E-Paper

অ্যাপে যোগাযোগ রাখত কবাডি খেলোয়াড়কে খুনে অভিযুক্তেরা

গত ১৫ ডিসেম্বর পঞ্জাবের কবাডি খেলোয়াড় রানাবালা চৌর খুন হন। ওই খুনের ঘটনায় করণ, তরণদীপ এবং আকাশদীপকে খুঁজছিল পঞ্জাব পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৬

— প্রতীকী চিত্র।

ভুয়ো আধার কার্ড দিয়ে কলকাতায় হোটেল বুক করেছিল হাওড়া স্টেশনের বাইরে থেকে গ্রেফতার হওয়া পঞ্জাবের তিন ‘শার্প শুটার’— করণ পাঠক, তরণদীপ সিংহ এবং আকাশদীপ সিংহ। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শুধু নিউ মার্কেট এলাকার মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেলেই নয়, ওই অভিযুক্তেরা শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে গ্যাংটকেও ভুয়ো আধার কার্ড দিয়ে হোটেল বুক করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি কলকাতায় আসে করণ, তরণদীপ ও আকাশদীপ। এখানে দু’দিন থেকে তারা বাসে চেপে চলে যায়শিলিগুড়ি। সেখান থেকে তিন জন ভাড়ার গাড়িতে যায় গ্যাংটকে। এর পরে ফের শিলিগুড়ি হয়ে হাওড়ায় ফেরে। হাওড়া থেকে আবার ভিন্‌ রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল তিন অভিযুক্ত।

গত ১৫ ডিসেম্বর পঞ্জাবের কবাডি খেলোয়াড় রানাবালা চৌর খুন হন। ওই খুনের ঘটনায় করণ, তরণদীপ এবং আকাশদীপকে খুঁজছিল পঞ্জাব পুলিশ। এই তিন জন একটি দুষ্কৃতী-দলের মাথা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরোধী গোষ্ঠী বলবিন্দর সিংহ ওরফে ডনিবাল গ্যাংয়ের সদস্য।

পঞ্জাব পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতদের সঙ্গে ডনিবাল গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের আলাপ হয় খুনের ঘটনার মাসখানেক আগে। তার আগে করণ, তরণদীপ ও আকাশদীপপরস্পরকে চিনত না। তবে, রানাবালাকে খুনের পর থেকে তারা একসঙ্গেই থাকছিল। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ঘটনার পরে প্রথমে অভিযুক্তেরা পালিয়ে যায় জয়পুরে। সেখান থেকে তারা আসে মুম্বইয়ে। মুম্বই থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে গত ৫ জানুয়ারি অভিযুক্তেরা কলকাতায় এসে ঘাঁটি গাড়ে।

গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতদের কাছে কোনও নগদ টাকা ছিল না। ডনিবাল গ্যাংয়ের অন্য সদস্যেরা তাদের অনলাইনে টাকা পাঠাত। যদিও সেই টাকা কখনওই ধৃতদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত না। তারা যখন, যে হোটেলে থাকত, সেই হোটেলের অ্যাকাউন্টে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ওই টাকা আসত। তা থেকে হোটেলের ভাড়া মিটিয়ে বাকি টাকা অভিযুক্তেরা ধার নিত সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। সূত্রের দাবি, কবাডি খেলোয়াড়কে খুনের ঘটনার পরে প্রায় এক মাস বিভিন্ন জায়গায় গা-ঢাকা দিয়ে থাকার সময়ে করণ, তরণদীপ ও আকাশদীপের জন্য তিন লক্ষেরও বেশি টাকা খরচ করেছিল ডনিবাল গ্যাংয়ের বাকি সদস্যেরা।

সূত্রের খবর, ওই দুষ্কৃতীদের কলকাতায় এসে ওঠার তথ্য পঞ্জাব পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। কিন্তু গোয়েন্দারা মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেলে হানা দেওয়ার আগেই তিন অভিযুক্ত শিলিগুড়ি হয়ে গ্যাংটকে চলে যায়। আবার, শিলিগুড়ি এবং গ্যাংটকে গোয়েন্দা-দল পৌঁছনোর আগেই ওই শার্প শুটারেরা চলে আসে হাওড়ায়। এক পুলিশকর্তা জানান, ধৃতেরা নিজেদের মধ্যে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছিল। যে কারণে তাদের খোঁজ পেতে প্রাথমিক ভাবে সমস্যায় পড়েছিল পুলিশ। শেষে গোয়েন্দারা খবর পান, এক জনের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে হাওড়ায় টাকা আসছে। তাতেই পুলিশ নিশ্চিত হয়, হাওড়ায় গা-ঢাকা দিয়েছে তিন অভিযুক্ত।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

arrest Murder Case police investigation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy