স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল চুঁচুড়া আদালত। মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (প্রথম ফাস্ট ট্রাক কোর্ট) বিচারক পীযূষকান্তি রায় ওই সাজা শোনান মহম্মদ রাজা নামে ওই যুবককে। সে আদতে বিহারের বাসিন্দা। দিনমজুরির কাজের সূত্রে পান্ডুয়ায় এসেছিল।
মামলার সরকারি আইনজীবী রণেশচন্দ্র ধর জানান, বধূ নির্যাতনের মামলায় তিন বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড। পণপ্রথা বিরোধী মামলায় দু’বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিচারক। অনাদায়ে আরও ছ’মাসের কারাগণ্ড এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছ’ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সাব-ইনস্পেক্টর নেশাদ আহমেদ। গ্রেফতারের পর থেকে জামিন মেলেনি রাজার।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিহারের বাসিন্দা নাজরানা খাতুনকে (২১) বিয়ে করে মহম্মদ রাজা। এরপরে স্ত্রীকে নিয়ে কর্মক্ষেত্র পান্ডুয়ায় এসে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করে। ওই বছর ২৭ জুন ভাড়াবাড়ি থেকে নাজরানার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। নাজরানার বাবা মহম্মদ অলীক জামাইয়ের বিরুদ্ধে মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। পুলিশ ৪৯৮এ (বধূ নির্যাতন) এবং ৩০৪বি (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) ধারায় অভিযোগ দায়ের করে তদন্তে নামে। পুলিশ জানতে পারে, বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য নাজরানার উপরে অত্যাচার চালাত রাজা। এরপরে ওই মামলায় পণপ্রথা বিরোধী আইনের ৪ নম্বর ধারাও যুক্ত হয় বলে জানান সরকারি কৌঁসুলি শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়। সোমবার রাজাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)