×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

টাকা চাইতে গিয়ে ‘খুন’, আটক দুই

নিজস্ব সংবাদদাতা
উলুবেড়িয়া ১১ জানুয়ারি ২০২১ ০২:১২
মৃত সাহাবুদ্দিন কাজি।

মৃত সাহাবুদ্দিন কাজি।

অর্থলগ্নি সংস্থায় জমানো আমানত চাইতে গিয়ে এজেন্ট-এর পরিবারের সদস্যদের মারে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। শনিবার ঘটনাটি ঘটে উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইলের কাছে কাজিপাড়ায়। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম সাহাবুদ্দিন কাজি (৪৬)। পুলিশ দুই মহিলাকে আটক করেছে। ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজিপাড়ার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন কাজি ওই এলাকারই ইজাজুল কাজির কাছে ১৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। ইজাজুল একটি অর্থলগ্নি সংস্থার এজেন্ট। সেই সংস্থায় ১৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন সাহাবুদ্দিন। অভিযোগ, সংস্থাটি বন্ধ হয়ে গেলে টাকা ইজাজুলের থেকে টাকা ফেরত চান সাহাবুদ্দিন।

আগামী ২৬ জানুয়ারি সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকায় শনিবার বিকালে টাকা ফেরত চাইতে ইজাজুলের বাড়িতে যান সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী পাকিজা। অভিযোগ, ইজাজুল ও তার পরিবারের লোকজন পাকিজাকে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়।

Advertisement

বাড়ি ফিরে সাহাবুদ্দিনকে সেই কতা জানান তাঁর স্ত্রী। এরপর ইজাজুলের বাড়িতে যান সাহাবুদ্দিন, তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে সারিকা। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। অভিযোগ, ইজাজুলের বাড়ির লোকজন মারধর করে সাহাবুদ্দিনকে।

ওউ ঘটনার পরে বাড়ি ফিরে আসছিলেন সাহাবুদ্দিন। পথে দেখা হয় ইজাজুলের বাবার সঙ্গে। বিবাদ মিটমাট করিয়ে দেওয়ার কথা বলে আবার সাহাবুদ্দিনকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান ইজাজুলের বাবা। অভিযোগ, ফের সেখানে সাহাবুদ্দিনকে মারধর করে ইজাজুলের বাড়ির লোকজন। অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তারপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ইজাজুল, তার বাবা ও দাদা। প্রতিবেশীরা সাহাবুদ্দিনকে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। পুলিশ সূত্রে খবর, ইজাজুলের দুই বোনকে আটক করা হয়েছে। দেহটি ময়না-তদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

রবিবার সাহাবুদ্দিনের মেজো মেয়ে সারিকা বলেন, ‘‘২৬‌ জানুয়ারি দিদির আশীর্বাদের অনুষ্ঠান ছিল। তাই বাবা, আমি টাকা চাইতে ইজাজুলদের বাড়ি গিয়েছিলাম। ওরা আমাদের মারধর করে। গালিগালাজও দেয়। ফিরে আসার পথে ইজাজুলের বাবার সঙ্গে দেখা হয়। সে বাবাকে আবার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানেই ওরা বাবাকে খুন করে।’’

Advertisement