E-Paper

পাট মিলছে না, বন্ধ ওয়েলিংটন

কাঁচা পাট এবং বরাতের অবস্থার উন্নতি হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে মিল খোলার ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭
বন্ধ হল পাটকল।

বন্ধ হল পাটকল। ফাইল চিত্র।

এক মাস আগে বন্ধ হয়েছিল শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া চটকল। এ বার বন্ধ হল রিষড়ার ওয়েলিংটন চটকল। ফলে, সমস্যায় পড়লেন শ্রমিকেরা। এ ক্ষেত্রেও কারণ দেখানো হয়েছে কাঁচা পাটের সঙ্কটকে।

রাজ্য জুড়েই চটশিল্পের আকাশে কালো মেঘ। কাঁচা পাটের আকাল নিয়ে কিছু দিন আগে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক চটকল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন জুট কমিশনারের উপস্থিতিতে। বিভিন্ন চটকল কর্তৃপক্ষের দাবি, কাঁচা পাটের জোগান স্বাভাবিক হয়নি। বাজারে যে পাট রয়েছে, বেআইনি মজুতের কারণে তার দাম আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে অনেক মিলেই শিফ্‌ট বা কাজের দিন কমিয়ে কম উৎপাদন করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ওয়েলিংটনেও কিছু দিন এ ভাবেই উৎপাদন চলছিল।

ওয়েলিংটন কর্তৃপক্ষের তরফে নোটিসে জানানো হয়, চটশিল্পের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, বিশেষত কাঁচা পাটের চরম সঙ্কট এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মঙ্গলবার থেকে আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত ‘ব্লক ক্লোজ়ার’ ঘোষণা করতে তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন। কাঁচা পাট এবং বরাতের অবস্থার উন্নতি হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে মিল খোলার ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ‘ব্লক ক্লোজ়ার’ চলবে।

জানা গিয়েছে, এই মিলে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৬০০ শ্রমিক রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে নোটিস দেখে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। পুলিশ আসে। মিলের শ্রমিক তথা এআইটিইউসি নেতা ভোলানাথ কর্মকার জানান, কর্তৃপক্ষ যাতে অবিলম্বে চটকল খোলার ব্যবস্থা করেন, সে দাবিতে শ্রীরামপুর শ্রম দফতরে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। চটকলের কোনও যন্ত্র বা সামগ্রী যাতে ইয়ার্ন ইউনিটে (এই অংশ চালু আছে) সরানো না হয়, সে দাবিও জানানো হয়েছে।

শ্রম দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, কাঁচা পাটের আকালের বিষয়টি নিয়ে চটশিল্প ওয়াকিবহাল। পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝেই যাতে যত দ্রুত সম্ভব চটকল খোলা যায়, সে চেষ্টা চলছে। শ্রীরামপুরের উপ-শ্রম অধিকর্তা তানিয়া দত্ত জানিয়েছেন, ওয়েলিংটনের সমস্যা সমাধানে আজ, বুধবার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়ছে। তিনি জানান, ইন্ডিয়া চটকল নিয়েও ইতিমধ্যে তাঁর কার্যালয়ে এবং কলকাতায় শ্রম দফতরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ফের কলকাতায় বৈঠক হওয়ার কথা। তিনি বলেন, ‘‘চটকল যাতে শীঘ্রই খোলে, সেই চেষ্টা করছি।’’

এআইটিইউসি অনুমোদিত ফেডেরাল চটকল মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রাণেশ বিশ্বাস বলেন, ‘‘পাটের আকালের কথা তো অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। রাজ্য এবং কেন্দ্র হাত গুটিয়ে বসে কেন?’’

কেন্দ্র এবং রাজ্যের নীতিকে দুষে সিআইটিইউ-র হুগলি জেলা সাধারণ সম্পাদক তীর্থঙ্কর রায় বলেন, ‘‘একটার পর একটা চটকল বন্ধ হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষ কষ্টে আছেন। বন্ধ কারখানা অবিলম্বে খুলতে হবে।’’

পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করে হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘সিন্থেটিক লবিকে চাঙ্গা করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের জন্যই চটশিল্পের এই পরিস্থিতি। এটাও বিজেপি সরকারের বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rishra

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy