি চিন্তিত রাজ্য তথা দেশের সাধারণ ভোটারদের নিয়ে। বিশেষ করে যাঁরা বয়স্ক মানুষ, যাঁদের আধ ঘণ্টাও লাইনে দাঁড়ানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই, তাঁদের নিয়ে। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে করজোড়ে আবেদন জানালেন অভিনেতা-সাংসদ।
বুধবার যাদবপুরে কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন দেব। শুনানি প্রক্রিয়াশেষে হাসিমুখে বেরিয়ে প্রথমেই বলেন, ‘‘ভোট আসছে। রাজ্যের নাম যাতে খারাপ না হয়, এটা যেন সকলের কথাবার্তায় ফুটে ওঠে।’’ নেতাদের বাক্সংযমের বার্তা দিয়ে সাংসদ জানান, তিনি নিজেই জানেন না ভুল কার। কেন তাঁকে ডাকা হল। তিনি নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছিলেন। তার পর শুনানিতে ডাকা হয়েছে শুনে আইন মেনে হাজিরা দিয়েছেন। কী কী নিয়ে যেতে হবে, খোঁজখবর করে নিয়েছিলেন আগে। তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। বলতে চাই না যে, এটা কমিশনের ভুল বা দেবের ভুল। কিন্তু আমি ২০১১ থেকে ভোট দিচ্ছি (পশ্চিমবঙ্গে)। সেগুলো কি ভুল ভোট ছিল? রাজনীতি চলতে থাকবে। কিন্তু আমার চিন্তা প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে। অনেকে আধ ঘণ্টার বেশি দাঁড়াতে পারেন না লাইনে। সেই অবস্থাই নেই তাঁদের। তাঁদের নিয়ে যেন কমিশন একটু ভাবেন।’’
দেবের জন্ম পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। তবে ছোট থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে মুম্বইয়ে থাকতেন। অভিনয়ের সূত্রে আবার পশ্চিমবঙ্গে থিতু হন। কলকাতায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন। মোট তিন বারের সাংসদ তিনি। ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ঘাটাল লোকসভা থেকে জয়ী হন। সেই তাঁকেই এসআইআরের নোটিস পাঠানোয় কমিশনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে রাজ্যের শাসকদল।
আরও পড়ুন:
শুনানি থেকে বেরিয়ে দেব জানান, প্রামাণ্য নথি হিসাবে তিনি পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিলেন। কোনও অসুবিধা হল? জবাব এল, ‘‘আমি সাংসদ দেব। এ দলে থাকলে ওই দল ‘হ্যারাস’ করবে। ও দলে থাকলে এ দল ‘হ্যারাস’ করবে। কিন্তু এসআইআর হওয়ার থাকলে কেন আগে হল না? কেন (রাজ্যের বিধানসভা) ভোটের দু’-তিন মাস আগে এ সব শুরু হল? এক বছর আগে কেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা শুরু হল না? এই ঠান্ডার মধ্যে কত মানুষকে যেতে হচ্ছে!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে একটু ভাবুন, এটাই কমিশনের কাছে আমার করজোড়ে অনুরোধ। আমাদের দল বা অন্য যে দলই ভোটে জিতুক, কোনও নাগরিকের ভোটাধিকার যেন নির্বাচন কমিশনের চক্করে চলে না যায়।’’ পরিচিত হাসি হেসে অভিনেতা-সাংসদ আরও বলেন, ‘‘ভিতরে অনেক ছবি তুললাম। অনেককে অটোগ্রাফ দিলাম। আর কিছু কাগজে সই করলাম। ব্যস।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা
-
জোকার ট্রাইবুনাল অফিসের কাজ প্রায় শেষ, শীঘ্রই শুরু হবে শুনানি, সম্পন্ন ১৯ প্রাক্তন বিচারপতির সহায়কদের প্রশিক্ষণ
-
এসআইআরে বাদ-পড়া ৯১ লক্ষ নামের মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু! মুসলিম কত? হিসাব কষেছে তৃণমূল, কী বলছে বিজেপি?
-
নথি জমা দিয়েও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ ববি হাকিমের কেন্দ্রে, এসআইআর জট মেটিয়াবুরুজেও