এলাকায় মদ বিক্রির প্রতিবাদ করতেন তাঁরা। এই অপরাধে হাওড়ার শ্যামপুরের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক গণেশ মণ্ডল এবং স্বপন মণ্ডল নামে এক গ্রামবাসীকে বছর ছয়েক আগে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেছিল মদ বিক্রেতা সমীর মণ্ডল। বুধবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন উলুবেড়িয়া এসিজেএম আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক শুভাশিস ঘোষ।
আজ, বৃহস্পতিবার দোষীর সাজা ঘোষণা হবে বলে জানান মামলার সরকারি আইনজীবী নিধুরাম নন্দী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীর ইছাপুর গ্রামে বেআইনি ভাবে দেশি মদ বিক্রি করত। ফলে, এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছিল। স্বপনবাবু এবং গণেশবাবু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। জনমত সংগ্রহ করতে শুরু করেন তাঁরা। এতেই চটে যায় সমীর।
২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর স্বপনবাবু এবং গণেশবাবু যখন ইছাপুর মোহিনী মোড়ে একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন, তখন কাটারি হাতে হাজির হয়ে সমীর তাঁদের ঝাঁপিয়ে পড়ে। দু’জনকেই কোপাতে থাকে। স্থানীয়েরা দু’জনকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের ১১ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই রাতেই সমীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩২৬ এবং ৩০৭ ধারায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
বিচারক দোষী সাব্যস্ত করার পরে পুলিশ সমীরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।