×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ মে ২০২১ ই-পেপার

অস্ত্র-সহ ধৃত বিজেপি নেতার গাড়ি-চালক

নিজস্ব সংবাদদাতা
চুঁচুড়া ০৬ অগস্ট ২০১৯ ০২:০৩
ধৃত: পুলিশের গাড়িতে বরুণ। —ছবি: তাপস ঘোষ

ধৃত: পুলিশের গাড়িতে বরুণ। —ছবি: তাপস ঘোষ

অস্ত্র-সহ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার রাতে চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগর থেকে তাকে ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতের নাম বরুণ দাস। তার কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও তিনটি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ধৃত বরুণ পুলিশকে জানিয়েছে, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি (সদর) সুবীর নাগের গাড়ি চালায় সে। তবে বরুণকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা।

এ দিন রাতে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার হুমায়ুন কবীর বিশাল বাহিনী ও ড্রোন ক্যামেরা নিয়ে চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগরে তল্লাশি চালান। চল্লাশি চলকালীন স্থানীয় একটি ক্লাব থেকে বরুণকে ধরেন চুঁচুড়ার আইসি অরিজিৎ দাশগুপ্ত। পুলিশ এসেছে বুঝতে পেরে আগ্নেয়াস্ত্র ফেলে রেখেই পালানোর চেষ্টা করে সে। কিন্তু পুলিশ ক্লাবটি বাইরে থেকে ঘিরে রাখায় ধরা পড়ে যায়। বরুণের এক সঙ্গীকেও ধরে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি খুন-সহ নানা সমাজবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে বরুণের বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে মাধব শর্মা নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। গ্রেফতারও হয়। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর জামিন পায়। ২০১২ সালে প্রদীপ বসু নামে এক দুষ্কৃতী খুনে ফের নাম জড়ায় বরুণের।

দিন কয়েক আগে চুঁচুড়া রবীন্দ্রনগর এলাকার ত্রাস টোটনের ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। ভোর রাতে তল্লাশি চালাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, গুলি ছোড়া হয়। কয়েক’শো নারী-পুরুষ বেরিয়ে সে দিন পুলিশকে আক্রমণ করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় চুঁচুড়া ও হুগলি স্টেশন রোড। টায়ারে আগুন ধরিয়ে পুলিশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরের একাংশ সেদিন কার্যত বনধের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ও রবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। দুষ্কৃতী ধরতেই পুলিশ এ দিন রাতে ফের অভিযানে নামে। স্থানীয় ক্লাব, পার্টি অফিসগুলিতে নজরদারি চালানো হয়। সেই সময়ই পুলিশের জালে পড়ে বরুণ।

Advertisement

বরুণকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা সুবীর নাগ। তিনি বলেন, ‘‘আমি দলের দেওয়া গাড়িতে চড়ি। ওই নামের কাউকে চিনতে পারছি না। ঘটনার কথাও জানি না। খোঁজ নেব।’’ এ দিন চুঁচুড়ায় সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার অবশ্য বলেন, ‘‘প্রয়োজনে পুলিশ ওই নেতার সঙ্গে কথা বলবে।’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, ‘‘বিজেপি নেতারা কাদের সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন, তা এই ঘটনাতেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল।’’

Advertisement