খোলা জানলা দিয়ে এক স্কুলছাত্রীর গায়ে অ্যাসিড ঢেলে পালানোর অভিযোগ এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে হুগলির হরিপালে। পুলিশ জানায়, ধৃতের নাম সেখ আজহার। তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, মেয়েটি তার প্রেমের আবেদনে সাড়া না দেওয়াতেই যুবকটি আক্রোশবশত ওই কাণ্ড ঘটায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর সতেরোর ওই তরুণীর বাড়ি হরিপালের নারায়ণপুর-বাহিরখণ্ড পঞ্চায়েতের দূল্য গ্রামে। আজহারও একই গ্রামের বাসিন্দা। মেয়েটি তারকেশ্বরের একটি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। মঙ্গলবার রাতে সে ঘরে ঘুমিয়েছিল। গরমের জন্য জানলা খোলা ছিল। অভিযোগ, রাত ২টো নাগাদ আজহার জানলা দিয়ে তার গায়ে অ্যাসিড ছুঁড়ে দেয়। অ্যাসিডে মেয়েটির কিছুটা অংশ পুড়ে যায়। যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে সে। যুবকটি পালায়।
জখম তরুণীকে হরিপাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই যুবকের বিরুদ্ধে হরিপাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মেয়েটি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন হরিপাল থানার ওসি বঙ্কিম বিশ্বাস। পুলিশের কাছে ওই তরুণী জানিয়েছেন, বেশ কিছু দিন ধরেই আখতার পথেঘাটে তাকে উত্যক্ত করত। একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছে। কিন্তু সে ওই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। সেই কারণেই তাঁর উপরে ওই যুবকের আক্রোশ জন্মায়। তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার জানান, ছেলেটি কাপড় কাচা-ধোওয়ার কাজ করে। সেখান থেকেই সে অ্যাসিড পেল, না কি অন্য কোথাও থেকে জোগাড় করল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই পুলিশ অফিসার বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আদালতে পাঠানো হবে।’’ মেয়েটির বাড়ির লোকেরা জানান, তার আঘাত গুরুতর নয়।
গত কয়েক মাসে হুগলিতে মহিলাদের উপর অ্যাসিড হানার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটল। মাস কয়েক আগে সিঙ্গুরের দিয়ারায় এক তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা হয়েছিল। অ্যাসিডে ওই কিশোরীর মুখ পুড়ে যায়। দু’টি চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার কিনারা করতে পুলিশ ব্যর্থ বলে অভিযোগ। তার আগে রিষড়ায় এক মহিলার বাপের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ির পড়শি এক যুবক অ্যাসিড ছোড়ে বলে অভিযোগ।