জরিশিল্পীদের ক্ষোভ এবং জমি-মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য— পাঁচলা থেকে এই জোড়া কাঁটা পাঁচ বছরেও উপড়ে ফেলতে পারেনি তৃণমূল। প্রচার পর্বে এ নিয়ে সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। সাধারণ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা যে এ নিয়ে একেবারে ভাবছেন না, এমন নয়। তবে, তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক গুলশন মল্লিক আমল দিচ্ছেন না। তাঁর দাবি, ‘‘উন্নয়নমূলক কাজের জন্যই আমি রেকর্ড ভোটে জিতব।’’
হাওড়া জেলার মধ্যে পাঁচলা জরিশিল্পের আঁতুড়ঘর। প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ জরির কাজে জড়িত। কাজের সূত্রেই অন্তত ২৫ হাজার জরি কারিগর ভিন্ রাজ্যে থাকেন। জরি শিল্পী-কারিগরদের অনেকের অভিযোগ, এই শিল্পের উন্নতির জন্য কিছুই করেনি রাজ্য সরকার। এমনকি, পরিযায়ী জরিশিল্পীদের জন্যও নয়। পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের কোনও কার্যকলাপ পাঁচলায় চোখে পড়ে না।
অনেক দিন আগেই পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরার আবেদন করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে ফেরার পরে যতদিন না তাঁরা কাজ পাচ্ছেন, ততদিন মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মমতা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরেও সে ভাবে কোনও জরির কারিগর ফিরে আসেননি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
সারা ভারত জরিশিল্পী ও কারিগর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান মল্লিক বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড করেছে। তারাই পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরে এলে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সেই বোর্ডের কোনও কার্যকলাপ পাঁচলায় চোখে পড়েনি। তারা কোনও প্রচারও করেনি।’’ তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, ‘‘পরিযায়ী জরি কারিগরদের ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি।’’ তবে, দলেরই এক কর্মী মানছেন, ‘‘জরিশিল্পীদের ক্ষোভ প্রশমনে তেমন কিছু করা হয়নি।’’
জমি-মাফিয়াদের দৌরাত্য্ছ রুখতেই বা কী করা হল?— প্রশ্ন তুলছেন বিজেপি প্রার্থী রঞ্জন পাল। এখানে দিনের পর দিন শিল্পের নামে জমি কিনে বেআইনি ভাবে ভরাট করার প্রতিযোগিতা চলছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দ্রুত চাষের জমি কমছে। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী ফরিদ মোল্লার দাবি, ‘‘জমি-মাফিয়ারাই এখন পাঁচলায় রাজত্ব করছে। তাতে মদত আছে বিধায়কের।’’ গুলশন মদতের অভিযোগ উড়িয়ে দাবি করেন, ‘‘কারখানা করার নামে এক শ্রেণির দালাল যে ভাবে জমি কেনাবেচা করছে, আমরা তার প্রতিবাদ করি।’’
এই বিধানসভায় ২০২১ সালে তৃণমূল ৩৩ হাজার ভোটে জেতে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় তৃণমূলের এগিয়েছিল ৪৯ হাজার ভোটে। এখানকার ১৫টি পঞ্চায়েতই তৃণমূলের দখলে রয়েছে। পাঁচলা পঞ্চায়েত সমিতিও তাদের। সে দিক থেকে দেখতে গেলে সংখ্যালঘু প্রধান পাঁচলা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তবে, এ বার কংগ্রেসও ময়দানে নামায় সেই সংখ্যালঘু ভোট ভাগের আশঙ্কা করছেন বহু তৃণমূল কর্মী। তবে, কংগ্রেস এখনও সে ভাবে মাঠে নামেনি।
এলাকার সব শ্মশান ও কবরস্থানে আলো দেওয়া হয়েছে। বহু রাস্তা কংক্রিটের হয়েছে। উন্নয়নের আরও ফিরিস্তি দিয়ে গুলশন দাবি করছেন, ‘‘বিধানসভা জুড়েই উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘উন্নয়নমূলক কাজের জন্যই আমি জিতব। মুসলিম ভোট কোনও ব্যাপার নয়।’’
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপি প্রার্থী রঞ্জনও। তবে। দেরিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ায় এখানে বিজেপি প্রচারে নেমেছে দেরিতে। রঞ্জন প্রার্থী হওয়ায় নিয়ে দলের একাংশের অসন্তোষও রয়েছে। সে কথা উড়িয়ে দিয়ে রঞ্জনের দাবি, ‘‘আমরা পুরোদমে প্রচার করছি। সবাই একজোট।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)