Advertisement
E-Paper

স্কুলমাঠে দোকান ও ক্লাব! ভর্ৎসনা কোর্টের

স্কুলের জমি দখল করে দোকান তৈরির অভিযোগ উঠল। এ নিয়ে জনস্বার্থে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে শুক্রবার রাজ্য সরকারকে কার্যত ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৪:২৫

স্কুলের জমি দখল করে দোকান তৈরির অভিযোগ উঠল। এ নিয়ে জনস্বার্থে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে শুক্রবার রাজ্য সরকারকে কার্যত ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। এ দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রের প্রশ্ন, ‘‘লেখাপড়ার কি দরকার নেই? স্কুল কি তুলে দিতে চান আপনারা?’’

পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার চাঁদরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি রয়েছে ৩৭ একর। স্কুলটি সরকারি সাহায্য পায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, খেলার মাঠের একাংশ দখল করে পানের দোকান, সেলুনের মতো বেশ কিছু দোকান তৈরি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক।

এ দিন মামলার আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত রায় কর্মকার শুনানি শুরুর সময়ে বেআইনি দোকানগুলির ছবি আদালতে পেশ করে বলেন, ‘‘প্রশাসনের নাকের ডগায় স্কুলের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের লোক কোতোয়ালি থানা, ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর-সহ জেলা প্রশাসনের বহু জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।’’ মামলার নথি পড়ে বিচারপতি মাত্রে সরকারি আইনজীবী সীমান্ত কবীরকে প্রশ্ন করেন, ‘‘কারা এই নির্মাণ করছে?’’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তাঁর জবাব পাওয়ার আগেই সুব্রতবাবুর তাঁর পরের অভিযোগ করেন, ‘‘ওই স্কুলের মাঠের একাংশে ক্লাবঘরও তৈরি হচ্ছে। সেই কথাও প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে।’’ এর পরে সরকারি কৌঁসুলি আদালতে জানান, কোতোয়ালি থানার ওসি সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার তদন্তও শুরু করেছেন। এ ছাড়া ওসি সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের কাছ থেকে ওই সব নির্মাণ নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন। তবে তা এখনও মেলেনি।

প্রধান বিচারপতি সরকারি কৌঁসুলির উদ্দেশে বলেন, ‘‘কী করে ওই নির্মাণ হয়? কীসের ভিত্তিতে ওই জমিতে নির্মাণ করতে দেওয়া হল?’’ একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘স্কুলের জমিতে দোকান তৈরি হবে? ক্লাব হবে? পড়ুয়াদের মনে এর কী প্রভাব পড়বে জানেন?’’ নিশীথা দেবীর ক্ষোভ প্রশমনে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, ‘‘ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক এখনও এ নিয়ে রিপোর্ট দেননি।’’ তাতে আরও রেগে যান নিশীথা দেবী। তিনি বলেন, ‘‘এখনও রিপোর্ট জমা পড়েনি বলে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?’’ বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও বিচারপতি অরিন্দম সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, শুক্রবার সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিককে এই বেআইনি নির্মাণে জবাবদিহি করতে হবে।’’

Forceful occupation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy