E-Paper

‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে তদন্তে এ বার স্বাস্থ্য দফতরও

সেবাশ্রয় শিবিরে বিভিন্ন বেনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মামলা দায়ের হয়েছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪৫
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির নিয়ে এ বার স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে তদন্ত শুরু করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। শিবিরে ব্যবহৃত চিকিৎসার যন্ত্রপাতি কী ভাবে মিলেছিল, স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের কোন আধিকারিকেরা যুক্ত ছিলেন, সরকারি চিকিৎসকদের মধ্যে কারা শিবিরে ছিলেন— সব কিছুই তদন্তের আওতায় আসছে বলে খবর। শিবিরে চিকিৎসক পাঠাতে বা কেউ যেতে রাজি না হলে বদলির অভিযোগও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে স্বাস্থ্য ভবন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “দিন কয়েকের মধ্যেই আরও বিস্তারিত জানা যাবে। যে দুর্নীতি, বেনিয়ম হয়েছে, তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশি দিন আর জেলের বাইরে থাকতে পারবেন বলে মনে হয় না।”

সেবাশ্রয় শিবিরে বিভিন্ন বেনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মামলা দায়ের হয়েছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি, তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য দফতরও। সরকারি চিকিৎসক, যন্ত্রপাতির ব্যবহার, পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা করানোর অনিয়মই শুধু নয়, অভিযোগ, শিবিরে চিকিৎসক পাঠানোর রস্টার বানাতে রাজি না হওয়ায় ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল দাঁকে গত বছরের মার্চে আচমকাই নিচু পদে বদলি করা হয়েছিল। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের প্রফেসর পদে পাঠানো হয়। ফলে ২০২৫-এ স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা পদে ইন্টারভিউও আর দিতে পারেননি উৎপল। তিনি আর জি কর-কাণ্ডে অভীক দে ও বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতরের গঠিত দু’টি তদন্ত কমিটিরই সদস্য ছিলেন।

উৎপল বলেন, “ইন্টারভিউ দিয়ে অধ্যক্ষ হয়েছিলাম। তাই, ওই পদ থেকে সরাতে হলে নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে শো-কজ় করাই নিয়ম। কিন্তু তা হয়নি। প্রতিবাদ করেও লাভ হত না, তাই চুপ ছিলাম।” উৎপলের দাবি, “সাংসদের অফিস থেকে কিছু বলা না হলেও, জেলার এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক প্রতিনিয়ত সিনিয়র চিকিৎসক পাঠানোর রস্টার তৈরির জন্য চাপ দিতেন।” কিন্তু তিনি কোনও ভাবেই চিকিৎসকদের ওই শিবিরে যেতে বলতে পারবেন না জানিয়ে ওই পুলিশ আধিকারিককে হাসপাতালে আসতে বারণ করে দিয়েছিলেন বলেও জানাচ্ছেন উৎপল। তাঁর কথায়, “অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি করছিলাম। শেষে সেবাশ্রয়ে চিকিৎসক না পাঠানোতেই বদলি।”

শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসনের কোন আধিকারিকেরা যুক্ত ছিলেন, কোন স্বাস্থ্য আধিকারিক কী নির্দেশ দিয়েছিলেন, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কথা না মানায় বদলির অভিযোগও দেখা হচ্ছে।” মন্ত্রী জানাচ্ছেন, ‘পিসি-পিএনডিটি’ আইন অনুযায়ী আলট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্র এক জায়গা থেকে অন্যত্র সরানো যায় না। তাঁর কথায়, “যন্ত্র স্থানান্তরের জন্য কোনও আবেদন করা হয়েছিল কি না, যে স্থানে পরীক্ষাটি করা হয়েছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কিনা, রেডিয়েশন সেফটি আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন কি না, সবই তদন্তে দেখা হচ্ছে।” অভিযোগ, বেসরকারির পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল থেকেও যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর জন্য সরকারি কোনও নির্দেশিকা আদৌ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য ভবন। মন্ত্রী বলেন, “জনগণের স্বার্থে আবেদন রাখছি, যার কাছে যা তথ্যপ্রমাণ আছে, আমাদের কাছে জমা দিন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Sebashray

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy