এসআইআর-এর কাজের জন্য হাওড়া জেলা পরিষদের অধিকাংশ আধিকারিককে ডেকে নেওয়ায় ভোটের আগে গত চার মাস ধরে থমকে গিয়েছে রাজ্য সরকারের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প। কোনও দরপত্র পাশ না হওয়ায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় রাস্তাঘাট মেরামতি থেকে বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্পের কাজও আটকে গিয়েছে। তৃণমূল শাসিত হাওড়া জেলা পরিষদের কর্তাদের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এসআইআর করার জেরে উন্নয়ন নিয়ে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।
হাওড়া জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, এমনিতেই জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে কোনও কর্মী, অফিসার নিয়োগ করা হয়নি। শূন্য পদও প্রচুর। তার উপরে গত অক্টোবর মাস থেকে জেলা পরিষদে যে ১৫০ জন আধিকারিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে থেকে নির্বাচন কমিশন ৬০-৭০ জনকে এসআইআর-এর কাজে তুলে নেওয়ায় প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজকর্ম। যেমন, জেলা পরিষদের তিন জন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকের মধ্যে এক জন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক, যাঁর হাত দিয়ে জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজের অনেক ফাইল পাশ হয়, সেই আধিকারিককে উদয়নারায়ণপুরের ইআরও করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কাজ আটকে গিয়েছে।
হাওড়ার জেলা পরিষদ কর্তাদের অভিযোগ, হাওড়ার পঞ্চায়েতগুলি থেকেও অনেক আধিকারিককে নির্বাচনের কাজে সরিয়ে দেওয়ায় ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে কৃষকদের বীজ দেওয়ার মতো রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ কমিশন থেকে সরকারি প্রকল্পের বিভিন্ন টাকা আসতে দেরি হওয়ায় সেই কাজও গতি হারিয়েছে। প্রায় চার মাস পিছিয়ে গিয়েছে গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের কাজ।
হাওড়া জেলা পরিষদের মেন্টর তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জেলা পরিষদ থেকে আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের ডেকে নেওয়ায় পথশ্রী, আবাসন, বর্জ্য নিষ্কাশন, রক্ষণাবেক্ষণ, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে বীজ দেওয়ার মতো উন্নয়নমূলক কাজ গ্রামীণ এলাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’’ রাজীবের অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, হাওড়া জেলা পরিষদে দরপত্র প্রক্রিয়ায় সই করার মতো কোনও আধিকারিককে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি, কোনও কাজের জন্য বিল সই করার আধিকারিকও নেই।
এ বিষয়ে হাওড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তাপস মাইতির দাবি, ‘‘নির্বাচনের মুখে এসআইআর করায় গ্রামীণ উন্নয়ন মারাত্মক ভাবে থমকে গিয়েছে। ভোটের আগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এটি একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)