E-Paper

ভোটের দিনেও সিঙ্গুরে শিল্প-চর্চা

সিঙ্গুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে তৃণমূলের পতাকাই বেশি দেখা গিয়েছে। অনেক জায়গাতেই অবশ্য তাদের সঙ্গে টক্কর দিয়েছে বিজেপি।

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:০৭
সিঙ্গুরের একটি বুথে।

সিঙ্গুরের একটি বুথে। ছবি: তাপস ঘোষ।

কথায় বলে, সকাল দিনের আভাস দেয়। বুধবার সকাল থেকেই সিঙ্গুরে ভোটের হার গড়গড়িয়ে বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ৯২ শতাংশের বেশি। ভোট হয়েছে নির্বিঘ্নেই। উৎসবের আবহে ভোটের মধ্যেই ফিরে এসেছে ৯৯৭ একর জমি থেকে ফিরে যাওয়া শিল্পের প্রসঙ্গ। কারও গলায় ঝরেছে হাহাকারের সুর। কেউ দুষেছেন তৎকালীন বাম সরকারকে।

সিঙ্গুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে তৃণমূলের পতাকাই বেশি দেখা গিয়েছে। অনেক জায়গাতেই অবশ্য তাদের সঙ্গে টক্কর দিয়েছে বিজেপি। প্রচার-পর্বে তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক ও মন্ত্রী বেচারাম মান্না হেঁটে চষে ফেলেন এলাকা। এ দিন সকাল থেকে বুথে বুথে চড়কি পাক খেলেন। তার মাঝেই পোড়খাওয়া নেতার প্রত্যয়, ‘‘গত বারের থেকে অন্তত এক ভোটের বেশি ব্যবধানে জিতব।’’

বিজেপি, সিপিএমের দাবি, নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। তৃণমূল জমায়েত করতে পারেনি। সিঙ্গুরের বিজেপি নেতা সঞ্জয় পান্ডের দাবি, ‘‘সিঙ্গুরে আমরাই জিতছি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। শিল্পের হাব হবে সিঙ্গুরে।’’ সিপিএম প্রার্থী দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মানুষ আমাদের পক্ষে থাকবেন বলে আশা করছি। কেননা, শিল্প ফেরাতে বামেরাই পারবে।’’ একসময়ে অধিগৃহীত ওই জমির চাষিদের একাংশ হরিপাল বিধানসভা এলাকার ভোটার।

জমি আন্দোলনে শামিল ছিলেন বাজেমিলিয়ার রবীন সাঁতরা। সেই জমির পাশেই ঢেঁড়শ তুলছিলেন তিনি। জানালেন, জলের অভাবে কাকা-জেঠাদের প্রায় তিন বিঘা জমি পড়ে আছে উঠে যাওয়া কারখানার চৌহদ্দিতে। তাঁর কথায়, ‘‘কারখানা হলে আমাদের চার ভাইয়ের মধ্যে এক অথবা দু’জন হয়তো কাজ পেতাম! বাকিরা পেতাম না। তাতে অশান্তি হত। তা ছাড়া, বহুফসলি জমিতে কারখানা গড়তে গিয়ে তৎকালীন সরকারই গোলমালটা করেছিল।’’ তৃণমূলের দাবি, গত পনেরো বছরে হাইওয়ের ধারে অনেক কারখানা হয়েছে।

শাশ্বত পাঠাগারে ভোট দেওয়ার পরে উঠে যাওয়ার শিল্পের জমিতে দাঁড়িয়ে কারখানায় আলোচনায় হতাশা মধ্য তিরিশের বুদ্ধদেব সাউয়ের গলায়। বলেন, ‘‘পুণে, উত্তরাখণ্ডে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। চাকরি পাওয়ার মুখেই কারখানা উঠে গেল। কারখানার কথা ভাবলেই কষ্ট হয়।’’ এখন তিনি জলের ব্যবসা করেন।

শিল্প-হারা জমিতে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন বিমর্ষ বুদ্ধদেব।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Singur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy