Advertisement
E-Paper

চার হাজার টাকার বিনিময়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা বিএলওর! অডিয়ো রেকর্ডিং ঘিরে চাঞ্চল্য নকশালবাড়িতে

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভার নকশালবাড়ির তোতারাম জোতের মাদ্রাসা বস্তির বাসিন্দা মহম্মদ সাদ্দাম হোসেন। কর্মসূত্রে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে থাকেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৫৩
মহম্মদ সাদ্দাম হোসেন।

মহম্মদ সাদ্দাম হোসেন। — নিজস্ব চিত্র।

শুনাতিতে নাম উঠেছিল। ভিন্‌রাজ্যে থাকার কারণে বিএলওর সঙ্গে যোগাযোগ করতেই মাথায় হাত। চার হাজার টাকার বিনিময়ে ভোটার তালিকায় নাম থাকার নিশ্চয়তা দেন বিএলও। প্রকাশ্যে এল সেই কথোপোকথনের অডিয়ো রেকর্ডিং (যদিও এই অডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভার নকশালবাড়ির তোতারাম জোতের মাদ্রাসা বস্তির বাসিন্দা মহম্মদ সাদ্দাম হোসেন। কর্মসূত্রে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। সেখানেই বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন সাদ্দাম। তবে তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের বসবাস নকশালবাড়িতেই। এসআইআরের শুনানিতে ডাক পড়ে সাদ্দামের৷ তাঁর পরিবারের প্রায় ১২ জনের কোনও সমস্যা না হলেও শুনানির চিঠি পান সাদ্দাম।

গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে নোটিস যায় শুনানির। সেই মতো পরিবার সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে মঙ্গলবার শুনানিতে যেতে হবে সে কথাও জানানো হয়। কিন্তু ভিন্‌রাজ্যের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যেরা শুনানিতে উপস্থিত হলেও নাম নথিভুক্ত হবে। এমন নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের থাকলেও, সাদ্দাম তাঁর বিএলও কাঞ্চন লিম্বুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেন।

সেখানেই বাধে গোলযোগ। সাদ্দামের অভিযোগ, কাঞ্চন তাঁর কাছে নাম তুলে দেওয়ার জন্য চার হাজার টাকা দাবি করেন। ফোনে কাঞ্চন তাঁকে আরও জানান, বেঙ্গালুরু থেকে আসবার প্রয়োজন নেই সাদ্দামের। পরিবারের এক জনকে সঙ্গে নিয়ে শুনানিতে কাঞ্চন চলে যাবেন। অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে তাঁর ও কাঞ্চনের ফোনের বার্তালাপের রেকর্ডিং রয়েছে বলে দাবি সাদ্দামের৷ সেই রেকর্ডিংয়ে শোনা যাচ্ছে, সাদ্দাম ও কাঞ্চনের মধ্যে চার হাজার টাকা নিয়ে দড় কষাকষি চলছে। কাঞ্চন তাঁকে আশ্বস্ত করছেন, এসডিও অফিসের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তিনি সাদ্দামের নাম তুলে দেবেন, কিন্তু তার বদলে চাই চার হাজার টাকা! তার কম হবে না।

অন্য দিকে, বিএলওর উপর আস্থা হারিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে নকশালবাড়িতে ফিরে আসেন সাদ্দাম। তিনি শুনানিতেও পৌঁছোন। শুনানি পর্ব শেষে তিনি বলেন , “যেখানে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম রয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক বা যাঁরা ভিন্‌রাজ্যে কর্মরত তাদের পরিবারের কোনও সদস্য নথি নিয়ে শুনানিতে পৌঁছোলেই হবে, সেখানে বিএলও চার হাজার টাকার দাবি করেন। পরিবার ছেড়ে বিমান ভাড়া দিয়ে এসেছি৷ এটা অনৈতিক কাজ হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিত।”

তবে বিএলও স্পষ্ট জনিয়ে দেন তাঁর সঙ্গে সাদ্দামের কোন কথাই হয়নি৷ তিনি তাঁকে চেনেন না। তিনি বলেন, “ওঁর নামে শুনানির নোটিস এসেছিল। সেটা ওঁর বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। তাঁকে আমি চিনিও না। এগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।”

অন্য দিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে নকশালবাড়ি বিডিও প্রণব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।” মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ বলেন, “এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।” দার্জিলিং জেলা তৃণমূল (সমতল) কোর কমিটির সদস্য পাপিয়া ঘোষ বলেন, “একজন বিএলও কখনও এই ধরনের অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এসআইআরের কাজের জন্য তাঁরা সরকারি অর্থ পান। এই রকম ঘটনা ঘটে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত।”

Special Intensive Revision BLO naxalbari
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy