E-Paper

ভোটের আগেই নজরে হাওয়ালা

ইডি সূত্রের দাবি, মাসখানেক আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশন আয়কর ও ইডির অফিসারদের নির্বাচনের সময় বেআইনি পথে কালো টাকা পাচারের বিষয় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫০

—প্রতীকী চিত্র।

নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ হাওয়ালা ব্যবসায়ীদের উপরে নজর রাখা হচ্ছে বলে ইডি ও আয়কর দফতর সূত্রের খবর। ওই সূত্রের দাবি, হাওয়ালা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি প্রভাবশালী-ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেনের উপরেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, গত পাঁচ বছরে এ রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা ও গরু পাচার এবং রেশন দুর্নীতির টাকা পাচার এবং সাদা করার ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ জন হাওয়ালা কারবারির নাম উঠে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের শনাক্ত করে বয়ানও নথিবদ্ধ করা হয়েছে। ওই কারবারিদের উপরে নজর আছে। এর বাইরেও কোনও হাওয়ালা এজেন্ট কাজ করছে কি না, সে দিকেও নজর রেখেছেন গোয়েন্দারা।

ইডি-র এক কর্তার বক্তব্য, দুর্নীতির টাকা হাওয়ালা কারবারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির কাছে বিনিয়োগ করেছেন প্রভাবশালীরা।ভোটের সময় সেই টাকা এবং অন্যান্য বেআইনি উৎস থেকে আসা টাকাও নানা জায়গায় পাঠানো হয়। সেই লেনদেন আটকাতে এই পদক্ষেপ। ওই কর্তার বক্তব্য, ‘‘কয়লা পাচারের টাকা ভিন রাজ্যের একটি ভোটে পাঠানো হয়েছিল। সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। কোন কোন হাওয়ালা এজেন্ট ওই লেনদেনে ছিল, তা-ও জানি।’’

ইডি সূত্রের দাবি, মাসখানেক আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশন আয়কর ও ইডির অফিসারদের নির্বাচনের সময় বেআইনি পথে কালো টাকা পাচারের বিষয় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরই আয়কর দফতর এবং ইডির সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করে ওইসব হাওয়ালা কারবারির উপরে নজর বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীর গতিবিধিও নজরে রাখা হচ্ছে।

ইডি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন দুর্নীতির টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময় বিদেশে থাকা ওই টাকা ফের হাওয়ালার মাধ্যমে ফেরত আনার পরিকল্পনা আছে। তাই অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে টাকা পাচারের ক্ষেত্রেও কিছু সূত্র মিলেছে। ইডি-র এক কর্তার দাবি, ‘‘এর আগেও কিছু ভোটে হাওয়ালা মারফত টাকা লেনদেন হয়েছিল এবং তা ভোটের কাজে হিসাব বহির্ভূত পথে ব্যবহার করা হয়েছিল। কয়েকজন হাওয়ালা এজেন্টের কাছ থেকে এই খবর পাওয়া গিয়েছে। এ বার তাই নজরদারির পাশাপাশি ভোটের আগে প্রয়োজনে এই বেআইনি লেনদেনে যুক্ত কিছু সন্দেহভাজনকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission ED Income Tax

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy