তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি মানেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান এবং তাঁর দিকে কাঁচা ডিম নিক্ষেপ। বিধানসভা ভোটের ফলঘোষণার পর জেলায় জেলায় এই দৃশ্য এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গিয়েছে। ধৃতদের নিয়ে থানা থেকে আদালত বা আদালত থেকে থানায় যাওয়ার সময় ডিম গিয়ে পড়েছে পুলিশের গায়েও। এমন প্রতিবাদ বন্ধ করতে এ বার মাইক হাতে রাস্তায় নামলেন এক পুলিশ আধিকারিক। হুগলির ডানকুনি পুরসভার এক কাউন্সিলরকে ডিম ছুড়বেন বলে জড়ো হয়েছিলেন এলাকাবাসী। তাঁদের সতর্ক করলেন ডানকুনি থানার আইসি শান্তনু সরকার।
ডানকুনির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জলনিকাশির বেহাল দশা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন না সাফাইকর্মীরা। এমনই অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার দক্ষিণ সুভাষপল্লিতে এলাকায় তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসীদের একাংশ। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু হয় পুরপিতা এবং নাগরিকদের বাক্বিতণ্ডা। খানিক পরে কাউন্সিলরকে বাড়ির বাইরে ডেকে এনে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া শুরু হয়। সেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ডানকুনি থানার পুলিশ। উপস্থিত হন ওই থানার আইসি শান্তনু। তিনি বিক্ষোভকারীদের শান্ত হতে আবেদন করেন। এ-ও জানান, অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে পুরসভা-প্রশাসন বা পুলিশের কাছে দিন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
একটা পর্যায়ে মাইকিং শুরু করেন ডানকুনি থানার আইসি। তিনি বলেন, ‘‘ডানকুনিবাসী সভ্যতা, ভদ্রতার পরিচয় দিয়ে এসেছেন। সেখানে অসভ্যতা করলে ব্যবস্থা নেব।’’ ওই পুলিশ আধিকারিক জানান, কাউকে ডিম ছুড়ে অপদস্থ করার মধ্যে বিচার হয় না। কেউ হয়তো রাগ মেটান। কিন্তু সেটা অনভিপ্রেত এবং অনুচিত। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটা যেন নির্দিষ্ট জায়গায় জানানো হয় এবং পুলিশকে পুলিশের কাজ করতে দেওয়া হয়। আইসি-র কথায়, ‘‘যার যা অসুবিধা আছে জানান। কিন্তু এটা প্রতিবাদ নয়। প্রতিবাদের নামে হুজ্জুতি করবেন না। প্রতিবাদ জানানোর পদ্ধতি আছে। কেউ অসভ্যতা করবেন না। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’’
আরও পড়ুন:
তার পরেও অবশ্য দেখা যায় বেশ কয়েক জন মহিলা ডিম হাতে নিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে ছোড়ার জন্য একপ্রকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাঁদের দেখে এগিয়ে যান আইসি। মাইক নিয়ে বলেন, ‘‘মারুন-মারুন। এতে আপনারা বিচার পাবেন বলে মনে করেন ?’’ ডিম ছুড়ে যাঁরা বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের ছবি তুলে রাখতে নির্দেশ দেন অধস্তনদের। বেশ খানিক পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ডিম নিয়ে ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা। এর পর কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে চলে যায় পুলিশ।