Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

সড়কের বাধা সরাতে আসছেন গডকড়ী

জাতীয় সড়কের দুরবস্থা নিয়ে কেন্দ্রের ঘাড়ে দোষ চাপানোর রাজনীতিও আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে করতে দিতে নারাজ নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সম্প্রতি জেলা স

শঙ্খদীপ দাস
নয়াদিল্লি ২০ অগস্ট ২০১৪ ০৩:৪৩

জাতীয় সড়কের দুরবস্থা নিয়ে কেন্দ্রের ঘাড়ে দোষ চাপানোর রাজনীতিও আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে করতে দিতে নারাজ নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

সম্প্রতি জেলা সফরে বেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা রাজ্যের রাস্তাঘাটে নাজেহাল হন মুখ্যমন্ত্রী। সফরে তাঁর যাতায়াতের অধিকাংশটা ভাঙাচোরা রাজ্য সড়ক দিয়ে হলেও এ বিষয়ে যাবতীয় দায় কেন্দ্রের ঘাড়েই চাপিয়ে সরব হন মমতা। এর আগে জাতীয় সড়কগুলি সারাই ও সংস্কারের দাবি নিয়ে কেন্দ্রের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তৃণমূলের সাংসদরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ ও জবরদখল উচ্ছেদে হাত গুটিয়ে রয়েছে। তাই সদিচ্ছা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় সড়ক সংস্কার করতে পাচ্ছে না কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েও একই কথা জানিয়েছিলেন গডকড়ী। কিন্তু তার পরেও মমতা তাঁর দোষারোপ চালিয়ে যাওয়ায় এ বার মন্ত্রকের আমলা-অফিসারদের নিয়ে নিজেই কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চাইছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী।

গডকড়ী আজ জানান, এ মাসের ২৮ তারিখ তিনি দু’দিনের জন্য কলকাতা যাচ্ছেন। রাজ্যে জাতীয় সড়কের প্রতিটি প্রকল্প ধরে ধরে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চান। প্রকল্প রূপায়ণের বাধা কাটাতে রাজ্যের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও চাইবেন তিনি। মন্ত্রীর কথায় সমস্যার শিকড় যে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলায় সময় এসেছে। চাপানউতোরের রাজনীতিতে রাজ্যবাসীই বঞ্চিত হচ্ছেন।

Advertisement

গডকড়ী আজ বলেন, “তৃণমূল সাংসদদের তখনই জানিয়েছি, কেন্দ্রের তরফে সদিচ্ছার অভাব নেই। সচিব ও অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, দুটি কারণে পশ্চিমবঙ্গের সড়ক প্রকল্পগুলি আটকে। জমি অধিগ্রহণ ও জবরদখল।” গডকড়ীর বক্তব্য, দু’টোই রাজ্যের বিষয়। দোষারোপ ছেড়ে রাজ্যকেই এই দুই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গডকড়ীর সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল সাংসদরা ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ও ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক মেরামত ও সম্প্রসারণের কথা বলেছিলেন। অথচ মূলত তৃণমূলের বাধাতেই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শিকেয় উঠেছে। জমি অধিগ্রহণ ও জবরদখল উচ্ছেদ নিয়ে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার নানা স্থানে সমস্যা হচ্ছে। কাজে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারাই। ইস্ট ওয়েস্ট করিডর, বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ ইত্যাদি সব প্রকল্পের শ্লথ গতির নেপথ্যেও রয়েছে স্থানীয় কারণ মূলত জবরদখল। দখলদারদের উচ্ছেদে সক্রিয় হয়নি রাজ্য প্রশাসন। জমি অধিগ্রহণ না-হওয়ায় মালদহ থেকে কাটিহার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ শুরুই করা যায়নি। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ওই প্রকল্পের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ করার জন্য মালদহের জেলাশাসকের কাছে এখনও কোনও নির্দেশই পাঠায়নি রাজ্যের পূর্ত দফতর।

কী কী প্রস্তাব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চান গডকড়ী? জবাবে আজ তাঁর মন্ত্রকের এক যুগ্মসচিব বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে এই প্রস্তাবই দেবেন শাসক দলের সাংসদরা যেন নিজ নিজ এলাকায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমস্যা কাটাতে সক্রিয় হন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকরা যাতে উপস্থিত থাকেন, সেই বার্তাও রাজ্যকে পাঠানো হয়েছে।”

গডকড়ী বলেন, “রাজ্য এই সহযোগিতাটুকু করলে জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ ও মেরামত সময় বেঁধে করবে কেন্দ্র। সে জন্য অর্থের কোনও অভাব হবে না।” মোদী সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যকে এই বার্তা দিয়েছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মধ্যে জাতীয় সড়ক ৬০(এ)-র ৮৪ কিলোমিটার অংশ চওড়া করতে ক’দিন আগে ৩৭৩ কোটি বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র।

৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের হাল ফেরাতে গডকড়ীর কাছে মঙ্গলবার আবেদন জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যাত্রী নাকাল ও প্রাণহানির ঘটনা যেমন ঘটছে, মার খাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যও। পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের সড়কপথে যোগাযোগের এক মাত্র মাধ্যমও এই সড়ক। সেনা পরিবহণেরও এক মাত্র পথ। ফলে দ্রুত সড়কটির সংস্কার করা হোক।’

সড়ক সারাতে হবে অক্টোবরেই

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) সোমবার হলফনামা দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টে। আর মঙ্গলবারেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর এবং বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিল, অক্টোবরের মধ্যে বারাসত থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে গর্ত বোজানো ও অন্যান্য মেরামতির কাজ সেরে ফেলতে হবে। যান চলাচলের জন্য ন্যূনতম মেরামতির কাজ যে অক্টোবরেই হয়ে যাবে, এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হলফনামা দিয়ে তা জানাতে হবে সড়ক-কর্তৃপক্ষকে। ওই সড়কের বেহাল দশা নিয়ে জনস্বার্থের মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার একটি হলফনামায় এনএইচএআই জানায়, বারাসত থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত সড়ক মেরামতির জন্য নতুন একটি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে। মেরামতি কাজ চলছে। কিন্তু বর্ষার জন্য পিচ ঢালা যাচ্ছে না। অক্টোবরে সেই কাজ শুরু হবে। শেষ হবে জানুয়ারিতে।

আরও পড়ুন

Advertisement