গত বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়ায়বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেতিনটি আসনে লড়াই করেছিল আইএসএফ। এ বারে তারা বামফ্রন্টের কাছে আরও তিনটি আসন দাবি করেছে। তবে, এ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ফয়সালা হয়নি।
কেন বাড়তি আসন দাবি?
আইএসএফের এক জেলা নেতা বলেন, ‘‘গত বারের তুলনায় এখন তাদের শক্তি বেড়েছে। কংগ্রেসও এ বারে জোটে নেই। সে কারণেই বাড়তি আসন দাবি করা হয়েছে।’’
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ উলুবেড়িয়া পূর্ব, জগৎবল্লভপুর এবং পাঁচলা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এ বারে তারা ওই তিনটির সঙ্গে সাঁকরাইল বা উলুবেড়িয়া উত্তরের মধ্যে একটি এবং আমতা ও বাগনান আস দু’টিও দাবি করেছে।
২০২১-এ আমতায় লড়াই করেছিল কংগ্রেস। সাঁকরাইল, বাগনান এবং উলুবেড়িয়া উত্তরে লড়াইকরেছিল সিপিএম। আইএসএফের হাওড়া জেলা কমিটির এক নেতার দাবি, সাঁকরাইল, উলুবেড়িয়া উত্তর এবং বাগনানে দলের শক্তি বেড়েছে। সাঁকরাইল এবং উলুবেড়িয়া উত্তরে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিভিন্ন পঞ্চায়েতে বেশ কিছু আসন পেয়েছে তারা। আমতা বিধানসভা কেন্দ্রে একটি পঞ্চায়েত তারা চালাচ্ছে কংগ্রেস এবং বামেদের সঙ্গে জোট করে। তাই আমতা-সহ তিনটি বাড়তি আসন দাবি করার ক্ষেত্রে তাঁরা অযৌক্তিক কিছু দেখছেন না বলে আইএসএফের ওই জেলা নেতা জানান।
তবে, গতবারে পাঁচলা আসনটি ফরওয়ার্ড ব্লকের হাত থেকে নিয়ে আইএসএফ-কে দেওয়া হয়েছিল। এ বারে ফরওয়ার্ড ব্লকও এই আসনটির দাবিদার বলে দলের রাজ্য কমিটি সূত্রের খবর। বিষয়টি মেনে নিয়ে আইএসএফের আর এক জেলা নেতা বলেন, ‘‘পাঁচলা নিয়ে কিছুটা জট তৈরি হয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক এই আসনটি ছাড়তে চাইছে না।’’
তবে, শুধু পাঁচলা নয়, সিপিএমের হাতে থাকা বাকি আসনগুলিও আইএসএফকে দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জেলা বামফ্রন্ট সূত্রের খবর। তবে, এ নিয়ে কোও পক্ষের কেউ বিশেষ মন্তব্য করতে চাননি। আইএসএফের জেলা আহ্বায়ক শেখ নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘‘বামফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকে আমরা আমাদের যুক্তি দিয়েছি। দলের রাজ্য নেতৃত্ব এবং রাজ্য বামফ্রন্ট নেতারা আলোচনা করছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন।’’ আসন রফা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক দিলীপ ঘোষ এবং ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা ফরিদ মোল্লা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)