×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

নাম জড়াল তৃণমূল কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামীর

ফুটবলারের মৃত্যুতে খুনের মামলা রুজু

নিজস্ব সংবাদদাতা
শ্রীরামপুর ০৩ অক্টোবর ২০১৭ ০১:৩৪
মোমবাতির আলোয় স্নেহাশিস দাশগুপ্ত স্মরণ।

মোমবাতির আলোয় স্নেহাশিস দাশগুপ্ত স্মরণ।

এলাকার তরুণ ফুটবলারের অপমৃত্যুতে খুনের অভিযোগ দায়ের হল শ্রীরামপুর থানায়। নাম জড়াল এক তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁর স্বামী-সহ পাঁচ জনের।

স্নেহাশিস দাশগুপ্ত ওরফে রাজা নামে পোর্ট ট্রাস্টের ওই গোলরক্ষক শ্রীরামপুরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুকুর গভর্নমেন্ট কোয়ার্টারের বাসিন্দা ছিলেন। দশমীর ভোরে তাঁর দ্বিখণ্ডিত দেহ মেলে শ্রীরামপুর মাল গুদামের সামনে ডাউন রিভার্স লাইন থেকে। দেহের ঊর্ধ্বাংশ অন্তত ৩০ ফুট দূরে পড়েছিল। রেল পুলিশের ধারণা, রাজা আত্মঘাতী হন।

কিন্তু সোমবার রাজার বাবা দোলনবাবু এবং মা রিঙ্কুদেবী শেওড়াফুলি জিআরপি-র কাছে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী নাগ, তাঁর স্বামী তথা তৃণমূলের পশ্চিম রেলপাড় কমিটির সভাপতি পিন্টু ন‌াগ, মৌসুমীদেবীর আত্মীয় রিঙ্কু সাহা এবং পিন্টুবাবুর দুই শাগরেদ প্রতাপ ওরফে বড় ভাই এবং রঞ্জন সাহার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। রেল পুলিশ জানায়, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে খুন, তথ্যপ্রমাণ লোপ এবং সমবেত ভাবে দুষ্কর্মের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

কেন ওই অভিযোগ?

রাজার মা রিঙ্কুদেবী বলেন, ‘‘নবমীর রাতে মোটরবাইকে বসা নিয়ে পিন্টু নাগের শ্যালক রিন্টুর সঙ্গে ছেলের ঝগড়াঝাঁটি হয়। ওরা অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিল। কিন্তু রাত আড়াইটে নাগাদ পিন্টু ও তাঁর স্ত্রী লোকলস্কর নিয়ে বাড়িতে এসে ছেলেকে বেধড়ক পেটায়। ছেলে বাড়িতে একাই ছিল। আমাদের ধারণা, ছেলের মৃত্যুর পিছনে ওঁদেরই হাত রয়েছে।’’ দোলনবাবু জানান, হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ব্যাপারে আবেদন জানাতে চান।

রাজার দেহ উদ্ধারের পর তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে জিআরপি-তে যাওয়া, ময়নাতদন্তের সময় হাসপাতালে বা পরে শ্মশানে— সব জায়গাতেই পিন্টুবাবু হাজির ছিলেন। রাজাকে মারধরের অভিযোগ তিনি মানেননি। তাঁর দাবি, ‘‘বন্ধুদের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। বিষয়টা শুনে রাজাকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসি। রিন্টুকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এর বেশি কিছু হয়নি। তদন্তেই সত্যাসত্য বেরিয়ে আসবে।’’ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মৌসুমীদেবীও।

নবমীর রাত ৩টে ৫৩ মিনিটে স্নেহাশিসের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করা হয়। তাতে লেখা হয়— ‘আসি সবাই। আর থাকতে মন করছে না এই সমাজে। এই যুগে ভাল‌বাসা বলে কিছু হয় না। সবাই স্বার্থপর। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। তদন্তকারী অফিসারদের বক্তব্য, ওই পোস্ট এবং রেললাইনে দেহের অবস্থান দেখে তাঁদের ধারণা, রাজা আত্মঘাতী হন। তবে, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোটা ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার সিপিএম, বিজেপি এবং তৃণমূল নেতারা রাজার বাড়িতে যান। তদন্তের দাবিতে এলাকার লোকজ‌ন‌ তাঁদের কাছে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দুপুরে ওই বাড়িতে যান বিজেপি নেতা, পোর্ট ট্রাস্টের ট্রাস্টি সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পোর্ট ট্রাস্টের তরফে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও রাজার পরিবার তা ফিরিয়ে দেয় বলে জানান জয়। তিনি বলেন, ‘‘এটা ঠান্ডা মাথায় খুন। দোষী কোনও দলের হলেও যেন ছাড়া না পায়। তৃণমূল কাউন্সিলররাও সেই কথাই বলছেন।’’ তৃণমূল কাউন্সিলর উত্তম রায় বলেন, ‘‘আমরা রাজার পরিবারের পাশে রয়েছি। তদন্তে হস্তক্ষেপের প্রশ্নই নেই। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সাজা হবে।’’

রাজার বাড়িতে যান ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র প্রতিনিধিরাও। সংগঠনের সম্পাদক চঞ্চল চক্রবর্তীও মনে করছেন, ঘটনার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র এবং তাতে রাজনীতির লোকেরা জড়িত রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘‘রাজার জ্যাঠামশাইকে দিয়ে সাদা কাগজে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে লিখিয়ে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের আগে কী করে দুর্ঘটনা বলা হল?’’ ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে সন্ধ্যায় এলাকায় মোমবাতি মিছিল হয়।



Tags:
Snehasish Dasgupta Footballer Goalkeeper FIR TMC TMC Leaders Hooghly Unnatural Deathস্নেহাশিস দাশগুপ্তশ্রীরামপুর

Advertisement